sonadia dip sarabela

সোনাদিয়া দ্বীপ হতে পারে ‘ট্যুরিজম অব হার্ট ফর ওয়ার্ল্ড’

প্রকাশিত :১২.০৪.২০১৭, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ

জে, জাহেদ কক্সবাজার সোনাদিয়া থেকে ফিরে : ভারতের ১১তম সাবেক রাষ্ট্রপতি এ,পি,জে আবদুল কালাম বলেছিলেন, ‘স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আগেই স্বপ্ন দেখতে হবে’। তাহলেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ পায়। সিংগাপুর, দুবাই জুমেরা, থাইল্যান্ড, কক্সবাজার বিচ কিংবা সেন্টমার্টিন ট্যুরিজম এলাকা ছিল না পূর্বে। কালের বিবর্তন সমাজ পরিবর্তনে আজকে সব দর্শনীয় স্থান হয়ে ওঠেছে কোটি কোটি পর্যটন কিংবা ভ্রমণ পিপাসু মানুষের আশ্রয় স্থল।

সোনাদিয়া হতে পারে ‘ট্যুরিজম অব হার্ট ফর ওয়ার্ল্ড’। কি অপূর্ব সাগরের বেলাভূমি ঝাউবীথি আর ম্যানগ্রোভ বনের সবুজ প্রকৃতি। পাখির বিচরণ অনেক পাখি বিশেষজ্ঞ বলে পাখির দ্বীপ, তরমুজ ভূমি কিংবা প্রকৃতির স্বর্গভূমি। যেখানে একদিন অবস্থান করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। সোনাদিয়ার নির্মল বায়ু আর সুপেয় পানির জলদ্বীপ আর বিশ্বে কোথাও নেই বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

Sonadia-Island-by-polmap4-626x365

 

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সাবরাং সমুদ্র সৈকতে গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের প্রথম ট্যুরিজম জোন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনীতিক অঞ্চল বেজা জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলে আগামী কয়েক বছরে পর্যটক আকর্ষণে অবকাঠামো তৈরি করা হবে।
ইতিমধ্যে সরকার সুনজর দিয়েছেন । টেকনাফের সমুদ্র উপকুলে ১১০০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। বেজার অধিগ্রহণ শুরু হচ্ছে। তৈরি হববে পাঁচ তারকা হোটেল, সুইমিং পুল, বিভিন্ন রাইড, ক্যাসিনো, সিনেমা, ফুড কর্নার সহ থ্রিডি গেইম সহ বিনোদন হাউস। যা গড়ে ওঠবে আধুনিক পর্যটকদের সুযোগ সুবিধার জন্য।নিরাপদ ব্যবস্থার জন্য ট্যুরিষ্ট পুলিশের অনলাইন বুথ।
সেন্টমার্টিন কিংবা টেকনাফের সাবরাং থেকে সোনাদিয়া বড় বেশি উৎকৃষ্ট লোকেশন পর্যটকদের হতে পারে। জগত বিখ্যাত ইবনে বতুতা ও একদিন ভ্রমণ করে গেছে সোনাদিয়ার দক্ষিণের সমুদ্রপাড়।
আকর্ষণীয় সোনাদিয়া দ্বীপ

