nari-514x550

আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না : আয়শা খানম

প্রকাশিত :২০.০৯.২০১৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

নাসিমুজ্জামান সুমন : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেছেন, ইভটিজিংকে আমরা যৌন হয়রানি হিসেবেই বিবেচনা করি। ইভটিজিংয়ের প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় একসময় আইন তৈরি হলো, প্রচারণা হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি তৈরিসহ নানা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হত্যা এবং যৌন হয়রানিমূলক অপরাধগুলো ঘটার কারণ হচ্ছে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া। দায়বদ্ধতা, ক্ষিপ্রতা, আন্তরিকতা এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতার পাশাপাশি আমাদের নাগরিক ও সামাজিক আন্দোলন, সামাজিক প্রতিরোধ কার্যক্রম আরো জোড়ালো হওয়া দরকার।

ঢাকার উইলস লিটলস ফ্লাওয়ার স্কুলের পর এবার মাদারীপুরে নবম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গত ১৮ আগষ্ট স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী ওই গ্রামেরই মিলন মন্ডল নামের এক যুবক। বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে ইভটিজিং বন্ধে আইন তৈরির পাশাপাশি ব্যাপক প্রচারণা হয়েছিলো। তারপরেও এ ধরণের ঘটনা বারবার কীভাবে ঘটছে?

তিন বলেন, পরোক্ষভাবে হলেও কোন না কোনভাবে সমাজ-রাষ্ট্রের ভেতরে এখন পর্যন্ত অপরাধীরা একটি ম্যাসেজ (অভয়) পাচ্ছে যে, কোন না কোনভাবে অপরাধের শস্তি থেকে পার পাওয়া সম্ভব। যা আমাদের এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দয়বদ্ধহীনতার পরিচয়।

আইনের কঠোর প্রয়োগ না হওয়ায় ফলে আপরাধীরাও কি শাস্তির আওতায় আসছেনা?

তিনি বলেন, দুঃখের সাথে বলতে হয়, মিতু হত্যার ঘটনায়, তনু হত্যা ঘটনায় আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে তনুর মায়ের পাশাপাশি নাগরিক সামাজের যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক আন্তরিকতাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের, আমাদের প্রত্যেকের আরো বেশি দায়বদ্ধ আচরণ করা দরকার। তবেই অপরাধীদের শস্তির আওতায় নেওয়া সম্ভব।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশেষ কোন সামাজিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে কী?

তিনি বলেন, ‘কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। যেমন উইলস লিটলস ফ্লাওয়ার স্কুলের ঘটনায় স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবাদে এগিয়ে এসেছে। যদিও প্রতিরোধ বলয় গড়ে ওঠা উচিৎ ঘটনার ঘটার আগে কিন্তু সেটি হচ্ছে ঘটনার ঘটার পর। অন্যদিকে পরিবারে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনাগুলো দেখলে বোঝা যায় এর সাথে কেবল তরুণরা সংশ্লিষ্ট তা নয় বরং পরিণত বয়স্ক পুরুষরাও আছে। আমার মনে হয় শুধুমাত্র তরুণ সমাজ নয় বরং পুরুষ সমাজকে আরো বেশি সংবেদনশীল হওয়া উচিৎ। নীতি নির্ধারক, প্রশাসনসহ আমরা কেউই আমাদের দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারি না।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।