coxs3

কক্সবাজার এসে ভ্রমণ করবেন যেখানে

প্রকাশিত :২৮.০৩.২০১৭, ২:৩৬ অপরাহ্ণ

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার : যারা যান্ত্রিক জীবনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে দূরে কোথাও বেড়ানোর সুযোগ পান না। ছুটি তাদের জন্য অনাবিল আনন্দের হাতছানি। সমুদ্র আর পাহাড়ের মিতালী যাদের বেশি কাছে টানে, ছুটিতে তাদের গন্তব্য হতে পারে কক্সবাজার।
ছুটির এ সুযোগ সবাই পেতে চায়। সেকারণে এসব ভ্রমণ গন্তব্যে পর্যটকদের প্রচণ্ড ভিড় লাগে। তাই আগে থেকেই জায়গাটি নির্বাচন করে সেখানে যাওয়া-আসার বাসের টিকেট, হোটেল ইত্যাদি অগ্রিম বুকিং নিশ্চিত না করলে শেষমেশ ভ্রমণটা অনেক সময় সুখকর হয় না।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের শান্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ১২০ কিলোমিটারের সমুদ্র সৈকত ঘিরে প্রাচীন ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থানের কারণে প্রতিবছর কক্সবাজারে ছুটে আসেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক। এখানে সমুদ্র সৈকতের ঢেউয়ের নাচন দেখার পাশাপাশি পর্যটকের ভ্রমণের জন্য রয়েছে বিনোদনের আকর্ষণীয় মাধ্যম।

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানসমূহ
কক্সবাজার এসে আপনি দেখতে পাবেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, শহরের মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, অগ্গমেধা ক্যং, রাডার স্টেশন, হিলটপ সার্কিট হাউজ, হিমছড়ি ঝর্ণা ও সমুদ্র সৈকত, রামুর নবনির্মিত ও পুরনো ঐতিহ্যের ধারক বৌদ্ধ বিহার, রাবার বাগান, চকরিয়াস্থ ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, টেকনাফের সমুদ্র সৈকত, মাথিনের কূপ, সেন্টমার্টিন প্রবালদ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও ক্যাং, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়া বাতিঘর। এসবের সাথে যোগ হয়েছে রামুর উত্তর মিঠাছড়ির ১০০ ফুট সিংহসয্যা বৌদ্ধমূর্তি এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন।

কক্সবাজারের উৎপত্তি :
কক্সবাজারের আদি নাম পালংকী। ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামের এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা ১৭৯৯ সালে এখানে এসে একটি বাজার স্থাপন করেন। তার নাম অনুসারে কক্স সাহেবের বাজার হতে কক্সবাজার এর নাম করণ করা-এমনটিই প্রচলিত। কক্সবাজারের উত্তরে চট্টগ্রাম, পূর্বে-বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও মিয়ানমার, পশ্চিম ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। ২৪৯১.৮৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে এ জেলার রয়েছে ৫টি নদী। এগুলো হল, মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী ও নাফনদী।
এখানকার দ্বীপের সংখ্যা ৫টি। এগুলো হলো- মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন।

কক্সবাজারের প্রাচীন ঐতিহ্য
প্রাচীন ঐতিহ্যে ভরপুর আমাদের কক্সবাজার। কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকরা এসব ঐতিহ্য সমূহ ঘুরে দেখেন। যেসব ঐতিহ্য রয়েছে তার মধ্যে আলোচিত হচ্ছে আজগবি মসজিদ। ধারণা করা হয় ১৬০০-১৭০০ খিস্টাব্দে শাহ সুজার আমলে এটি তৈরি হয়েছিল। এটি মোঘল মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। কক্সবাজার পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্পের উত্তর দিকে এটি অবস্থিত। রিকশা টমটম যোগে ওখানে যাওয়া যায়। কক্সবাজার পৌরসভার গেট থেকে ভাড়া পড়বে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

