কামরুল হাসান নাসিম
কামরুল হাসান নাসিম

চাকর বাকরদের লেখা ‘ভিশন’ দিয়ে উন্নয়নের রাজনীতি অসম্ভব: কামরুল হাসান নাসিম

প্রকাশিত :১৬.০৫.২০১৭, ৫:৫২ অপরাহ্ণ

কামরুল হাসান নাসিম, যিনি গত ৯ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে নিজেকে বিএনপির ‘আপদকালীন মুখপাত্র’ হিসেবে দাবী করে আসছেন। বিএনপির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বিএনপি পূর্নগঠন ও মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার দাবিতে দলীয় বিপ্লবের অংশ হিসেবে হরতাল ডেকেছেন ১৭ মে। তার দৃষ্টিতে বিএনপির ভেতর বাহির, পূর্ণগঠন, জামায়াতের সম্পৃক্ততা, সাম্প্রতিক বিএনপির ভিশনসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আজ সারাবেলার সঙ্গে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রবিউল ইসলাম রবি

আজ সারাবেলা: ১৭ মে হরতালের ডাক দিয়েছেন, বিএনপি পূর্নগঠনের দাবীতে। এই দিনটি কেন এবং সাধারন জনগণ বিএনপি পূর্নগঠনের জন্য কেন হরতাল পালন করবে?

কামরুল হাসান নাসিম: ১৭ মে দিনটি বেছে নেবার আলাদাভাবে কোন কারণ নেই। সামনে পবিত্র রমজান। তাই দলীয় বিপ্লবের মহড়া হিসেবে রমজানের আগে দিনটিকে বেছে নেয়া। আপনারা জানেন দলীয় বিপ্লবের অনেকগুলো মহড়া এর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এটা দলীয় বিপ্লবের শেষ মহড়া যা আমরা হরতাল আঙ্গিকে গিয়েছি।

আজ সারাবেলা: বিএনপি পূর্নগঠন হঠাৎ করে জরুরী মনে করছেন কেন?
কামরুল হাসান নাসিম: এটা এখন সময়ের দাবী, হঠাৎ নয়। আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করছি। এটি ৫ম ও শেষ মহড়া। দলটির রুগ্ন অবস্থা পর্যবেক্ষন করছি অনেক দিন ধরেই। জাতীয়তাবাদী থেকে জামায়াতেবাদী হয়ে পড়া দলটির বিপর্যয় ঢেকে এনেছে, এটি বিএনপির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। বিএনপির ৫টি অসুখ বা রোগ আমরা চিহ্নিত করেছি। আপনাদের হয়ত মনে আছে, প্রখ্যাত লেখক ড. হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, যার প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক হবার যোগ্যতা নেই, সে আবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বসে আছেন। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে আমরা তাকে মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সঠিক পথেও নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও দলটি এখন আর বিশ্বাস করে না। দল পরিচালনাতেও রয়েছে ব্যর্থতা। জনস্বার্থে রাজনীতি করা হচ্ছে না। বিদেশি শক্তির উপর নির্ভর করছে। সহিংসতাকে হাতিয়ার মনে করছে। নামে বলা হচ্ছে জাতীয়তাবাদ কিন্ত কর্মে তা মোটেও নেই। থাকলে জামায়াতকে সবার আগে ছাড়ত।

আজ সারাবেলা: বিএনপি’র সাম্প্রতিক ‘ভিশন’ নিয়ে কী বলবেন?

কামরুল হাসান নাসিম: আমি গবেষনা করে দেখেছি, মাত্র সাত বছর লাগবে বাংলাদেশকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিনত করতে। আওয়ামী লীগও জনগণের সামনে ভিশনের নামে মূলা ঝুলিয়েছে। আর বিএনপি নতুন করে ভিশন শব্দটা ব্যবহার করে সহযোগিতা করছে আওয়ামী লীগকে। এটা এক ধরনের আপোষ। খালেদা জিয়া সংসদে ৬০-৭০ টা আসন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী হতে চান। এটাই এখন তার বড় চাওয়া। তিনি দলটির ক্ষতি করছেন অথচ একটা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ নেবার যোগ্যতা রাখি। কথিত ভিশন নিয়ে মেতে উঠেছে সবাই।

nasim 1

আজ সারাবেলা :আপনি বিএনপি পূর্নগঠনের কথা বলছেন, সে দায়িত্বটি কে দিয়েছে আপনাকে? যদি একটু স্পষ্ট করে বলেন…

কামরুল হাসান নাসিম: আপনাকে কেউ দায়িত্ব দেবে না। আপনি দেশের নাগরিক, যদি আগে ধানের শীষে ভোট দিয়ে থাকেন, যদি একজন রিকশাওয়ালাও হোন, তাহলেও আপনার অধিকার রয়েছে আপনার সমর্থিত দলের ভুল ধরিয়ে দিয়ে তা পূর্নগঠনের দাবী রাখার। সেই উদ্যোগ আমি নিয়েছি। আমি কেবল একাই নেইনি, দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছি। আর তারাতো নিজেরাই স্বীকার করেছে, তারা মেরুদন্ডহীন। তাহলে আমি কেন দাবী জানাবো না পূর্নগঠনের?

