unnamed (5)

দক্ষিণের ২৩ রুটে ভরসা ইঞ্জিনচালিত অবৈধ ট্রলার

প্রকাশিত :২০.০৩.২০১৭, ৬:৪০ অপরাহ্ণ

শামীম আহমেদ, বরিশাল : ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত দক্ষিণাঞ্চলের ১৮টি নদীর তিন হাজার কিলোমিটার নৌ-পথের ২৩ রুটে এমএল টাইপের লঞ্চসহ ছোট নৌ-যান চলাচল গত বুধবার থেকে নিষিদ্ধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। নিষিদ্ধ এ নৌ-পথে বিআইডব্লিউটিসি’র সি-ট্রাকসহ বে-ক্রসিং ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও তার কোনো দেখা নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে উপকূলীয় সার্ভিসে আসছে না বে-ক্রসিং জাহাজ। বিআইডব্লিউটিসি’র ১৩টি সি-ট্রাকের মধ্যে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে মাত্র চারটিতে। এসব রুটে চলাচলকারী বেসরকারি কোম্পানির ১১টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ সুযোগে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে অবৈধ নৌ-যান সিন্ডিকেটের লোকজন। ফলে আগামী সাত মাস এসব অবৈধ ট্রলার ও নৌকায় উপকূলবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডেঞ্জার জোন পারি দিতে হবে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে ২০০০ সালে উপকূলীয় এলাকার তিন হাজার কিলোমিটার নৌ-পথকে ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ডেঞ্জার জোনে সি-ট্রাক ও বে-ক্রসিং ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ছাড়া অন্য সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নিয়ম চালু করা হয়। নিয়ম বাস্তবায়নে বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, উপকূলের তিন হাজার কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-পথে ২৩টি রুট রয়েছে। এরমধ্যে বরিশাল-ইলিশা-মজুচৌধুরীরহাট, দৌলতখাঁ-চরআলেকজান্ডার, মির্জাকালু-চর আলেকাজান্ডার, তজুমদ্দিন-চর আলেকজান্ডার রুটে এমভি চন্দ্রদ্বীপ, এমভি উপবন, এমভি সঞ্চিতা-২, এমভি রাজপাখি, এমভি প্রিন্স অব বরিশাল, এমভি জনতা, এমভি গ্রীন ওয়াটার-৫, এমভি সোহেলী-১, এমভি ইম্পেরিয়াল, এমভি মুঈন ও এমভি রামগতি এক্সপ্রেস চলাচল করে আসছিলো।
বিআইডব্লিউটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাত মাস নৌ-যান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সি-ট্রাকের বাইরে বেসরকারি মালিকানাধীন বে-ক্রসিং ক্ষমতাসম্পন্ন এমভি টিপু-৫ ও পানামা-৫ লঞ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সাত মাস ডেঞ্জার জোনে চলাচলের কথা থাকলেও বর্তমানে তা মনপুরা ও হাতিয়া রুটে চলাচল করছে। অতীতে ডেঞ্জার জোন ঘোষণার পর থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী কেয়ারী সিন্দাবাদ ও কুতুবদিয়া এ রুটে চলাচলের জন্য পাঠানো হতো। গত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি ছোট লঞ্চ ও ট্রলারের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ব্যয়বহুল এ জাহাজগুলো পরিচালনা করা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এসব রুটে নিরাপদ যাত্রী পরিবহনের জন্য যে ১৩টি সি-ট্রাক রয়েছে তার মধ্যে নয়টিই যাত্রী পরিবহনের বাইরে রয়েছে। ভোলার বিচ্ছিন্ন উপদ্বীপ মনপুরায় যাতায়াতকারী সি-ট্রাক শেখ কামাল, বরিশাল-লক্ষ্মীপুর রুটের এসটি খিজির-৮, ভোলা -লক্ষ্মীপুর রুটের এসটি খিজির-৫ ও খিজির-৭ দীর্ঘদিন ধরে সংস্থার ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য রয়েছে। এরমধ্যে এসটি খিজির-৫ ও খিজির-৭ নৌযান দুটি ইজারাদার নিয়োগ করে খুব শীঘ্রই ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি এসব নৌযানের নেই সার্ভে সনদ। এমনকি খিজির-৭ দীর্ঘদিন যাবত ডকিং না করায় এর তলার অবস্থা খুবই নাজুক। এ অবস্থায় নৌযানটির তলায় সিমেন্ট প্লাস্টার করে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রী পরিবহনের আয়োজন করা হচ্ছে। বরিশাল-লক্ষ্মীপুর রুটে খিজির-৮ পরিচালনার জন্য এখনো ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ নৌযানটি কবে থেকে যাত্রী পরিবহন করবে তা বলতে পারছে না সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
সচেতন নাগরিকদের মতে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আগামী সাত মাস ডেঞ্জার জোন দিয়ে উপকূলবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত অবৈধ নৌকা ও ট্রলারে পারাপার হতে হবে।