সোনাদিয়া দ্বীপ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার অর্ন্তগত কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি জীববৈচিত্রের দ্বীপ নামেও পরিচিতি এবং এ দ্বীপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য পিপাসুদের জন্য অন্যতম পর্যটন স্থান। চারদিকে গভীর সমুদ্রের সাগরের ঢেউ সমৃদ্ধ এটি মুলত প্যারাদ্বীপ নামে পরিচিতি।
অপরূপ সৌন্দর্যের আধার এ দ্বীপ ককসবাজার শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমের দূরে সাগর গর্ভে অবস্থিত। দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার। তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন। বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি দ্বীপটিকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। এটি মহেশখালী কেনেল দ্বারা কক্সবাজারের মূল ভূখন্ড থেকে বিছিন্ন হয়েছে।
এর এটি দেশের প্রধান শুটকি মাছ উৎপাদন কেন্দ্র। এখানকার ম্যানগ্রোভ বন এবং উপকূলীয় বনভূমি, সাগরে গাঢ় নীল পানি, কেয়া বন, লাল কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রকারের সামুদ্রিক পাখি পর্যটকদের মনে দোলা দেয়। এই দ্বীপটি বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির জন্য নির্বাচিত হয়েছিলো। যেখানে যাওয়া যায় কক্সবাজার হতে মাত্র ৩০ মিনিটে অথচ সেন্টমার্টিন ৬/৭ ঘন্টা।
সোনাদিয়া দ্বীপের দুপাশে নীল জলাভুমি আর প্যারাবন। প্রচুর অতিথি পাখি আছে। বনের মাঝখানে দেখার মতো দারুন পথ। কেওয়া বন। যেটা সেন্ট মার্টিন দ্বীপেও রয়েছে । এগুলার দেখা পেয়েছিলাম উপকূলীয় অঞ্চল বলে। প্রায় ২০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বন। এক পাশে লেক। প্রায় দেড় ঘন্টা হেটে বা কক্সবাজার হয়ে স্পীডবোটে সহজেই ৩০ মিনিটেই সোনাদিয়া দ্বীপ এ পৌছা সম্ভব হয়।
আয়তন লম্বায় ৭ কিমি, প্রস্থ আড়াই কি.মি। ২ ভাগে বিভক্ত পূর্ব ও পশ্চিম। সৃষ্টির এক অপুর্ব লীলা। এই দ্বীপের তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতা পাতা ঢাকা বালয়াড়ী তীর, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন। আরো আছে বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি। অজস্র লাল কাঁকড়ার ছড়াছড়ি। আর কচ্ছপ এসে ডিম পাড়ে সাগর কিনারে। আছে গাংচিলের ভেসে বেড়ানো। নীল আর স্বচ্ছ পানি আয়নার মত। এক পাশে জুড়ে আছে কেওয়া বনের সারি।
একদম সাগরের কাছে তীর দিয়ে হাটতে হবে। নাহয় বালিতে পা ডুবে যায়। এই পুরা দ্বীপ জুড়ে বালি। এমনকি দ্বীপের ২ হাজার মানুষের বসতি যেখানে, সেখানেও বালি আর কেওয়া বন। হাটতে শুরু করতেই দেখা পেলাম কাঙ্খিত লাল কাঁকড়া। এরা এত টক টকে লাল হয় বলার মত না। সহজে ছবি তোলা যায়না, টুক করে ৪ পায়ে কার্টুন এর মত দৌড় দিয়ে সাগরে লাফ দিয়ে পড়ে অথবা টুক করে কোন গর্তে ঢুকে পড়ে।
সেন্টমার্টিনে রাতে কচ্ছপের ডিম পাড়ার অপুর্ব দৃশ্য পাবেন না । দ্বীপটির পশ্চিম দিকে সবুজ ঘাসের কার্পেটে মোড়ানো খোলা মাঠ, নির্জনতা ও অফুরন্ত বাতাস, সব মিলিয়ে মন প্রশান্তিতে ভরে যাবে। এই দ্বীপের খোলা মাঠে বসলে মনে হবে যেনো অজানা-অচেনা কোনো দ্বীপে আপনি একা। আপনার পাশে কেউ বসে থাকলেও মনে হবে আপনি একা চারপাশে লাল কাঁকড়ার ছুটাছুটি। সবকিছুই মনে হবে সিনেমার দৃশ্যের মতো।

 

dkalsla
সোনাদিয়া দ্বীপের সূর্যাস্তও অসাধারণ। সন্ধ্যায় সাদা পালক দুলিয়ে সারি সারি বক উড়ে যায় আপন ঠিকানায়। নীল আকাশের কপালে কে যেন দেয় লাল টিপ। আস্তে আস্তে যখন সূর্য হারিয়ে যায় সাগরের বুকে, তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ। এখানে রাত্রিযাপন হতে পারে আপনার জীবনের সেরা রাতের একটি। পৃথিবীতে বিলুপ্ত জাত পাখি চামচঠুটো বাটন একমাত্র দেখা যায় সোনাদিয়া দ্বীপে। রাশিয়া হতে আগত এ পাখির বিচরণ পৃথিবীতে মাত্র ১০০ জোড়া যার অনেকগুলো পাখি সোনাদিয়ার চরে দেখা যায়।
তাই প্রতি বছর পাখি বিশেষজ্ঞ দল কিংবা কচ্চপের পিঠে স্যাটেলাইট স্থাপনকারী সামুদ্রিক গবেষক দল সোনাদিয়া চরে অবস্থান করে।
আরব্য কাহিনীর মনি মুক্তার হিরা পাওয়া যেতো এক সময় এ দ্বীপে। এমনকি বনে মেছো বাঘ, বন মুরগি, কাঠবিড়ালীর দেখা মিলে অনেক সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক প্রাণী বিদ্যার ছাত্ররা এ দ্বীপ হতে জীবিত বা মৃত সাপ নিয়ে গবেষণা করতে প্রতিমাসে সাপ সংগ্রহ করে। বড় বিচিত্র সুন্দরের আধার দ্বীপ, সমুদ্রের গর্জন যেনো কি মায়ায় ডাকে প্রভাতে। এ দ্বীপে যাওয়ার জন্য ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর ও দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাস, ট্রেন বা অন্য কোনো বাহনে করে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার কস্তুরী ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তারপর যেতে হবে মহেশখালী। মহেশখালী গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত পথটুকু যেতে হবে বেবিট্যাক্সিতে করে। মহেশখালীর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙার দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। সেখান থেকে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সোনাদ্বিয়া দ্বীপে যেতে হয়। ঘটিভাঙা নেমে খেয়ানৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই নয়নাভিরাম দ্বীপ সোনাদিয়া ।
কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে মহেশখালী না গেলে ভ্রমণটাই বৃথা আর মহেশখালী যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো সোনাদিয়া দ্বীপ দর্শন। এলাকা ভিত্তিক কয়েকজন যুবক ট্যুরিজম গাইডম্যান হিসাবে কাজ করেন। যাদের পরিচালক আকরাম খান কনক, গিয়াস উদ্দিন। তাদের সাথে সহজে যোগাযোগ করে ভ্রমণ করে আসতে পারেন।
মোবাইল আকরাম খান ০১৮৫০৩৯২৫৩৪/০১৮৩২২৪৮৩০১।