প্যাগোড়া (জাদী)
১৭৯০ ইংরেজি সালের দিকে বার্মিজরা আরাকান বিজয়ের পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় রাখাইন স¤প্রদায় এটি নির্মাণ করে। তারা এটিকে স্মৃতিচিহ্ন জ্ঞান করে। কক্সবাজার সদর, রামু ও টেকনাফের পাহাড় বা উচুঁ টিলায় এ ধরণের অনেক প্যাগোড়া রয়েছে।

আমেধা বৌদ্ধ ক্যাং
কক্সবাজার সদরে ছোট বড় মিলিয়ে ৭ টিরও বেশি বৌদ্ধ ক্যাং রয়েছে। আমেধা ক্যাং ও মাহাসিংদোগীক্যাং সবচেয়ে বড়। এসব ঐহিত্য দর্শনার্থীদের প্রাচীন সময়ে দাঁড় করিয়ে ভাবুক বানিয়ে দেয়। অনেকে স্থাপনার খুঁটি ও কাঁঠের দেয়ালে হাত দিয়ে শত বছরের পুরনো সময়টা ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা চালান। এসব ক্যাংয়ে বৌদ্ধ মূর্তিগুলো দেখবার মতো। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা ও বিষু উৎসব ক্যাং এ উদযাপন হয়।

রামকোট তীর্থধাম
এটি রামুর রামকোট বনাশ্রমের পার্শ্বের পাহাড়ের চ‚ড়ায় অবস্থিত। ৯০১ বাংলা সনে এ তীর্থধাম স্থাপিত। কথিত আছে রাম-সীতা বনবাসকালে এই রামকোটে অবস্থান করেছিল। তীর্থধামে মন্দিরের পাশাপাশি আলাদা একটিবৌদ্ধ বিহারে ধ্যানমগ্ন ছোট একটি বৌদ্ধমূর্তিও রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, দু’টিধর্ম পাশাপাশি শান্তিতে সহাবস্থানের প্রমাণ স্বরূপ সম্রাট অশোকের সময়ে এই মূর্তি স্থাপিত হয়।
রামুর দৃষ্টিনন্দন ক্যাং
রামুর শ্রীকুলস্থ বাঁকখালী নদীর তীরে ছেংখাইব ক্যাং (বৌদ্ধ বিহার) অবস্থিত। এ বৌদ্ধ বিহারে নানা রকম নকশা খঁচিত আসন ও কাঁচের পাত্রে সংরক্ষিত ১০টিরও বেশি পিতল এবং আরো অনেক শ্বেতপাথরের মূর্তি শোভা পাচ্ছে। সব মিলে রামু থানায় ২৩টি বৌদ্ধ
বিহারে শতাধিক মূল্যবান বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে।

২০১২ সালে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর রামুর প্রাণ কেন্দ্রে লালচিং, সাদাচিং ও সীমাবিহার বৌদ্ধ বিহার গুলো পুনরায় তৈরি করা হয়েছে বিশ্বমানের স্থাপনায়। ঐ ঘটনায় শত বছরের ঐতিহ্য পুড়ে গেলেও নতুন স্থাপনা বৌদ্ধ স¤প্রদায়কে এগিয়ে দিয়েছে ৫০ বছর! আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া পুরনো ক্যাং ঐতিহ্যের জানান দেয় আর নতুন স্থাপনার বিহারগুলো পর্যটনের অংশ হয়েছে।

১০০ ফুট সিংহসয্যা বৌদ্ধমূর্তি
রামুর উত্তর মিঠাছড়ির ভাবনাকেন্দ্র বিহারে উঠানে স্থাপন করা হয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম ১০০ ফুট দৈর্ঘের সিংহসয্যার গৌতম বৌদ্ধের মূর্তি। এ মূর্তির চারপাশের স্থানটা এমন পরিবেশ তৈরি করেছে এখানে আসলে মনটা এমনিতে ভাল হয়ে যায়। তাই যেকোনো ছুটি কিংবা বিশেষ দিনে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নির্ধারিত স্থান হচ্ছে এটি।

