বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম ও ত্যাগের নানা দিক তুলে ধরেন কমডোর জোবায়ের
বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম ও ত্যাগের নানা দিক তুলে ধরেন কমডোর জোবায়ের

একাডেমিয়া’য় ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’র ২য় পর্ব

প্রকাশিত :২০.০৩.২০১৭, ৬:০৫ অপরাহ্ণ

ইসলাম মোহাম্মদ রবি : ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১। আমরা বিজয়নগর গ্রামে। ১৩ জনের গেরিলা দল। আমি কমান্ডার। কাছেই যশোরের খোঁজারহাট বাজার। বিকালে খবর পেলাম, সাত-আটজন পাঞ্জাবি সৈন্য এসেছে। সবার কাছে অস্ত্র। গ্রামের সাধারণ মানুষের বেশ ধরে আমরা কজন সেখানে যাই। ভাঙা ভাঙা উর্দুতে কথা বলে তাদের সঙ্গে ভাব জমাই। অল্প সময়ে তারা অন্তরঙ্গ হয়ে গেল। ওরা ছিল বেশ ক্ষুধার্ত। আমরাও সুযোগটি নিলাম।

একটি স্কুলের বারান্দাতে ওদের বসানো হলো। পাশেই চলল রান্নার আয়োজন। ওদের সামনে জবাই করা হলো খাসি। পাঞ্জাবি আর্মিরা বেশ খুশি। ওদের প্রত্যেকের কাছে ছিল রাইফেল। খাবার দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে কৌশলে আমরা অস্ত্রগুলো খানিকটা দূরে সরিয়ে রাখি। সংকেত দিতেই আমাদের দলের বাকি গেরিলারা চারপাশ থেকে ওদের ঘিরে ফেলে। আমাদের কৌশলের কাছে ওরাও বোকা বনে যায়। নিরস্ত্র অবস্থায় ধরা দেয় সবাই।

কিন্তু তাদের কাছে যে গ্রেনেড থাকতে পারে, তা আমাদের চিন্তায় ছিল না। হঠাৎ একজন পাঞ্জাবি সৈন্য তার সঙ্গে থাকা গ্রেনেডের চাবি খুলে দিল। আমাদের দিকে গ্রেনেডটি ছুঁড়ে দিবে, এমন সময় সবাই গুলি ছুঁড়ল ওর দিকে। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেনেড হাতে পাঞ্জাবি সৈন্যটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আহত হওয়ার ঘটনা বলছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মতিউর রহমান

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আহত হওয়ার ঘটনা বলছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মতিউর রহমান

সময় মাত্র সাত সেকেন্ড। এর পরই ঘটবে বিস্ফোরণ। আমরা সরে পড়তে চেষ্টা করলাম। কেউ কেউ সরেও পড়ল। কিন্তু তার আগেই বিস্ফোরিত হলো গ্রেনেডটি। সঙ্গে সঙ্গে একটি স্লিন্টার এসে বিদ্ধ হলো আমার কপালে। চোখ দুটো তখন ঝাঁপসা হয়ে আসে। লুটিয়ে পড়ি মাটিতে। চারপাশে শুধুই অন্ধকার। তারপর আর কিছু মনে পড়ে না আমার।
দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু সে স্বাধীনতার আনন্দ-স্বাদ আমি পাই না। পেছনের কথা মনে করার ক্ষমতা হারিয়ে  ফেলি। প্রায় চার কী পাঁচ বছর আমি স্মৃতিভ্রষ্ট ছিলাম।
‘আজ সারাবেলা’ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কিশোর-তরুণদের মাঝে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তার কার্যক্রমের ২য় পর্বে লালমাটিয়ার একাডেমিয়া ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তার আহত হওয়ার ঘটনা এভাবেই বলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মতিউর রহমান।

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা।

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- বিইউপি’র সিকিউরিটি এন্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন, কমোডর জোবায়ের আহমেদ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এদেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধুর ভালবাসা ছিল সীমাহীন। একবার তার পেটের পাথর অপারেশনের জন্য তাকে এক রকম জোর করে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। তিনি কখনোই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাইতেন না। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে জ্ঞান ফিরে আসার পর তিনি প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন, তা হচ্ছে- আমার দেশের মানুষ কেমন আছে? এভাবেই তিনি নানা ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালবাসা এবং তার মহান ত্যাগের নানা দিক তুলে ধরেন কমডোর জোবায়ের।

একাডেমিয়া’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মাদ কুতুব উদ্দিন এ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে তুলে ধরা উচিত।

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কার্যক্রম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এই কার্যক্রমের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উল্লেখ্য, আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নীলসাগর গ্রুপ ও সুচিন্তা ফাউন্ডেশন।