ahsan-habib-lalin 2
প্রকৌশলী আহসান হাবিব লেলিন।

‘প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই যোগ্যতা রয়েছে, সেটা খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বড় এন্টারপ্রেনারশিপ’

প্রকাশিত :২৯.০৪.২০১৭, ৬:২১ অপরাহ্ণ

প্রকৌশল বিদ্যার মেধাবী মানুষ আহসান হাবিব লেলিন। বাবা অধ্যাপক, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। সততা, মেধা আর পরিশ্রমে দশ হাজারেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন। আলোকিত করেছেন অবহেলিত উত্তরবঙ্গ। গড়ে তুলেছেন নীলসাগর গ্রুপ। মহান মে দিবস উপলক্ষে ‘আজ সারাবেলা’র মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রকৌশলী আহসান হাবিব লেলিন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জব্বার হোসেন

আজ সারাবেলা : আপনি একজন সরকারি প্রকৌশলী ছিলেন, কী মনে করে সরকারি চাকরিটা ছাড়লেন?

আহসান হাবিব লেলিন : আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাবা কলেজের অধ্যাপক। আমরা চার ভাই বোন। ২০০০ সালে সরকারি চাকরিতে ঢুকলাম, তখন ছোট বোন ঢাকা ইউনিভার্সিটি, ছোট ভাই দশম শ্রেণীতে পড়ত। তাদের দায়িত্বও সঠিকভাবে পালন করতে পারছিলাম না। যে বেতনটা পেতাম তা দিয়ে সংসার চলত না। যেটা আমাকে পীড়া দিচ্ছিল। বাবা শখ করে প্রকৌশলী বানালো, অথচ ছোট ভাই বোনেরই যদি দায়িত্ব নিতে না পারি তাহলে এ চাকরি করে লাভ কী। তখন মনে হলো, চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করব। চেষ্টাতো করি, তাহলে নিজেকে বলতে পারব, আমি অন্তত চেষ্টাটা করেছি। সাফল্য ব্যর্থতা সেতো পরের বিষয়।

আজ সারাবেলা : তারপর আপনি ব্যবসা শুরু করলেন। শুরুটা কিভাবে? একটা টার্নিং পয়েন্ট বলবেন কী?

আহসান হাবিব লেলিন : মূলত ইঞ্জিনিয়ারদের কাজটা কি? ইঞ্জিনিয়াররা ইনফ্রাকষ্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করে। কারো জন্য বিল্ডিং করা, রাস্তা করা, বিদ্যুতের লাইন বসানো এসব। সরকারি-বেসরকারিভাবে এ কাজগুলে হয়। তখন মনে হলো, এধরনের কাজ আমি সতন্ত্রভাবে কিভাবে নিজে নিতে পারি, করতে পারি। ২০০০ সালে আমি সর্বসাকুল্যে বেতন পেতাম ১০ হাজার টাকা। দশ হাজার টাকা মানে বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। মনে হলো, সারা বছর ঘুরে ঘুরে ১০ লাখ টাকারও কাজ যদি করতে পারি, সেখান থেকে ১০% লাভ যদি হয় তাহলেও তো আমার বেতনের টাকা উঠিয়ে আনতে পারি।

