অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন কানতারা খান
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন কানতারা খান

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ নৌবাহিনী কলেজে

প্রকাশিত :০৪.০৫.২০১৭, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

ইসলাম মোহাম্মদ রবি : আজ সারাবেলা ও সুচিন্তা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কার্যক্রমের এবারের আয়োজন ছিল মিরপুরের বাংলাদেশ নৌবাহিনী (বিএন) কলেজে। অনুষ্ঠানে অংশ নেয় কলেজের প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- বিএন কলেজের প্রিন্সিপাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন এম মোছলেউদ্দিন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, রাজনীতি বলতে বুঝতাম শুধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন একাদশ শ্রেণীর ছাত্র আমি। তার ৭ই মার্চের ভাষণ প্রেরণা জুগিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। যোগ দেই মুক্তিযুদ্ধে। আগরতলার একটি ক্যাম্পে লেফট-রাইট শুরু করি। ক্যাম্পে সারাদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো হতো। শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম সেখান থেকে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের প্রজন্ম স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এদেশ এমন সাজানো গোছানো ছিল না। তোমাদের শেকড়’কে জানতে হবে। দেশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় অবদান রাখতে হবে, তৈরি করতে হবে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র।তার স্ব-রচিত কবিতা ‘গল্পে গল্পে মুজিব’ শুনিয়ে বক্তব্য শেষ করেন ক্যাপ্টেন এম মোছলেউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও আজ সারাবেলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কানতারা খান তার বক্তব্যে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬’দফা ও ৬৯’র গণঅভ্যুথানের পটভূমি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে।

তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশে ফিরবেন তখন লন্ডন, দিল্লী হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল। সে সময় ঢাকার ফ্লাইট ছিল না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ্’র বাসভবন টেন ডাউনিং স্ট্রিটে কোন অতিথি গেলে তার গাড়ির দরজা খুলে দেবে একজন সেনা কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রী করমর্দন করে স্বাগত জানাবে- এটাই রীতি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যখন এডওয়ার্ড হিথ্’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনে যান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজে বঙ্গবন্ধুর গাড়ির দরজা খুলে স্বাগত জানান। বিষয়টি ব্রিটিশরা ভালোভাবে নিতে পারেনি তখন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সমালোচনার ঝড় উঠে- প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশদের সম্মানহানী করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ্ পার্লামেন্টে বলেন, ‘আমি ব্রিটিশদের অসম্মানিত করিনি বরং সম্মানিত করেছি। যিনি স্বপ্ন দেখেন এবং তা পূরণ করে দেখিয়েছেন। একটি জাতির স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আমি সম্মান দেখিয়েছি তার কর্ম ও নেতৃত্বকে।’ পরে সবার ভুল ভাঙে।

কানতারা খান আরো বলেন, ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে একমাত্র বঙ্গবন্ধুই বাংলায় ভাষণ দেন। তিনি বাংলা এবং বাঙালিকে সবসময়ই সর্বোচ্চ মর্যাদায় স্থান দিয়েছেন। কিন্তু এ জাতির সবচেয়ে বড় বেদনার জায়গা ৭৫’র ১৫ই আগস্ট। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কিছু পথভ্রষ্টদের হাতে খুন হতে হলো। হত্যা করল পরিবারের সবাইকে, তারা মায়া করেনি ছোট্ট শিশু রাসেলকেও। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে আছেন তার দুই কন্যা- নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশকে, বিশ্ব দরবারে আত্মমর্যাদাশীল করে দাঁড় করিয়েছেন বাংলাদেশকে।

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে তোমরা চাইলেই সব কিছু পাচ্ছো হাতের মুঠোয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, ২৫’শে মার্চের কালো রাত, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক প্রামাণ্যচিত্র, সেসময় প্রকাশিত পত্রিকার অনেক প্রতিবেদন পাবে গুগল, ইউটিউবে। তাই বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যেকোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুগল করো এবং মনযোগী হয়ে বই পরার অভ্যাস গড়ে তোলার আহবান জানান কানতারা খান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবনের কিছু অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র মো. সালাউদ্দিন শান্ত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন এম মোছলেউদ্দিনের হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ তুলে দিচ্ছেন কানতারা খান

বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন এম মোছলেউদ্দিনের হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ তুলে দিচ্ছেন কানতারা খান

অনুষ্ঠান শেষে ‘আজ সারাবেলা’র পক্ষ থেকে বিএন কলেজের প্রিন্সিপাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন এম মোছলেউদ্দিনের হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ তুলে দেন কানতারা খান।

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এই কার্যক্রমের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নীলসাগর গ্রুপ।