নৃত্য পরিবেশন করছেন কীর্তি রামগোপাল
নৃত্য পরিবেশন করছেন কীর্তি রামগোপাল

‘ভরতনাট্যমের জনপ্রিয়তার জন্য দু’দেশের শিল্পীদের আসা-যাওয়া বাড়ানো দরকার’

প্রকাশিত :০৩.০৫.২০১৭, ৮:৫০ অপরাহ্ণ

২২ এপ্রিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে হয়ে গেল ব্যাঙ্গালুরুর ভরতনাট্যম শিল্লী কীর্তি রামগোপালের একক নৃত্যানুষ্ঠান। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যেসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভরতনাট্যম পরিবেশন করছেন। সম্প্রতি ‘সাধনা’র শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভরতনাট্যমের উপর কর্মশালা পরিচালনা করেন। আজ সারাবেলার সঙ্গে এই মেধাবী, আলোকিত শিল্পীর আলাপচারিতায় উঠে আসে ভরতনাট্যমের নানা দিক।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমিনা নীতু

আজ সারাবেলা: কেমন আছেন আপনি?
কীর্তি রামগোপাল: ভাল। আপনি কেমন আছেন?
আজ সারাবেলা: জি ভালো। এবার বাংলাদেশে কততম সফর আপনার?
কীর্তি রামগোপাল: চতুর্থবার আসা এবার নিয়ে। প্রথম এসেছিলাম ২০১২ সালে। চারবার এলেও দ্বিতীয়বার পারফর্মেন্স করছি এবার।
আজ সারাবেলা: প্রথম বারের আসা আর এবারের মধ্যে কি ধরনের পার্থক্য দেখেছেন?
কীর্তি রামগোপাল: প্রথমবার বাংলাদেশে এসেছি ২০১২ সালে। নৃত্যশিল্পী লুবনা মরিয়মের আমন্ত্রণে। চারদিন ছিলাম। দুই দিন কর্মশালা করিয়েছি। যদিও খুব অল্প সময় ছিলাম, কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি। তাদের আগ্রহ ও পরিশ্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখন বাংলাদেশে ভাল ভরতনাট্যম শিল্পী আছে। খুব ভাল করছে তারা। চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে। এখানকার অমিত চৌধুরী ভরতনাট্যমের খুব ভাল শিক্ষক। পাশাপাশি শাম্মী আকতার, জুযেইরিযাহ মৌলি বেশ ভাল করছে। ভরতনাট্যমের নান্দনিক বিষয়গুলো যত্ন ও মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করা হচ্ছে। এছাড়া দর্শকের আগ্রহ অনেক বেড়েছে নাচ নিয়ে। এই অনুভূতি নিয়ে আমি ফিরে যাবো। এটা আমার খুব ভাল লাগবে।

আজ সারাবেলা: কোন কোন শিল্পীর পরিবেশনা আপনার ভাল লাগে?
কীর্তি রামগোপাল: ভাল লাগার কথা বললে অবশ্যই আমার গুরু শংকর কাদরা সামায়া’র কথা বলব সবার আগে। তিনি আমার রোল মডেল, খুব সিনিয়র আর্টিস্ট। আমি তার আর্ট ফর্মের অনুরাগী। এছাড়া শ্রীমতি পাদ্মিনী রামচন্দন ও শ্রীমতি প্রিয়দর্শীনী গোবিন্দ তাদের কথা বলতেই হবে। ভরতনাট্যম অভিনয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শ্রী ব্রাঘা ব্রাসেল থেকে অভিনয় শিখছি, তিনি ভরতনাট্যম অভিনয়া’র জন্য বিখ্যাত একজন গুণী শিল্পী।
আজ সারাবেলা: বাংলাদেশে ভরতনাট্যম কতদূর এগিয়েছে এবং জনপ্রিয় করবার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
কীর্তি রামগোপাল: ঠিক কতদূর এগিয়েছে তা আমি সুনির্দিষ্ট করে হয়তো বলতে পারবো না- তবে আগের চেয়ে অনেকদূর এগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবার বাংলাদেশে এসে। আর জনপ্রিয় করাবার জন্য দু’দেশের শিল্পীদের আরো বেশি আসা-যাওয়া বাড়ানো দরকার। ভরতনাট্যম নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা যেতে পারে। অনেক সিনিয়র শিল্পী আছেন তাদেরকে আমন্ত্রণ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের শিল্পীরাও ব্যাঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ে আসতে পারেন। চর্চা ও পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই নৃত্যটি আরো প্রসারিত হবে। এসময় নতুনরা বেশ ভাল করছে। তারা অনেক নিবেদিত এবং পরিশ্রমী। এছাড়া শেখার সুযোগ গুলো বাড়ানো দরকার। অনলাইন, স্কাইপি শিক্ষার মাধ্যমগুলো কাজে লাগানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে ভরতনাট্যম ভিত্তিটা আডাভু, আলারিপ্পু বেশ ভাল থাকতে হবে, এই জায়গাগুলোতে নজর দিলে মনে হয় জনপ্রিয় হয়ে উঠার বেশ সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ সারাবেলা: ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পের একটি সুপ্রাচীন ও সমৃদ্ধ শাখা, পরিবর্তিত সময়কে কীভাবে তুলে ধরা যায় এই আর্ট ফর্মের মাধ্যমে, অপনার মতামত জানতে চাচ্ছি?
কীর্তি রামগোপাল: আপনি জানেন ভরতনাট্যম প্রাচীন, গতিশীল ও প্রাণপ্রাচুর্যে পূর্ণ একটি আর্ট ফর্ম। ছন্দ, গীতি, ও অভিব্যক্তির মাধ্যমে বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই এটি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ হয়ে এসেছে। ভরতনাট্যমের মুদ্রাগুলো ভাল থাকতে হবে। এছাড়া আলারিপ্পু, শব্দম, বর্নম, যতিস্মরমও তিলানা ভিত্তি ভাল থাকলে নতুন নতুন বিষয়গুলো তুলে ধরা যায়।

আজ সারাবেলা: এই শিল্পের উন্নয়নের জন্য আর কোন পরামর্শ?
কীর্তি রামগোপাল: দেখুন, যেকোন শিল্পের সমৃদ্ধির জন্য পৃষ্ঠপোশকতা প্রয়োজন। তাই সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে শিল্পমাধ্যমের বিকাশে। ভারত সরকার নাচের উপর বিভিন্ন বৃত্তি প্রদান করছে। ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনেরও কিছু বৃত্তি রয়েছে। এখানে সরকার যদি আরো সহযোগিতা প্রবণ হয় তাহলে এই শিল্প মাধ্যমকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব বলে মনে হয় আমার কাছে।
আজ সারাবেলা: সময় দেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
কীর্তি রামগোপাল: আপনাকেও।