শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধুর গল্প বলছেন ডা.আব্দুন নূর তুষার।

যাত্রা শুরু ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’

প্রকাশিত :১৪.০৩.২০১৭, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

 

ইসলাম মোহাম্মদ রবি : আমরা আজকে যাকে নিয়ে কথা বলতে এসেছি, তাকে নিয়ে আসলে বলার শেষ নেই। তিনি একজন মহান ব্যক্তিত্ব। জন্মেছিলেন সেই সময়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। এখন মনে হয় খুব কাছে কিন্তু সেই সময় টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকা আসতে দুই দিনের বেশি সময় লাগত। এদেশ উন্নত ছিল না, এত রাস্তাঘাটও ছিল না। নৌকা দিয়ে লঞ্চে করে নারায়ণগঞ্জ আসতে হতো। বঙ্গবন্ধু বড় হয়েছিলেন টুঙ্গিপাড়ায়। তিনি যে স্কুলে পড়তেন, স্কুলের সবার কাছে তিনি প্রিয় ছিলেন। গ্রামের সবার কাছেও প্রিয় ছিলেন তিনি। তার একজন গৃহশিক্ষক ছিলেন। যিনি সে সময়ের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিলো তাদের গল্প বলতেন। সেই গল্প শুনে বঙ্গবন্ধুর মনে হত বাঙালি জাতি দীর্ঘ সময় ধরে পরাধীন এবং এই পরাধীনতার গ্লানি থেকে এ জাতিকে মুক্ত করতে হবে।

তবে বঙ্গবন্ধু তার জীবনে একটি লক্ষ্যকেই বেছে নিয়েছিলেন, তা হচ্ছে, বাঙালি জাতির দীর্ঘ পরাধীন সময়কে অতিক্রম করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে, একটি দেশ হবে, একটি পতাকা হবে। বাংলাদেশের মানুষ বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিশ্ব দরবারে তার অবস্থান গড়ে নেবে-
‘আজ সারাবেলা’ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কিশোর-তরুণদের মাঝে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তারের কার্যক্রমের সূচনা অনুষ্ঠানে মিরপুরের হযরত শাহ আলী (র.) মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর জীবনের গল্প এভাবেই তুলে ধরেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক টিভি’র সিইও ডা. আব্দুন নূর তুষার।
শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আরো বেশি জ্ঞানার্জন করার জন্য স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই পড়ার আহবান জানান তিনি।

সূচনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা।

সূচনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা।

দেশব্যাপী কিশোর-তরুণদের মাঝে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তারের কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে যুক্ত হয়েছিলেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও আজ সারাবেলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কানতারা কে খান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ তিনটি শব্দ, একটি অর্থ। তাই বাংলাদেশকে জানতে হলে, জানতে হবে বঙ্গবন্ধুকে, জানতে হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। কিভাবে গড়ে উঠল অসম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্র বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগাতে চাই, জানাতে চাই। চাই এই চেতনা ছড়িয়ে দিতে সারাদেশময়, নতুন প্রজন্ম, তরুণ প্রজন্মের মাঝে।

শিক্ষাথীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধকে জানার মধ্যে দিয়ে আমাদের দেশপ্রেম আরো উজ্জীবিত হবে, অটুট থাকবে এই বিশ্বাস আমাদের। কোন অপশক্তি, জঙ্গিবাদ দানা বাঁধতে পারবে না, দাঁড়াতে পারবে না বাংলাদেশের মৌলিক চেতনার বিপরীতে। তাই ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’, দেশব্যাপী তরুণদের মাঝে প্রচার কার্যক্রমের উদ্দ্যোগ নিয়েছে ‘আজ সারাবেলা’। আর আজকে এই উদ্দ্যোগের সহযাত্রী হলে তোমরা।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সাব্বির আহমেদ। তিনি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালীন নানা ঘটনা উদ্ধৃত করেন।

বক্তব্য রাখছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক নিয়াজী ময়েজ। যার মাথায় হাত রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

বক্তব্য রাখছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক নিয়াজী ময়েজ। যার মাথায় হাত রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

সূচনা অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক নিয়াজী ময়েজ। যার মাথায় হাত রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সেই মধুর স্মৃতি বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত হন মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়াও দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধের নানা অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

হযরত শাহ আলী (র.) হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক এ. রঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, কিশোর-তরুণদের জন্য এ ধরনের কার্যক্রম খুবই জরুরি। কেননা তারাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাই পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য এই কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

সহকারী প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কিশোর-তরুণদের মাঝে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তারের কার্যক্রমের সূচনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন।

সূচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এই কার্যক্রমের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উল্লেখ্য আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নীলসাগর গ্রুপ।