বোটানিক্যাল গার্ডেন
রামুর নারকেল বাগান এলাকার আগে বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন। নানা প্রজাতির গাছ ও ফুলের সৌরভের পাশাপাশি বসার জায়গা করা হয়েছে এখানে। তাই কাছের মানুষকে নিয়ে একান্ত কিছু সময় এখানে নির্জনে কাঁটাতে পারেন আপনি।

কানা রাজার সুড়ঙ্গ
উখিয়া থানার জালিয়া পালং ইউনিয়নেপাটুয়ার টেক সৈকতের কাছে নিদানিয়া পাহাড়ের মধ্যে এ সুড়ঙ্গ বা গর্ত। সুড়ঙ্গের ব্যাস ১২ ও ১২। একটা বড় ট্রাক অনায়াসে সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশ করতে পারবে। কথিত আছে, জনৈক মগ স¤প্রদায়ের কানা রাজার (এক চোখ অন্ধ) শাসন আমলে আত্মরক্ষার জন্যেই সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করেছিল।

মাথিনের কূপ
উপন্যাসিক ধীরাজ ভট্টাচার্য উনবিংশশতাব্দীর প্রথমদিকে এসআই হিসেবে টেকনাফ থানায় বদলি হয়ে এসেছিলেন। তখন টেকনাফের নাম করা রাখাইন জমিদার ওয়াংথিনের একমাত্র আদুরে কন্যা মাথিন থানার সামনের কুয়া থেকে নিয়মিত পানি নিতে আসতো। সকাল বিকাল পানি নিতে আসা ছিল মাথিনের শখ। পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিদিন থানার বারান্দায় বসে অপূর্বসুন্দরী মাথিনের পানি নিতে আসা যাওয়া দেখতেন। আস্তে আস্তে ধীরাজের সংগে মাথিনের চোখে চোখে কথা হতো। পরে তা প্রেমে পরিণত হয়। ধর্মীয় প্রতিকূলতায় পরিবারের বাধায় দু’জনের বিয়ে হয়নি। বিচ্ছেদ জ্বালায় তিলে তিলে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে মাথিন। মাথিনের অতৃপ্ত প্রেমের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী মাথিনের কূপ। টেকনাফ থানা প্রাঙ্গণে এ কূপের অবস্থান।
মাথিন-ধীরাজের প্রেম কাহিনী অবলম্বনে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যচলচিত্রও নির্মিত হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ
টেকনাফ থানা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কি. মি. সমুদ্রগর্ভে মনোরম দ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্রায় ১৬ বর্গ কি. মি. জুড়ে প্রবাল পাথরের মেলা, সমুদ্র তীরে সারি সারি নারিকেল বৃক্ষ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি আর এখানকার আদিবাসীদের বিচিত্র জীবনযাপন- সব মিলিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ জাগানিয়া উপাদানের বিন্দুমাত্র অভাব নেই।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ স্থানীয়ভাবে নারকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে প্রাচীন কালে এই দ্বীপটি ছিল একটি বিশ্রামাগারের মত। বিভিন্ন দেশের বণিকরা বিশেষ করে আরব বণিকরা পণ্য নিয়ে যখন সওদা করতে যেতো তখন তারা এই দ্বীপে বিশ্রাম নিত। আর তখন থেকেই এই দ্বীপের নাম হয় জাজিরা। তবে পরবর্তী সময়ে এটি নারিকেল জিনজিরা বলে পরিচিতি লাভ করে। অসংখ্য নারিকেল গাছের সমারোহ থাকায় এই দ্বীপকে এই নামে ডাকা হয়ে থাকে। সর্বশেষে ইংরেজরা এই দ্বীপটির নামকরণ করে সেন্টমার্টিন এবং দেশ বিদেশের মানুষের কাছে এখন পর্যন্ত এ নামেই পরিচিত। তবে নামকরণ নিয়ে আছে মজার একটি গল্পও। একদা নাকি নারকেল জিঞ্জিরায় মার্টিন নামে অলৌকিক শক্তির অধিকারী এক সাধু বাস করতেন। একবার ঘূর্ণিঝড়ের সময় উচুঁ উচুঁ ঢেউ দ্বীপটিকে গ্রাস করে নিচ্ছিল-ঠিক সেই সময়ই সাধু মার্টিন নাকি তাঁর অলৌকিক শক্তিবলে বিশাল একটা আকাশ সমান পালের মতন ফুলে উঠে অস্থির অশান্ত ঢেউগুলি আটকে দ্বীপটিকে রক্ষা করেছিলেন। তারপর থেকেই সাধু মার্টিনের নামেই দ্বীপের নাম হল সেন্টমার্টিন।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে হলে প্রথমেই যেতে হবে টেকনাফ জাহাজ ঘাটে। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার থেকে বাস বা মাইক্রোবাসে যোগে সকাল ৯ টার আগে পৌঁছাতে হবে ঘাটে। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটন মৌসুমে চলাচল করে একাধিক জাহাজ। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে রয়েছে আগাম টিকিট পাওয়ার স্থান। এছাড়াও ঘাটে গিয়েও নিতে পারেন এসব সি ট্রাকের টিকেট। টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। শীতের মৌসুমে সাগর শান্ত থাকে তাই এই সময় এখানে যাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। দ্বীপবাসী ফিশিং ট্রলার ও স্পিড বোটে করেও যাতায়ত করে। কিন্তু পর্যটকদের এসব এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এপ্রিল মাস পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজ চলে। বৈরি আবহাওয়া শুরু হলে প্রশাসন জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়। জাহাজে শ্রেণিভেদে আসা-যাওয়া টিকেট ৫০০ থেকে এক হাজার টাকায় কিনতে পাওয়া যায়। তবে সেখানে অবস্থান করতে চাইলে আগেই হোটেল বুকিং দিয়ে যাওয়া উচিত।
দ্বীপটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থে কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর। দ্বীপের শেষ মাথায় সরু লেজের মত আর একটি অবিচ্ছিন্ন দ্বীপ রয়েছে যার নাম ছেঁড়াদ্বীপ। এটি এখানকার বাড়তি আকর্ষণ। জোয়ারের পানি আসলে মাঝখানের নিচু এলাকায় পানি একাকার হয়ে দ্বীপটিকে মূল সেন্টমার্টিন থেকে আলাদা করে দেয় বলে একে ছেঁড়াদ্বীপ বলে।