এভাবে কিছুদিন চেষ্টা করার পর মনে হলো, একটু একটু সফলতার দেখা পাচ্ছি।
আমি দেখলাম, বাংলাদেশে কাউকে চাকরি দেওয়াটা একটা কঠিন কাজ। কিন্তু কাজ নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। যখন বেকার, তখন এক বড় ভাইয়ের কাছে আমাকে পাঠানো হলো, গেলাম। গুলশানে। দেখলাম উনি খুব বিব্রতবোধ করছেন। বললেন, লেলিন, চাকরির বাজার খুব কঠিন, দেখি কি করা যায়। আমি তখন তাকে বললাম, আমাকে কোন একটা কাজ দিন। উনি খুব উৎফুল্ল হলেন। বললেন, তুমি কাজ করবা? বললাম করব, যেকোন কাজ। উনি আমাকে একটা বিল্ডিং রঙ করার কাজ দিয়েছিলেন। এভাবে আমি ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করলাম। ধীরে ধীরে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংকেরও অনেক কাজ করি। যখন আমার কাজ অন্যদের থেকে ভাল হতে লাগল, আরো ভাল কাজ পেতে লাগলাম।
যখন অবস্থা একটু ভাল হলো, তখন পরিবারের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে পারছি। তখন চিন্তা করলাম, আমার আশপাশের লোকজনকে নিয়ে আরও কাজ করা যায় কিভাবে। আমি আসলে কোন জিনিস বড় করে ভাবি না, ছোট ছোট করেই কাজ করার চিন্তা করি। যখন এগ্রোবেইজ ব্যবসায় আসলাম, আমার দুই বন্ধুকে নিয়ে চিন্তা করলাম। ভাবলাম দুই বন্ধুকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায়, কাজে লাগানো যায়। চিন্তা করলাম, দুই হাজার মুরগির একটা ছোট প্রজেক্ট করি। এখানে হয়তো দশ লাখ টাকা ইনভেস্ট হবে। দুই হাজার মুরগি মাসে ১৫শ-১৬শ ডিম দিবে। ষোলশ ডিম থেকে এক টাকা করে আসলেও মাসে ৪০-৪২ হাজার টাকা হবে। এই টাকা দিয়ে হয়তো দুই বন্ধু ও আমার পরিবারের সাপোর্ট হবে।

আমি কখনোই শুধু পয়সার চিন্তা করিনি। আমার চিন্তাভাবনা ছিল মানুষগুলোকে নিয়ে। কিভাবে পরিবারের সদস্যের দায়িত্ব পালন করতে পারি সৎ থেকে। তারপর মনে হয়েছে আশপাশের লোকজনের প্রতি কিভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। যখন ব্যবসায় নামলাম, দেখলাম ব্যবসাটা খাতা কলমে হিসেব করে সবসময় হয় না। হিসেবটা সবসময় পরিবর্তন হয়। ওইটাকে সাসটেইন করতে গিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়ালাম।
মুরগির ব্যবসা করলাম, দেখা গেল বার্ডফ্লু হলো। বার্ডফ্লুটা প্রটেক্ট করতে গিয়ে মনে হলো, মুরগিটা কে ছড়িয়ে দিতে পারলে ভাল হতো। দু’হাজার মুরগিকে যদি তিন জায়গায় দেওয়া যায় তাহলে একটা জায়গায় ব্লার্ডফ্লু হলো বা দুই জায়গায় বার্ডফ্লু হলো, আরেকটা জায়গা সেভ থাকলো।

এভাবেই এগ্রোবেইজ ব্যবসায় আসা। যখন দুইটা বন্ধু প্রভাইড হলো, তখন মনে হলো আরেক বন্ধুর জন্য কোন প্রজেক্ট করা যায় কিনা। আসলে বাঁচার প্রয়োজনেই কাজের পরিধি বাড়াতে হয়েছে। একা বাঁচার জন্য নয়, সবাইকে নিয়ে বাঁচার প্রয়োজনে।

 

আজ সারাবেলা : নীলসাগর নামটা কিভাবে বা কেন, বিশেষ কোন কারণ আছে?

আহসান হাবিব লেলিন : ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভাল একটা নাম খুঁজছিলাম। নীলফামারী খুবই অবহেলিত। জন্মের পর থেকেই দেখছি, আমাদের এদিকের লোকজনের চাওয়া পাওয়া, দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছুই খুব ছোট আকারে। আমরা বেশি দূর বা বড় চিন্তাভাবনা করতাম না। চিন্তা করলাম, এমন একটি নাম দিব, যা নামটা আমার কোম্পানি ও নীলফামারীকে রিপ্রেজেন্ট করবে। নীলফামারীতে ঐতিহাসিক একটি জায়গা রয়েছে। দর্শনীয় স্থান। যার নাম নীলসাগর। এটা পর্যটনের অধিনেই ছিল। কিন্তু সেভাবে কেউ তুলে ধরে নাই। আমি চাইলাম, কোম্পানির নাম যদি নীলসাগর দেই তাহলে নীলফামারীকে যেমন রিপ্রেজেন্ট করা হবে তেমনি নামটা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যাবে। এ চিন্তা থেকেই নীলসাগর। এটা এলাকার প্রতি টান বলতে পারেন, ভালবাসার জায়গা থেকেও বলতে পারেন।

নীল সাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবিব লেলিন।

নীল সাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবিব লেলিন।

আজ সারাবেলা : আপনি ব্যবসার জন্য নিজ এলাকাকে বেছে নিলেন কেন?

আহসান হাবিব লেলিন : শুরুতেই বলেছি, আমি ফিনানসিয়াল দিকটা নয়, ইমোশনাল দিকটা গুরুত্ব দিয়েই ব্যবসায় এসেছি। সবসময় ভেবেছি, আমি কারো সন্তান, কারো ভাই, কারো প্রতিবেশি। দেশকে নিয়ে আগে ভাবার চেয়ে আমার পাড়া, ওয়ার্ড, আমার ইউনিয়ন এভাবে ভাবার কারণে মনে হয়েছে নীলফামারী কেন্দ্রিক হতে হবে। আমার পাড়া থেকেই তো আমার দেশ।

যে কোন জিনিস করতে গেলে একটা বিশ্বস্ত টিম প্রয়োজন। যে ব্যবসা করতে যান না কেন, আগে আপনাকে টিম তৈরি করতে হবে। যদি আরেক এলাকায় করতাম তাহলে আমার টিমটা গুছাতে সময় লাগতো। এখানেতো সবই আমার এলাকার পরিচিত। মনে হয়েছে ভাই, বন্ধু, চাচাতো ভাই, মামাত ভাই, আমার পাড়ার লোক যদি থাকে তাহলে বন্ডিংসটাও ভাল হবে। তাদের যে জিনিসটা বুঝাতে পেরেছি, দেখ এটা খুব রিক্সি গেইম। জিততেও পারি, হারতেও পারি। হারলেও তারা আমাকে দায় দিত না। হয়তো বলতো, চেষ্টা করেছে লেলিন ফেল করেছে। যে সুযোগ সুবিধা আমি নীলফামারীতে পাব, সেটা আমি বাইরের এলাকায় নাও পেতে পারতাম।

আজ সারাবেলা : না কি শ্রম অনেক সস্তা সেটি অন্যতম একটি কারণ?

আহসান হাবিব লেলিন : সেটা আমি অস্বীকার করছি না। জমি এবং শ্রম দুটোই সস্তা। বিনিয়োগের পরিবেশ যদি বলি সেটাও অনেক নিরাপদ। অন্যান্য এলাকায় দেখা যায়, চাঁদাবাজি আছে, মাস্তানি আছে যেটা এ এলাকায় নেই। সবচেয়ে বড় কথা, এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে হবে, যেটা সারাদেশের জন্য উদাহরণ হয়েও থাকবে।

আজ সারাবেলা : আপনি খুব দক্ষ লোকদের নেননি, অদক্ষ লোকদের ডেভেলপ করেছেন। এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে?

আহসান হাবিব লেলিন : আমি ব্যবসাটা শুরুই করেছি এলাকার এই এই লোককে প্রভাইড করতে হবে বলে। তাদের আমি তৈরি করেছি। দেখেন, মুরগির ব্যবসাটা কেন শুরু করলাম? দেখলাম, এ জায়গায় দক্ষতার প্রয়োজনটা কম। মুরগিকে ঠিক মত খাওয়াতে হবে, যত্ন নিতে হবে- এটা হচ্ছে ইমোশনের ব্যাপার। অনেক বেশি দক্ষতার ব্যাপার নয়। তাহলেই মুরগি ডিম দিবে, বড় হবে, বিক্রি করা যাবে।
আমাকে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে বলেছে যে, আপনার এ লোকগুলো চলবে না। আমি তাদের বলেছি, ‘এদের’ দিয়ে যদি না চলে আমার প্রতিষ্ঠানই লাগবে না। প্রতিষ্ঠান করেছি এ লোকগুলোর জন্য। যারা কাজ করে তাদের একটা জিনিস বুঝিয়েছি, ফলো দ্যা কমান্ড উইথ ডেডিকেশন এন্ড ওনেস্টি। আমি আরেকটা কথা বলি, পুতিগত বিদ্যা একটা লোকের যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না।

