1488541732

সাবেক বিজিবি সদস্যসহ ২ জনকে হত্যার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের

প্রকাশিত :০৩.০৩.২০১৭, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পরিকল্পিত হত্যার ঘটনাকে ডাকাতি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা নিয়ে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাবেক বিজিবি সদস্যের হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শিবপুরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে এনামুল হকের স্ত্রী তাসলিমা বেগম শুক্রবার নবীনগর থানায় একটি হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন।

জানা গেছে, গত দু’মাস আগে উপজেলার রসুল্লাবাদ গ্রামের এনামুল হকের মোটরসাইকেলটি নিজ বাড়ি থেকে চুরি হয়। গত এক সপ্তাহ আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুরে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটির সন্ধান মিলে। চুরির ঘটনার সাথে পাশ্ববর্তী জগন্নাথপুরের একটি গ্রুপ জড়িত বলে খবর পায় এনামুল। এ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য সেন্টু মিয়া ও তার লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে। ঘটনাটির ব্যাপারে আপোষ-নিষ্পত্তির জন্য ১ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় বসার কথা বলে সেন্টু। এনামুলহক তার স্ত্রীর বোনের স্বামী ইয়াসিনকে নিয়ে সেন্টু মিয়ার বাড়িতে উপস্থিত হয়। সেখানে শালিস বসে। এতে গ্রামের অন্তত ১৫/১৬ জন উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠক আধা ঘণ্টা চলার পর মোটরসাইকেল চুরি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে সেন্টু ও তার লোকজন গ্রামে ডাকাত এসেছে বলে চিৎকার দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এ দু’জন। তাদের সাথে আসা অন্য ২ জন সৃষ্ট অবস্থায় পালিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য ব্যক্তিগত আইডি নং-৬০৪৭৩, পরিচয়পত্র নং- ৪৪১০২৯৪, ১৭ বিজিবির ব্যাটালিয়ন (কক্সবাজার) থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অবসরে যান। তাদের মোটরসাইকেল ও মোবাইলসহ জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এটি ডাকাতির ঘটনা। ডাকাতির করতে আসার পর গণপিটুনিতে তারা মারা যায়। এ ঘটনায় সেন্টু মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বাদী হয়ে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার দুপুরে নিহত এনামুল হকের স্ত্রী তাসলিমা বেগম থানায় একটি হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।