‘নাকে গ্যাস লাগতেই অজ্ঞান হয়ে যাই’ | Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

‘নাকে গ্যাস লাগতেই অজ্ঞান হয়ে যাই’

প্রকাশিত :২৪.০৮.২০১৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক:বিভীষিকাময় সে রাতটি এখনও চোখের সামনে ভাসছে আনসার সদস্য মো. রিয়াদ হোসেনের। গত সোমবার রাতে তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান ফটকের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। রিয়াদ বললেন, ‘প্রতিদিনের মতোই দায়িত্ব পালন করছিলাম। কোথা থেকে গ্যাস আসছে, কেন চোখেমুখে এমন জ্বালাপোড়া করছে, তা বুঝে ওঠার আগেই অজ্ঞান হয়ে যাই। ভোর রাতে জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি।’ হাসপাতালের বেডে শুয়ে এমন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকা ৪৩ রোগীর প্রায় সবাই।

ঘড়ির কাঁটায় রাত ১০টা ১০ মিনিট। রিয়াদের মতো বিমানবন্দরে দায়িত্ব শেষ করে নিজ কক্ষে ফেরেন আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের সদস্য আল আমীন। নিজ কক্ষে রান্নার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাতাসে ভেসে আসা বিষাক্ত গ্যাসের গন্ধ তার নাকে ধাক্কা দেয়। এতে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। পরে চোখের সামনে ভাসতে থাকে কুয়াশার মতো গ্যাসের আবরণ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন আল আমীনও। গতকাল মঙ্গলবার চমেক হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে তিনি এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন।

কর্ণফুলী নদীর ওপারে থাকা ডিএপি কারখানার প্ল্যান্ট থেকে বিস্ফোরিত

গ্যাস নগরীর বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড, হালিশহরসহ আশপাশের ৫০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গ্যাসের বিষক্রিয়ায় এসব এলাকার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর গ্যাস বিষক্রিয়ায় অসুস্থ ৫৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল তাদের মধ্যে ৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা আহতদের সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থতার দিকে গেলেও এখনও গ্যাসের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কাফকোতে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য আনোয়ার হোসেনের। গতকাল দুপুরে মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই দুই চোখে জ্বালাতন করছে। চোখে হাত দিলে পানির সঙ্গে তেলজাতীয় পদার্থ বের হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু খেতে পারছি না; বমি হচ্ছে। শরীরে এক ধরনের অস্বস্তি অনুভব করছি।’ প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন রাতে কর্মস্থল নগরীর বহদ্দারহাট থেকে পতেঙ্গায় বাড়িতে ফিরছিলেন মো. মনির। রাতে গাড়ি থেকে নেমে বাসায় ফেরার সময় গ্যাস বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। পরে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে পথচারীরা প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ও পরে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মনির বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেখি চারপাশে কেবল কুয়াশা আর কুয়াশা। পরে নাকে আসে এক ধরনের গন্ধ। এরপর কিছু বুঝি ওঠার আগেই রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ি।’ সেই রাতের ঘটনা এখনও ভুলতে পারছেন না চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মামুনুর রশিদ, মো. বেল্লাল, শামসুল ইসলাম, ইমন চৌধুরী, মো. সুজন, বুলবুল, পুলিশ ও আনসার সদস্য শহিদুল্লা, সালামত, মোস্তফা, ইয়াসিন, আশরাফুলসহ অনেকে।

চিকিৎসকরা জানান, গ্যাসের বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের সবাই আশঙ্কামুক্ত। ঘটনার দিন ভোর রাতে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে এখনও চিকিৎসাধীন। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আহতদের কয়েকজনের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কয়েকজনের বমিও হচ্ছে। তবে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তারা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকরা।