Ma-er-Haq

সন্তানের প্রতি মায়ের অধিকার

প্রকাশিত :১৪.০৫.২০১৭, ২:৩৪ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : সন্তানের সফলতা লাভের মানদণ্ড হলো মা। কারণ সন্তানের গর্ভধারণ, প্রসব ও স্তন্যদানের মতো কষ্টকর কাজটি মাকেই করতে হয়। দীর্ঘ প্রায় ১০মাস গর্ভেধারণ; জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গর্ভে ধারণ করা সন্তানকে প্রসব করার পর দীর্ঘ দুই বছর যাবত স্তন্যদান অত্যন্ত কষ্টকর।

যখন ধরণী শীতে কাঁপে থরথর; গ্রীষ্মে যখন ঘামে কলেবর তখনও মা তাঁর সন্তানকে শীতের ঠাণ্ডা ও গরমের ঘাম থেকে নিরাপদ রাখতে দিন-রাত অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্তান প্রসবের পর মায়ের এ অক্লান্ত পরিশ্রমই তাকে অধিকার পাওয়ার শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যার মর্যাদা ফুটে উঠেছে বিশ্বনবির হাদিসে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি সর্বাগ্রে কার সঙ্গে সদাচরণ করব?

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমার মায়ের সঙ্গে।
লোকটি প্রশ্ন করল, তারপর? উত্তর এলো তোমার মায়ের।
লোকটি আবার জানতে চাইল অতঃপর কে?
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবারও জবাব দিলেন তোমার মায়ের।
ওই লোক চতুর্থবার একই প্রশ্ন করলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেন, তোমার পিতা।` (বুখারি ও মুসলিম)

অন্য হাদিসে মায়ের অধিকার ও মর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মায়ের দোয়া অতি দ্রুত আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।

আল্লাহ বান্দার সব গোনাহ ইচ্ছমতো ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু মাতা-পিতার অবাধ্যতার গোনাহ আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না। বরং ওই অবাধ্য সন্তানকে এই পার্থিব জীবনের মৃত্যুর আগে শাস্তি দিয়ে থাকেন। (বায়হাকি)

আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করার পর মায়ের অবাধ্য হওয়া এবং তাকে কষ্ট দেয়া দ্বিতীয় বড় অপরাধ। হাদিসে প্রিয়নবি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা মায়ের অবাধ্য হওয়াকে তোমাদের (সন্তান) জন্য হারাম করে দিয়েছেন। (মুসলিম)

মায়ের অধিকার ও মর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরা আল্লাহ তাআলা তাঁর অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে মাতা-পিতার অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করবে না এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে (বিরক্তসূচক শব্দ) ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ভর্ৎসনা করো না; বরং তাদের সঙ্গে বলে সম্মানসূচক নরম কথা। (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৩)

এ আয়াতে আল্লাহর ইবাদতের পর পরই মাতা-পিতার প্রতি উত্তম আচরণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ থেকে মাতা-পিতার আনুগত্য ও তাঁর খেদমত করার এবং তাদের প্রতি আদব ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রতিয়মন হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর বিধি-বিধান ও দাবি পূরণের সঙ্গে সঙ্গে মাতা-পিতার দাবিসমূহ পূরণ করাও আবশ্যক। আল্লাহ তাআলার নিকট ওই ব্যক্তি সন্তোষভাজন হবে যে বা যারা মাতা-পিতার প্রতি শ্রদ্ধার দাবিসমূহ পূরণ ও প্রাপ্য অধিকার আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হবেন।

যারা শৈশবে মাকে হারিয়েছেন। তারা কিভাবে মায়ের হক আদায় করবেন। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাস্তব জীবনেই তা ঘটেছে। তিনি শৈশবেই তার মা জননীকে হারান।

তিনি তাঁর দুধ মা হজরত হালিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে সম্মান করতেন। যখন তিনি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসতেন। তখন তিনি তাকে দেখামাত্রই সম্মান জানিয়ে ওঠে দাঁড়াতেন। তাঁর সম্মানে নিজের পাগড়ি অথবা গায়ের চাদর বিবি হালিমাকে বসার জন্য বিছিয়ে দিতেন। (আবু দাউদ)

আল্লাহ তাআলা মাতা-পিতার জন্য দোয়া করাকেও অধিকার ও কর্তব্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। মাতা-পিতার জন্য কিভাবে দোয়া করতে হবে তাও তিনি শিখিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো; এবং বলো- হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া কর; যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছে।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৪)

মায়ের প্রতি যথাযথ অধিকার পালনে সদাচরণ করা এবং তাঁর শিখানো ভাষায় মাতা-পিতার জন্য দোয়া করাও সন্তানের প্রতি মায়ের অধিকার। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মায়ের যথাযথ অধিকার সংরক্ষণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।