আমাদের মুরগি, মাছ, ফিড বা সিডের ব্যবসা যাই বলি, এই ব্যবসা যদি হানড্রেড পারসেন্ট প্রফেশনাল ওয়েতে করেন তাহলে আপনি সফল হতে পারবেন না। এখানে ইমোশনাল একটা ব্যাপার আছে। যে কাজটা করবে সে যদি ওউন না করে তাহলে এ ব্যবসা কখনও দাঁড়াবে না। কারণ, ধরেন দুই হাজার মুরগি। তার মধ্যে আঠারশো মুরগি ডিম পাড়ে। এর মধ্যে বিশটা ত্রিশটা ক্যাক বের হবে। লোকটা যদি আন্তরিক না হয়, তখন ক্যাকের সংখ্যা আরো বাড়বে। ফলে এখানে দরকার হলো নিজের লোক। আন্তরিক লোক। যার উপর আপনি নির্ভর করতে পারবেন। এখানে প্রত্যেকে প্রতিষ্ঠানকে নিজের বলে মনে করেন, এ ওউনারশিপটা তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। যেটা একটি প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি। আমি অদক্ষ মানুষকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছি। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই যোগ্যতা রয়েছে, সেটা খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বড় এন্টারপ্রেনারশিপ।
আমাদের যখন দুই হাজার মুরগি, তখন এমডি পেত ১০ হাজার টাকা। ডিরেক্টর পেত ৮ হাজার টাকা। আমরা ধীরে ধীরে ডেভেলপ করেছি, ফলে সবারই ডেভেলপ হয়েছে। যে ছেলেটা এখানে প্রথমে চাকরি করেছে মাসে হয়তো সে তিন হাজার টাকা পেয়েছে। যখন দুই হাজার থেকে চার হাজার মুরগি হয়েছে, তখন ছেলেটির বেতন হয়তো ছয় হাজার টাকা হয়েছে।

আমি তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছি। তারা বুঝতে পেরেছে নীলসাগর গ্রুপের উন্নয়ন মানে আমাদের উন্নয়ন। যেটা গত দশ বছর ধরে ধীরে ধীরে হয়েছে।

ahsan-habib-lalin_ajsarabela

নীল সাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবিব লেলিন।

আজ সারাবেলা : সারা দুনিয়া জুড়েই এন্টারপ্রেনারশিপ বিষয়ে পঠন পাঠন হচ্ছে। কিন্তু বলা হয় ‘এন্টারপ্রেনারশিপ’ ব্যক্তির মধ্যে থাকতে হয়। একজন এন্টারপ্রেনার হিসেবে কি মনে হয় আপনার?