কুতুবদিয়া বাতিঘর
বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ এ প্রবাদটি ছোটবেলায় বিভিন্ন পাঠ্য পুস্তকে লেখা ছিল। ইদানিং তেমনটি আর লেখা হয় না। কারণ বাতিঘরটি আর কুতুবদিয়াতে নেই। আছে বাতিঘরটির ভগ্নস্তূপ এলাকা নিয়ে গঠিত বাতিঘরপাড়া। চান্স অ্যান্ড ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক মনোনীত স্থপতি নেয়ার বার্মিংহাম এর তত্ত¡াবধানে ১৮৪৬ সালের দিকে কুতুবদিয়ার উত্তরধুরং ইউনিয়নের আলী ফকির ডেইল নামক স্থানে আটতলা তথা বিশিষ্ট বাতিঘরটি নির্মাণ করা হয়। ১২০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট গোলাকৃতি আলোক স্তম্বের প্রতিটি কক্ষে মূল্যবান কাঁচখচিত জানালা ছিল। কক্ষের চারদিকে রেলিং ছিল। সর্বোচ্চ কক্ষে বাতিঘরটি প্রজ্বলন করা হতো। ১৯ মাইল দূর থেকে নাবিকরা এ বাতিঘর থেকে আলো প্রত্যক্ষ করে দিক চিহ্নিত করতো। শংখ নদীর তীব্র স্রোতের তোড়ে বাতিঘরটি ধ্বংস হতে থাকে। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে বাতিঘরটি পুরোপুরি ধ্বংস হলে গভীর সমুদ্রে চলাচলরত নাবিক ও মাঝিমাল­াদের কথা মাথায় রেখে তদানীন্তন সরকার ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ধুরং এলাকায় আগের স্থান থেকে দু’কিলোমিটার পূর্বে বাঁধের ভেতরে প্রায় সাত একর জমিতে আরো একটি বাতিঘর নির্মাণ করে। বাতিঘরের সাথে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য একটি রেস্ট হাউস ও দুটি আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াসে পুনঃনির্মিত বাতিঘরটি সাগরে বিলীন হয়ে যায়। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় মেয়াদোত্তীর্ণ এসব স্থাপনা জরাজীর্ণ অবস্থায় কালের নীরব সাক্ষী হিসেবে এখনো সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়ায় বিদ্যমান রয়েছে।
কুতুব আউলিয়ার উত্তরসূরি হযরত শাহ আবদুল মালেক আল কুতুবী (রাঃ) এর মাজার শরীফের অসংখ্য ভক্ত প্রায় প্রতিদিন কুতুবদিয়া সফর করে থাকেন। কুতুবদিয়া সফরের প্রাক্কালে ঐতিহাসিক বাতিঘরের অস্তিত্ব সন্ধানের জন্য পর্যটকদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