আজ সারাবেলা: আপনি আগে এবং এখনো বিএনপির কোন কোন নেতৃবৃন্দ আপনার সঙ্গে আছে তা স্পষ্ট করে বলেননি। সুনিদিষ্ট করে বলবেন, বিএনপির কে কে রয়েছে আপনার সঙ্গে?

কামরুল হাসান নাসিম: দেখুন। আমি আসলে কারো নাম বলতে চাই না। বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সমর্থকরা যদি এই আন্দোলনে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের ক্যারিয়ারে ধ্বস নামবার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই মুহুর্তে কোন সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নাম বলতে চাই না। তবে তাদের চিন্তা, আবেগ, সমর্থন আমার সঙ্গে রয়েছে এইটুকু পরিস্কার করে বলতে চাই। বেগম জিয়ার পরিবার থেকে দলটিকে বের করে আনবার জন্য তারা প্রত্যেকে ভেতরে ভেতরে আগ্রহী।

আজ সারাবেলা: আপনি বিএনপির ‘আমরা’ বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন?

কামরুল ইসলাম নাসিম: প্রতিটি দলে কিছু চাকুরি করা লোক থাকে। গণমাধ্যম সবসময় সেই সব লোকের মন্তব্য, বক্তব্য শুনতে চায়। আমি কোন চাকরি করা লোক নই। বিএনপি পূর্নগঠনের উদ্দ্যোক্তা। আমার সঙ্গে বিএনপির তিন থেকে চার কোটি লোক রয়েছে। একটি পরিবারের হাতে বিএনপি বন্দি। আমি সেই ক্ষমতাবান পরিবারের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছি। বিপ্লব সফল হতে পারে আবার ব্যর্থ হতে পারে। সবার ঝুকি নেবার সমান সাহস থাকে না। একজন তরিকুল ইসলামের, বা একজন মির্জা আব্বাসের, বা একজন জেনারেল মাহবুবের, বা একজন এম কে আনোয়ারের ঝুকি নেবার সাহস নাও থাকতে পারে। আমি তাদের কথা বলে তাদের বিপদে ফেলতে চাই না। তবে সবাই আমার সঙ্গে আছেন, আমি সংখ্যাগরিষ্ঠ।

আজ সারাবেলা: আপনি বিএনপি ভাঙ্গনের চেষ্টা করছেন, আপনি নিজেও কি ঝুকির মধ্যে নেই?

কামরুল হাসান নাসিম: আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিএনপি ভাঙ্গার নয় গড়ার একজন আমি। আপদকালীন মুখপাত্র। পূর্নগঠনের উদ্দ্যোক্তা। বিএনপি চাইলেই কেউ ভাঙ্গতে পারবে না। সেটি ভাঙ্গবার চেষ্টা আগেও অনেকবার হয়েছে। আমি কিছু নেতা নিয়ে বের হয়ে এসে নতুন করে কোন দল করছি তা কিন্তু নয়। আমি যে বিএনপি রুগ্ন, অসুস্থ হয়ে পড়েছে তার চিকিৎসা করে সুস্থ করতে চাইছি। আমাদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে বার বার ৪৫ বছর পেছনে চলে যান। বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি সামনের দিকে চিন্তাই করতে পারেন না। বলা হচ্ছে, ২০ দলীয় জোট কিন্তু আসলে ২ দলীয় জোট। জামায়াত আর বিএনপি। জামায়াত সন্ত্রাসী সংগঠন। দলটি কিছুতেই বাংলাদেশকে ধারণ করে না। ফলে এই জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি বেশিদূর যেতে পারবে না। অনেকবার বলেছি আমি নেতৃত্বে আসতে চাই না। আমার পেশাগত ও সাংস্কৃতিক জীবন রয়েছে। আমাকে নিয়ে ভুল বুঝবার কোন অবকাশ নেই।

আজ সারাবেলা: খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপি, সেটা কতটা যৌক্তিক এবং সম্ভব?

কামরুল হাসান নাসিম: আমি কিন্তু একবারও খালেদা জিয়াকে বাদ দেবার কথা বলিনি। তিনি আমাদের মায়ের মতন। তার যোগ্যতা কম কিন্তু অভিজ্ঞতা রয়েছে। উনার কাছে প্রয়োজনে যেতে হবে উনার পরামর্শ নিতে হবে, যোগ্যতা না থাক অভিজ্ঞতা তো রয়েছে। উনি ইর্ষাপরায়ণ হয়ে পুত্রবধু জোবায়েদা কেও রাজনীতিতে আনলেন না। দলের মধ্যে নূন্যতম গনতন্ত্র বলতে কিছু নেই। চাকর বাকর দিয়ে লেখানো ‘ভিশন’ দিয়ে আর যাই হোক কোন উন্নয়নের রাজনীতি হতে পারে না। মানুষ অতো বোকা না।