টঙ্গীতে নির্মানাধীন সিডিএল প্রকল্প।

টঙ্গীতে সিডিএল মার্কেট ১০ বছরেও হস্তান্তর হয়নি

প্রকাশিত :০১.০৩.২০১৭, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নিরাপদ বাসস্থানের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা যেমন পালন করছে ডেভেলপার কোম্পানিগুলো ঠিক তেমনি মানুষের হয়রানি করতেও জুড়ি নেই তাদের। বড় বড় বিল্ডারস বা ডেভেলপারেরাও কথা রাখতে পারছে না, অনেক কে প্রতারণা করতেও দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকার ২০১০ সালে ‘রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন’ প্রণয়ন করে। এ আইনে ৩৯টি ধারা ও বহু উপধারা রয়েছে। তবে সেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অবস্থায় নেই অধিকাংশ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। কারণ, ওই আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে কত সময়ের মধ্যে ক্রেতাদের তা হস্তান্তর করতে হবে।

ডেভেলপারদের প্লট কিংবা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়ার ২০১০ আইন নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই ধারাবাহিকতায় টঙ্গীতে প্রায় এক যুগ আগে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে ক্যাপিটা ক্যাপিটাল্যান্ড ডেভলপমেন্ট (সিডিএল)। ২০০৫ সালে ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের দুইটি ফ্লোরে প্রায় ছয়শ দোকানের পজিশন বিক্রি করা হয়। ২০০৯ সালের মধ্যেই দোকানের দখল বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু চার বছরের বদলে ১১ বছরেও ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এখনো দোকানের দখল বুঝে পাননি ক্রেতারা। কালক্ষেপণের বৃত্তে ঘুরপাক করা ওই প্রকল্পে দোকান পাওয়া নিয়ে সংশয়ও বাড়ছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাজধানীর অদূরে টঙ্গী ওভারব্রিজের পাশে ছয়তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক বাণিজ্যিক ভবন গড়ে তুলছে সিডিএল। প্রায় সাড়ে ছয় জমির ওপর গড়ে ওঠা ‘ক্যাপিটা টাইমস স্কয়ার’ নামের ওই প্রকল্পে নিচ ও প্রথম তলায় ৩৫০ থেকে ৫০০ বর্গফুটের প্রায় এক হাজার দোকান থাকছে। যার মধ্যে ২০০৬ সাল থেকে অদ্যবধি প্রায় ছয়শ দোকানের পজিশন বিক্রি করা হয়েছে। শুরুতে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার হাজারে সীমাবদ্ধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রতি বর্গফুটের দাম পড়েছে গড়ে সাড়ে নয় থেকে ১০ হাজার টাকা। তিন বছর মেয়াদে দোকানের মূল্য পরিশোধের পর ২০০৯ সালের মধ্যেই দখল ক্রেতাদের বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো।

এরপর থেকে দফায় দফায় সময় বাড়ছে। প্রতিশ্রুত সময়ের ছয় বছরেও ওই ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছয়তলা ভবনের পাঁচ তলা পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। ৬ষ্ঠ তলার আংশিক ছাদ ঢালাইয়ের কাজও এখনো বাকি। দ্রুতগতিতে কাজ করলেও ওই দুইটি ফ্লোরকে ব্যবসার জন্য উপযোগী করে তুলতে আরো এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে জানিয়েছেন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র।

তারপরও আলাপকালে চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই বিক্রি করা দোকানের দখল বুঝিয়ে দেয়া হবে- বলে জানিয়েছে সিডিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। প্রকল্পের ধরন বদল, বাড়তি অর্থের জোগান, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জটিলতার কারণেই কালক্ষেপণ হচ্ছে- বলেও দাবি করা হয়েছে।
আলাপকালে ‘হ’ আদ্যক্ষরের একজন পজিশন ক্রেতা বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে ওই ভবনে পজিশন কিনেছি। সর্বশেষ ২০১০ সালের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে পজেশন বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে শুধু ঘুরছি। দিচ্ছি-দেব করে সময় কাটানো হচ্ছে। এখনো কাজই শেষ হয়নি। বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আটকে গেছি।’
ভুক্তভোগী ক্রেতাদের দেয়া তথ্যমতে, ছয়-সাত বছর ধরেই প্রায় ছয়শ দোকানের মালিকরা নির্মাণাধীন ওই ভবনের দোকানের জন্য সিডিএলের দায়িত্বশীলদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। কাজ শেষ না হওয়ার জন্য বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। কিন্তু বিনিয়োগ করা অর্থ কিংবা দোকানের পজেশনের আশায় কেউ-ই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এর আগে একজন ক্রেতারা পাওনা আদায়ের জন্য মামলা করেছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে জমা দেয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

সিডিএলের এজিএম একরামুল হাসান বলছেন, ‘বড় ধরণের প্রকল্পে সময় লাগবে। এটাই আমরা গ্রাহকদের চলতি বছরের জুনের মধ্যে দোকান বুঝিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নিচের দুইটি ফ্লোরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। গ্লাস লাগানোর কাজ শুরু হচ্ছে। ভবনের জন্য জেনারেটর ও এক্সেলেটর আমদানি হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা দোকানের পজেশন বুঝিয়ে দিতে পারবো। এ নিয়ে হতাশ হলেও কিছু করার নেই। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ, বিদেশ থেকে মালামাল আমদানি অনেকগুলো বিষয় আছে। একদিন অফিসে আসেন বসে কথা বলি।
প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে সিডিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাররম হোসেন মার্কো’র সঙ্গে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় পাওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত। এক মিনিট সময়ও দিতে পারছি না। পরে একদিন সামনা সামনি আসেন কথা বলবো।’
উল্লেখ্য, এই মোকাররম হোসেন মার্কোর বিরুদ্ধে রাজধানীর একাধিক থানা ও আদালতে মামলা রয়েছে। টঙ্গীর দোকান ক্রেতারা বলছেন,”তিনি তো ভালই আছেন। চলছে তাঁর জীবন। চড়ছেন দামী গাড়ি। তাঁর মোট সাতটি গাড়ি, যার মধ্যে দুটি মার্সিডিজও ! আর আমরা সামাণ্য ব্যবসা করার জন্য টাকা দিয়ে ১০ বছর ঘুরছি তাঁর পেছনে।”