আর্দশ বিদ্যানিকেতন স্কুলে প্রধান শিক্ষকের হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ তুলে দিচ্ছেন কানতারা খান।

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ আর্দশ বিদ্যানিকেতনে

প্রকাশিত :২৭.০৪.২০১৭, ৭:১৬ অপরাহ্ণ

ইসলাম মোহাম্মদ রবি : আজ সারাবেলা ও সুচিন্তা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কার্যক্রমের এবারের আয়োজন ছিল মিরপুরের আর্দশ বিদ্যানিকেতন স্কুলে। অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও আজ সারাবেলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কানতারা খান বলেন, কেন তোমাদের কাছে বঙ্গবন্ধুর, স্বাধীনতার, বাংলাদেশের কথা বলতে হবে? যে তোমাদের, আমাদের, সকলের তার কথা বলবার কি আছে? তবুও আমরা বলতে এসেছি, কারণ তোমরা যেন ভুল জিনিসটা না জান, ভুল ইতিহাস না জান। তাই আজ সারাবেলা ও সুচিন্তা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে তোমরা চাইলেই সব কিছু পাচ্ছো হাতের মুঠোয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, ২৫ই মার্চের কালো রাত, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক প্রামাণ্যচিত্র, সেসময় পত্রিকায় প্রকাশিত অনেক প্রতিবেদন তোমরা পাবে গুগল, ইউটিউবে। ২৬ শে’র সকালে পৃথিবীর প্রায় ৯টা দেশের জাতীয় দৈনিকে বলা হয়েছে ‘মুজিব ডিক্লিয়ারস ইন্ডিপেন্ডেনসি’। সে সময়ের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৫ শে মার্চ রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে বঙ্গবন্ধুর রেকর্ড করা স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ ও ২৭ মার্চ দিনভর প্রচার করা হয়। মূলত ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকেই বাঙালিদের যুদ্ধের প্রস্ততি শুরু হয়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল তথ্যই এখন আমরা পাই ইন্টারনেটে।

ajsarabela

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন কানতারা খান। ছীব: আজ সারাবেলা

কানতার খান আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় ১৪ বছর জেলে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন কেন ছিলেন? উত্তরটা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেও বলেন, ‘আমাদের জন্যে, স্বাধীন দেশের জন্যে’। তৎকালীন সময়ে সকল সুবিধা ভোগ করত পশ্চিম পাকিস্তানীরা। সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তান তথা আমাদের উৎপাদিত পাট রপ্তানি হত, সে টাকা ভোগ করত পশ্চিম পাকিস্তান। ভাল স্কুল, কলেজে তারা পড়ত, আমাদের সে সুযোগ ছিল না। রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা তাদের, আর বঞ্চিত আমরা। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অধিকার আদায়ের নানা আন্দোলোনের জন্য তাকে কারাগারে যেতে হত। তার আন্দলোনের ফসল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, দেশ যার নাম বাংলাদেশ।

তিনি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে মনযোগী হয়ে বই পরার আহ্বান জানাতে জানাতে তার স্ব-রচিত একটি কবিতার কিছু অংশ শোনান –
একটি নাম, শুধু একটি নাম নয়
একটি নির্দেশ, একটি তর্জনী, জন্ম দেয় একটি স্বাধীন দেশকে
একটি নাম, শুধুই কী একটি নাম?
নাকি সাহস, বুকে বলে দেয়, সকল বাঁধা পেড়িয়ে এগিয়ে যাবার
একটি নাম, শুধুই কী একটি নাম?নাকি আস্থা, ভরসা দেয় শিখড়ে পৌঁছাবার…
বলতে বলতে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় শিক্ষার্থীদের মাঝে- বলতো এই একটি নাম কার? সকল শিক্ষার্থীরা এক সাথে বলে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

প্রতিবারের মত এবারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। শাহ্জাহান দেওয়ান। এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ অভিজ্ঞতার নানান দিক তুলে ধরেন।

বক্তব্যের শুরুতে শিক্ষার্থীদের ৩টি প্রশ্ন করেন, আমাদের জাতির পিতা কে? এদেশের নাম কী? স্বাধীন হবার আগে এদেশের নাম কী ছিল? শিক্ষার্তীরাও পর্যায়ক্রমে উত্তর দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ এবং পূর্ব পাকিস্তান। সকলে মিলে হাততালি দেয় তখন।
তিনি আরও বলেন, আসলে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকেই। নয় মাসের যুদ্ধে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, না খেয়ে থেকেছি, আহত হয়েছি, চোখের সামনে মরে যেতে দেখেছি আপন ভাগিনা’কে তবুও হাল ছাড়িনি, কারণ বঙ্গবন্ধুর সেই ঘোষণা- ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ সাহস এবং দেশপ্রেম জুগিয়েছে।

যুদ্ধের গল্প বলছেন মুক্তিযোদ্ধা শাহ্জাহান দেওয়ান। ছবি: আজ সারাবেলা

যুদ্ধের গল্প বলছেন মুক্তিযোদ্ধা শাহ্জাহান দেওয়ান। ছবি: আজ সারাবেলা

যুদ্ধের অভিজ্ঞতা শোনাতে শোনাতে তিনি শিক্ষার্থীদের আরও বলেন, জয় বাংলা বুকে ধারণ করে যুদ্ধ করেছি জিন্দাবাদের বিরুদ্ধে। জয় বাংলা কোন শ্লোগান ছিল না, ছিল শক্তি। বঙ্গবন্ধু না থাকলে বাংলাদেশের জন্ম হত না। তাই দেশকে ভালোবাসো, মানুষকে ভালোবাসো, আর এখন থেকেই প্রস্তুত হও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্যে।

অনুষ্ঠান শেষে ‘আজ সারাবেলা’র পক্ষ থেকে আর্দশ বিদ্যানিকেতন স্কুলে প্রধান শিক্ষক আলম মেহেদী হোসেনের হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ তুলে দেন কানতারা খান।

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এই কার্যক্রমের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নীলসাগর গ্রুপ।