Riazul hq

ঢাবি অধ্যাপক রিয়াজুলের বহিষ্কার, নেপথ্যে অন্য কারণ

প্রকাশিত :১২.০৩.২০১৭, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

রাজা আজাদ : সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সান্ধ্যকালীন মাস্টার্সের ‘জেন্ডার’বিষয়ক একটি কোর্সে ‘আপত্তিকর চিত্র’ ব্যবহারের কথিত অভিযোগে অধ্যাপক রিয়াজুল হককে সাময়িক বহিষ্কার করা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
তার পাঠদানের ছবিগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে কেউ কেউ দাবি করেছেন, এতে অপ্রাসঙ্গিক কিছু ছিল না। কেউ কেউ তার সমালোচনা এখনও অব্যাহত রেখেছেন।
তার ব্যবহৃত স্লাইড বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি নারী পুরুষের বৈষম্য তুলে ধরতে এ সম্পর্কিত কিছু ছবি ও কার্টুন ব্যবহার করেছেন। যেসব চিত্র ইতিমধ্যেই পত্রপত্রিকায় ও বিভিন্ন সাইটে প্রকাশিত।
সমালোচিত ছবিগুলোর মধ্যে ‘Gender Development Empowerment & Public Policy: Bangladesh Perspectives’ শিরোনামের একটি লেকচারের কভার পেজে দেখা যায়, হাইকোর্টের সামনে এক যুবক প্রতিকী লিঙ্গ প্রদর্শন করছেন।
অপর একটি কার্টুন ছবিতে একজন বোরখা পড়া ও একজন বিকিনি পড়া মহিলাকে পাশাপাশি দেখানো হয়েছে। ‘Body politics: Prostitution, sexuality and the law of Bangladesh’ সংক্রান্ত একটি লেকচার চিত্রে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা যৌনকর্মীকে বিশেষ ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আরেকটি ছবিতে একজন প্রহারকৃত নারী তার আঘাতের চিহৃ দেখাচ্ছেন।

জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট শিরোনামের কোর্সে এসব চিত্র প্রদর্শনের দায়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাবি শিক্ষক রিয়াজুল হককে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। অভিযোগ তদন্তে উপ- উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি আবার নিজ পদে পুনর্বহাল নাকি স্থায়ী বহিষ্কার হবেন তা নির্ভর করছে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর।

এ বিষয়ে অধ্যাপক রিয়াজুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন। ‘আপনি কি ছবিগুলো দেখেছেন?’ তারপর তাকে উপরোক্ত ছবিগুলোর কথা বলা হলে তিনি বলেন, সংবাদকর্মী হিসাবে, আধুনিক মানুষ হিসেবে আপনাদের কি মনে হয় ছবিগুলো অপ্রাসঙ্গিক? অযৌক্তিক?’
১৫ বছর হলো কোর্সটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, তার কোর্সের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিকবার পুরস্কৃত করা হয়েছে।

২২

জেন্ডার স্টাডিজে নারী পুরুষ সম্পর্ক, যৌনতা, যৌন সাম্প্রদায়িকতা, সমকামিতা, রূপান্তরকামিতা, লিঙ্গ বৈষম্য, লৈঙ্গিক অধিকার, রাজনীতি এসব বিষয় স্বাভাবিকভাবেই আসবে। কোর্সের প্রয়োজনেই এসব বিষয় আলোচ্য। তাহলে অভিযোগ কেন? অভিযোগটি এমন সময়ে করা হয়েছে যখন কেবল কোর্স সমাপ্ত নয়, পরীক্ষা ও রেজাল্টও হয়েগেছে। এমনকি অভিযোগকারী ছাত্রছাত্রীদের ব্যাচও কোর্স শেষে তাকে সম্মানিত করেছিল।

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘কোর্স চলার ছয় মাসে তাদের মনে হলো না, আমার কনটেন্ট আপত্তিকর। অথচ কোর্স শেষ হওয়ার তিনমাস পরে তাদের মনে হলো, আপত্তিকর কিছু পড়িয়েছি!’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেন্ডার বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘যে কনটেন্টগুলো নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে আমি সেগুলো পুরোটা দেখেছি। বিষয়গুলো খুবই প্রাসঙ্গিক এবং কোর্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে আপত্তিকর কিছু খুঁজে পাইনি আমি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক নাসরিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে এ বিষয়ে তার মন্তব্য করা উচিত নয়।

এদিকে, এ ঘটনার পেছনে ‘অন্য কারণ’ রয়েছে বলে মনে করেন কেউ কেউ। নির্ভরশীল একটি সূত্র থেকে জানা যায়, বিভাগের পরবর্তী চেয়ারপার্সন হিসেবে রিয়াজুলের সম্ভাবনা রয়েছে। তাকে প্রতিযোগিতা থেকে সরানোর রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে একশ্রেণীর ‘কথিত প্রগতিশীল’ শিক্ষকদের রাজনৈতিক হিংসার শিকার তিনি।