aj-sarabela- charukola

চারুকলায় বর্ষবরণ প্রস্তুতি :
অনন্য সাঁজে সাঁজবে প্রাঙ্গণ, থাকছে প্রথম বছরের কালো হাতি

প্রকাশিত :১০.০৪.২০১৭, ৭:১৫ অপরাহ্ণ

আজাদ সিরাজী : ‌‌‌’আনন্দ লোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর’ স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে চলছে এবারের চারুকলার বর্ষবরণ প্রস্তুতি।

১৪২৩ কে বিদায় জানিয়ে ১৪২৪  বাংলাবর্ষকে বরণ করে নিতে তিন দিন ব্যাপী কর্মসূচী হাতে নিয়েছে দেশের বর্ষবরণের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।

বাংলাবর্ষের শেষ দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল দিন জুড়ে অনুষ্ঠিত হবে চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজন। পহেলা বৈশাখের সকাল শুরু হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা দিয়ে বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরদিন সকাল সন্ধ্যা যাত্রাপালা।

বর্ষবরণের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয় এবারের মঙ্গলযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি অলোকের সাথে। ‌’মঙ্গলযাত্রাকে ঘিরে ১০ টা ভাস্কর্য হচ্ছে এবার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে প্রথম বছরের কালো হাতি।’ এভাবেই বর্ননা দিচ্ছিলেন অলোক।

১৯৮৯ সালের বাংলা বর্ষবরণে প্রথম যখন চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়, তখন তৈরী করা হয়েছিল এরকম হাতি। ‘এবারের ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে নতুন কী?’ এমন প্রশ্নের জবাবে অলক বলেন, ‘হাতিই নতুন। প্রথম বছরের ভাস্কর্যটাকে পূণরায় নিয়ে আসাটাই নতুনত্ব। শিল্পী জামিনী রায়ের স্মরণে থাকছে এই হাতির প্রতিকৃতি।’

চারুকলার লিলিপন্ড সংশ্লিষ্ট চত্ত্বরে পাখি, পুতুল, বড় হাত, নৌকা প্রভৃতি ভাষ্কর্যের নির্মাণ কাজ চলছে। সেখানে কর্মরত শিল্পী সোহানা জানান, ‌’অপশক্তির কাছে মানুষ বন্দি, এটা বোঝাতে তৈরী করা হচ্ছে এই বড় হাতটি। বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয়কে ফুটিয়ে তুলতে তৈরী করা হচ্ছে এই বড় নৌকাটা। দেশের সমৃদ্ধিকে প্রকাশ করবে মা-শিশু।’

এবারের থিম সম্পর্কে তিনি জানান ‘তিনটি গাছের মাঝে একটি সূর্য থাকবে আর সেই সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটবে’ প্রাথমিকভাবে এবারের মূল প্রতীক এমনই থাকছে। সূর্যের মুখচ্ছবির মাধ্যমে পেছনের অন্ধকারকে পেছনে রেখে মঙ্গলালোকের দিকে ধাবিত হওয়ার বিষয়টি এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় তুলে ধরা হচ্ছে।চৈত্রসংক্রান্তিতে কাজ শেষ করা হবে। বিগত বছরের প্রতীকের ডিজাইনে নতুনত্ব এনে এ বছর সেগুলো নতুন করে তুলে ধরা হবে।’

বাচ্চাদের ড্রয়িং শেখানোর জন্য ব্যবহৃত স্কুলঘরটি সাঁজানো হচ্ছে নতুন রঙে। এর ভেতর বাহির জুড়ে রাঙানো হয়েছে ফুল, পাখি, হাত প্রভৃতি চিত্রে । তুহিনের সৃষ্টি তুহিন পাখি স্কুল ঘরটিতে তৈরী করে রেখেছে অনন্য আবেদন।

চারুকলা অনুষদের শিক্ষক বিশ্বজিত কুমার জানান, ‌’চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা গত বছর ‘ইউনেস্কোর কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে । আর এই স্বীকৃতি বাঙালি জাতিকে নতুনভাবে পরিচয় করে দিয়েছে বিশ্বের দরবারে। এ কারণে অন্য সব বছরের তুলনায় এ বছরের শোভাযাত্রা নিয়ে চারুকলার শিক্ষার্থীদের দায়িত্বও বেড়ে গেছে বহুগুণ।শিল্পকে ফুটিয়ে তোলাই শিল্পীর কাজ। বর্ষবরণ, মঙ্গল শোভাযাত্রা আর অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চারুকলার শিল্পীরা একাজটাই আসলে করে।’

বড় পুকুরে নাগরদোলার আয়োজনও শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। জয়নুল গ্যালারীতে তৈরী করা হচ্ছে মুখোশ।

বর্ষবরণের এবারের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট অনুষদের ডিন নিসার হোসেন। ‌’শুনছি এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাইরের কাউকে আসতে দেওয়া হবে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শোনা কথায় কান দেবেন না। সবাইকে ছাড়া আমরা কয়জন কী এতো বড় কাজ করতে পারি?’ ‘সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটায় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে কেমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন, এ প্রশ্নের বিপরীতে তিনি জানান, পুলিশ বিষয়টি দেখছে। আলাপ আলোচনা চলছে। সুষ্ঠু নিরাপত্তা বাস্তবায়নে বাড়তি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।

এদিকে, চারুকলার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন ও জয়নুল গ্যালারীতে চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আজ বিকেলে চারুকলায় আসেন সংস্কৃতিমন্ত্রি আসাদুজ্জামান নূর। এ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও উপস্থিত ছিলেন।