আহসান হাবিব লেলিন : এটা ব্যক্তি ও তার পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। সে কি মনে করছে, তার কিছু করার অনুভূতি ও প্রয়োজনীয়তা সে কতটা অনুভব করে সেটা বিচার্য।
আমাদের একটা গতানুগতিক ধারণা, ব্যবসা করতে টাকা লাগে। শুধু ক্যাশ টাকাই টাকা নয়। আপনার চিন্তা, পরিকল্পনা, উদ্দ্যেম, পরিশ্রমের মানসিকতাও কিন্তু টাকা। এসবও কিন্তু আপনার মূলধন। আপনার বিনিয়োগ। আমরা সম্পর্ককে মূল্য দেই না। একটা সম্পর্কও কখনও কখনও সম্পদ হতে পারে। মূলধন যে কেবল টাকা নয় এটা এন্টারপ্রেনারকে বুঝতে হবে। পুরনো ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেও যে, উদ্দ্যোক্তা হওয়া সম্ভব তার প্রমাণ আমি নিজেই।
আজ সারাবেলা : সম্প্রতি বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। এটা বিনিয়োগে কতটা প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন?
আহসান হাবিব লেলিন : বাংলাদেশ এখন সারা দুনিয়াতে সফলতার মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ দেশের মানুষ সবসময়ই এগিয়ে যাওয়া মানুষ। এ দেশের মানুষ হারতে শিখেনি। এখানে হারতে হারতে মানুষ জিতে যায়। জীবনের যে সংগ্রাম, বেঁচে থাকার যে লড়াই এটা মাটি থেকেই শিখেছে। প্রকৃতি হোক, মানুষ হোক, যে-ই বিরুপ আচরণ করুক, এখানে মানুষ রুখে দাঁড়াবেই। ব্যবসার ক্ষেত্রে বাইরের দেশ, বাইরের মানুষের একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। আমরা প্রতিনিয়তই তাদের কাছ থেকে শিখছি এবং নিজেকে আমরা ডেভেলপ করছি।
সম্প্রতিক ঘটনাগুলো কিন্তু তাদের মারাত্মকভাবে উদ্ধিগ্ন করেছিল। কিন্তু পাশাপাশি এটাও সত্য আমরা জঙ্গি দমনে সফলতার উদাহরণও হয়েছি। বাংলাদেশ সরকার, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রত্যেকে যথেষ্ঠ দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জঙ্গি দমনে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফলে বাইরের বন্ধুরাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমরা জঙ্গি দমনে হানড্রেড পারসেন্ট সামর্থ্য রাখি। একেক দেশের কালচার, একেক দেশের ওয়েদার সবই কিন্তু আলাদা। আজকে মধ্যপ্রাচ্যে যে ছেলেটা জঙ্গি হচ্ছে তার প্রেক্ষাপট কিংবা ইউরোপ, আমেরিকায় যে জঙ্গি হচ্ছে তার প্রেক্ষাপট আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এক না। এদেশের প্রতিটা মানুষ যে পরিমাণ দেশকে ভালবাসে, পৃথিবীর অন্য কোথাও এধরনের নজির আছে বলে আমি মনে করি না।
আমরা দেশকে ভালবাসি, আমরা ’৭১-এ দেশকে স্বাধীন করেছি। এ দেশটাকে আমরা অনেক রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি। গুটিকয়েক মানুষের চক্রান্ত বা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আমার দেশের স্বাধীনতার ফসলকে ভূলণ্ঠিত করতে পারে না। আমরাই অন্যান্য দেশের কাছে মডেল হিসাবে দেখাতে পারব কিভাবে জঙ্গি দমন করতে হয়।

আজ সারাবেলা : আপনি তো দীর্ঘদিন ধরে এগ্রোবেইজ কাজ করছেন। মাটি, মানুষকে নিয়ে কাজ করছেন। এদেশের মানুষের মূল শক্তির জায়গাটা কি বলে আপনার মনে হয়?

আহসান হাবিব লেলিন : এদেশের মানুষ সত্যিই উদ্দ্যমী। দেখবেন ঝড় আসে, বন্যা আসে। সব ভাসিয়ে নেয়, শেষ হয়ে যায়। সেই ভাঙা মানুষ আবার উঠে দাঁড়ায়। ঐ যে বললাম, হারতে হারতে মানুষ জিতে যায়। এটাই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমার কাছে মানুষ, আর মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সবচেয়ে মূল্যবান। তাই মানুষকে নিয়ে, মানুষের জন্য কাজ করে যেতে আমার ভাল লাগে। যে কোন একজন শ্রমজীবী মানুষের মুখে যদি হাসি দেখি সেটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি দামি। তাই অবহেলিত মানুষদের নিয়েই আছি, কাজ করছি এবং তাদের নিয়েই থাকতে চাই।

আজ সারাবেলা : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আহসান হাবিব লেলিন : আপনাকেও।