ঢাবিতে সমাবর্তনের আমেজ

সমাবর্তনের সাজেঁ সেজেছে ঢাবি

প্রকাশিত :০৩.০৩.২০১৭, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ

রাজা আবুল কালাম আজাদ: আর মাত্র একদিন বাকী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য সমাপ্ত সহস্র স্নাতকের অপেক্ষার তর আর সইছে না যেন! আগামীকাল প্রতিষ্ঠানটির ৫০তম সমাবর্তন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অধ্যায়টি সমাপ্ত হওয়ার দিন। স্নাতক সমাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট গ্রহনের অনুষ্ঠান। তাইতো এতো বাঁধ ভাঙা আবেগ, তীর ভাঙা উচ্ছাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশততম সমাবর্তনের আমেজ শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে থেকেই। বিশেষ গাউন-টুপি পরে আসন্ন সমাবর্তনগ্রহণকারীদের আনা গোনা ক্যাম্পাসকে বিশেষভাবে মুখরিত করেছে। ক্যাম্পাসকে সাঁজানো হয়েছে ঝারবাতি আর সমাবর্তনের প্লাকার্ড দিয়ে। রাতের কার্জন হল, বিজনেস ফ্যাকাল্টি আর সমাজ বিজ্ঞানচত্তরের রুপ দেখবার মত।

সারাদিন ক্যাম্পাসের টিএসসি, রাজুভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা, দোয়েল চত্তর, কার্জন হলসহ ক্যাম্পসের অলিতে গলিতে দলবেঁধে সেলফি তোলা, আড্ডা, ঘোরাঘুরি, প্রভৃতি কার্যকলাপ ক্যম্পোসকে উৎসবমুখর করে তুলেছে।

 ঢাবির দোয়েল চত্বরে একদল শিক্ষার্থী

ঢাবির দোয়েল চত্বরে একদল শিক্ষার্থী

 

সমাবর্তনের ছোঁয়ায় বর্নিল আজকের কার্জন হল

সমাবর্তনের ছোঁয়ায় বর্নিল আজকের কার্জন হল

বিভিন্ন হল বা ডিপার্টমেন্টর বন্ধুরা মিলে আবার বিভিন্ন রকম প্রদর্শনীর আয়োজনও করা হচ্ছে। যেমন কবি জসিম উদ্দিন হলের শিক্ষার্থীরা মানবপ্রাচীরের মাধ্যমে তৈরী করেছেন ইংরেজী ‘কেজে’।

কবি জসিম উদ্দিন হলের শিক্ষার্তীদের কৃতিত্ব!

কবি জসিম উদ্দিন হলের শিক্ষার্তীদের কৃতিত্ব!

অনেককে দেখা গেছে ক্যাম্পাসের আনাচে কানাচর বিভিন্ন স্মৃতিময় সিলি যায়গাগুলোতেও ছবি তুলছেন। সূর্যসেন হলের একজনকে দেখা গেছেেহেল ওয়াশরুমের এক চিলেকোঠায় ছবি নিজের তুলছেন।
তাঁকে এব্যাপারে জিগ্যেস করা হলে, তিনি আবেগঘণ কন্ঠে জবাব দেন, ‘ক্যাম্পাস তো ছাড়ার সময় হয়ে এলো । একময় হলের এই ক্যান্টিনের কথা মনে পড়বে, বারান্দার কথা মনে পড়বে, এই যায়গার কথা মনে পড়বে। তখন ইচ্ছে হলেও আসা হবে না। মনে পড়লে ছবিগুলো দেখবো।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে থাকছেন, বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত কানাডিয়ান নাগরিক, দেশটির ‘ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও’ এর দশম প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর অমিত চাকমা।

দর্শন বিভাগের সমাবর্তন গ্রহনকারী ‘আব্দুর রাকিব’ উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমার অংশগ্রহন করা সমাবর্তনে এমন একজন মহান সংগ্রামী যোদ্ধার বক্তৃতা শুনতে পাব ভালই লাগছে।তবে সমাবর্তনে ওবামা অথবা শেখ হাসিনাকে বক্তা হিসেবে পেলেই সবথেকে খুশি হতে পারতাম। আমার কাছে বর্তমান বিশ্বে এই ২ জনই শ্রেষ্ট অনুপ্রেরণা।’