সোনাদিয়া দ্বীপ
দেশের পাহাড়দ্বীপ মহেশখালীর সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কূল অপূর্ব সৌন্দর্য্য বেষ্টিত পর্যটন স্পট সোনাদিয়া দ্বীপ। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সোনাদিয়া দ্বীপের আয়তন ৪ হাজার ৯২৮ হেক্টর। এ দ্বীপটি পূর্ব পশ্চিমে লম্বা। সৃষ্টি শৈল্পিক আদলে গড়া সোনাদিয়া জেলার পর্যটন শিল্পের আরেক সম্ভাবনাময় সৈকতের নাম। এখানে রয়েছে বালিয়াড়ি, কাছিম প্রজনন ব্যবস্থা, চামচ ঠোঁটের বাটন পাখি এবং অতিথি পাখির অভয়ারণ্য, দূষণ ও কোলাহল মুক্ত সৈকত, লাল কাঁকড়ার মিলন মেলা, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম, পূর্ব পাড়ার হযরত মারহা আউলিয়ার মাজার ও তার আদি ইতিহাস, জেলেদের সাগরের মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যাস্তের দৃশ্য, প্যারাবন বেষ্টিত আঁকা-বাঁকা নদীপথে নৌকা ভ্রমণ। যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্তে¡ও এ দ্বীপে সরকারি বা বেসরকারিভাবে যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনার অভাবে এ পযন্ত পর্যটন আর্কষণের আধুনিক কোনো পদক্ষেপ বলতে গেলে নেয়া হয়নি। এ দ্বীপের শুটকির কদর সবার মাঝে লক্ষ্য করা যায়। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনের কথা প্রচার পাবার পর থেকে এখানকার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিসহ সরকারি জমি উঁচু দামে হাতবদল ও দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দ্বীপ হলেও এটি কুতুবজুম ইউনিয়নের ওয়ার্ড হিসেবে এখানে জনবসতি রয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ০৩ দশমিক ১৫ একর ও চিংড়ি চাষযোগ্য ৯৮.০০ একর জমিতে চাষ করেই চলে এখানকার বাসিন্দাদের জীবিকা।

মা অষ্টভূজা
মহেশখালী আদিনাথশিব মন্দিরের পার্শ্বে ‘অষ্টভূজা’ নামে অপর একটি বিগ্রের মূর্তি রয়েছে। কক্সবাজার কস্তুরাঘাট হতে নৌযানে ৪৫-৫৫ মিনিট আর স্পিডবোটে ১৫-১৮ মিনিট সময় লাগে এখানে পৌঁছাতে। মহেশখালীর গোরকঘাটা জেটি হতে রিকশা যোগে আদিনাথ মন্দির যাওয়া যায়।

ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে ডুলাহাজরায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। প্রায় ৯০০ একর পাহাড়ি ও সমতল ভূমির সমন্বয়ে এপার্কটি সববয়সের মানুষের কাছে বিনোদনের স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানে দেখা মিলবে নানা রকম প্রাণির। প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক। নিজেদের গাড়ি হলে ভ্রমণে সুবিধাটা বেশি। শহর থেকে খোলা জীপ কিংবা মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়া যায়।