ফেসবুক বন্ধ, মুখ থুবড়ে পড়েছে মানবিক কার্যক্রম - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

ফেসবুক বন্ধ, মুখ থুবড়ে পড়েছে মানবিক কার্যক্রম

প্রকাশিত :০৩.১২.২০১৫, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক: ঘটনা-১
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক পাস করেছেন রাশেদ বাপ্পী। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিয়মিত রক্ত দান করেন তিনি। কারো জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন হলে ছুটে যান। প্রথম প্রথম বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে রক্তদান করলেও পরবর্তী সময়ে নিজেই ছুটে গেছেন প্রয়োজন অনুযায়ী। ফেসবুকে ইভেন্ট থেকে, বিভিন্ন আবেদনে, কিংবা কোনো বন্ধুর শেয়ার করা সাহায্য আবেদন দেখে রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে ছুটে গেছেন সাহয্য করতে। facebook_icon_wall_e_by_wall_e_ps

রক্তের জন্য এমন সাহায্যের আবেদন নিয়মিতই দেখা যায়। স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে কোনো মুমূর্ষু রোগীর বার্তা এভাবে সহজেই পৌঁছে দিত ফেসবুক বন্ধুরা। তবে এখন চিত্র ভিন্ন। ফেসবুক বন্ধ থাকায় আগের মতো সাড়া মিলছে না এমন সামাজিক কার্যক্রমে।

ঘটনা -২
ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর জন্য ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন বন্ধু ও সহপাঠীরা। তাঁদের উদেশ্য ছিল এই আবেদন যেন খুব দ্রুত পৌঁছে যেতে থাকে মানুষের কাছে। তাতে হয়তো বন্ধুটির চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজটা আরেকটু সহজ হবে। কিন্তু তাদের কার্যক্রম শুরুর কয়েকদিনের মাথায় বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে দেয় সরকার। স্বভাবতই এর প্রভাব পড়ে এখানেও।

ঘটনা ৩ :
শীতের আগমনী বার্তা শুরু হলেই ছিন্নমূল দরিদ্রের জন্য শীতবস্ত্র সংগ্রহের কাজ করেন ‘প্রগতির পরিব্রাজক দল’(প্রপদ) । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক এই সংগঠন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্ধু স্বজনসহ মানুষের কাছ থেকে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে ছিন্নমূল অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করে। এই শীতবস্ত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছর ধরে মাঠের কার্যক্রমের পাশাপাশি ফেসবুকের মাধ্যমেও বস্ত্র সংগ্রহের প্রচারণা চালাত। সাড়াও মিলত। অনেকে আবার স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার আগ্রহ দেখাতেন। তবে এবার শীতবন্ত্র সংগ্রহের অভিযান যখন শুরু হয়েছে তখন ফেসবুক বন্ধ। ফলে নিজেদের মতো করে এই সাহায্য আবেদনের বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সংগঠনটি।

‘নিরাপত্তার’ কারণে গত ১৮ নভেম্বর থেকে দেশে সাময়িকভাবে ফেসবুক, ভাইবারসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ১৫ দিন ধরে এই মাধ্যমগুলো বন্ধ আছে। কিন্তু এতে ভার্চুয়াল জগতের শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোই বন্ধ নেই, থমকে আছে মুহূর্তে ছড়িয়েপড়া এসব সাহায্যের আবেদন এবং সামাজিক কার্যক্রমও । জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত মানুষ যে বার্তাগুলো পৌঁছে দিতে পারত অন্যদের কাছে তাও বন্ধ আছে।

ফেসবুক ঘিরে বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সেবা মূলক কার্যক্রম গড়ে উঠেছিল। এসব স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে তরুণরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহ, চিকিৎসা তহবিল গঠন, বিভিন্ন দুর্যোগে সেবামূলক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী ও সাহায্য সংগ্রহসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম প্রসারের ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ফেসবুক। কিন্তু সরকারিভাবে ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায় এসব কার্যক্রম প্রায় বন্ধ আছে এখন।

এ নিয়ে অনেক স্বেচ্ছাসেবীদের মাঝে অভিযোগ-অনুযোগের পাশাপাশি রয়েছে আক্ষেপও । এক্টিভিস্ট ও স্বেচ্ছাসেবী শামীম আরা নীপা এবারও নেমেছেন শীতবস্ত্র সংগ্রহে। এই শীতবস্ত্র সংগ্রহের ব্যাপকতার জন্য যে ধরনের প্রচার অভিযান চালানোর প্রয়োজন তা ঠিক ভাবে করতে না পেরে লিখেছেন ‘ফেইসবুক বন্ধ হওয়ায় শীতার্ত মানুষগুলো বঞ্চিত হচ্ছে কোনো না কোনোভাবে…! ১০ তারিখ যাব আমরা ইনশাআল্লাহ্ কিন্তু জানি না সেখানকার শীতার্ত মানুষের সবাইকে সাহায্য করতে পারব কি না। তারপরও আশা রাখি যথাসাধ্য সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার।’

স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা রাশেদ বাপ্পী বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে রক্তদানের ক্ষেত্রে অনেক উদাহরণই আপনি পাবেন। আমি নিজেও এমন পোস্ট দেখে গিয়ে রক্ত দিয়েছি। তবে ফেসবুক বন্ধ থাকলে তো আর মানুষ সেভাবে তাদের কথা এত সহজে জানাতে পারবে না। ফলে এসব জরুরি মুহূর্তে অনেকেই বিপদে পড়বে।’

বিকল্প উপায়ে অনেকে ফেসবুকে প্রবেশ করলেও আগের মতো সক্রিয় থাকছে না। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের জন্য গড়ে ওঠা ফেসবুক গ্রুপ পেজগুলোও আগের চেয়ে অনেক কম সক্রিয়। সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছে। ফলে সামাজিক কার্যক্রমগুলো একপ্রকার থেমেই আছে। এনটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published.