বনানীতে ধর্ষণের আসামি নাঈম আশরাফ মুন্সীগঞ্জে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :১৮.০৫.২০১৭, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : বনানীতে ধর্ষণের আসামি নাঈম আশরাফ বা হাসান মোহাম্মদ হালিম মুন্সীগঞ্জে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের হালিম নাম ভাঁড়িয়ে ঢাকায় নাঈম আশরাফ নামে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন বলে ধর্ষণের

অভিযোগ ওঠার পর প্রকাশ পায়।

এই ধর্ষণ মামলার আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান শাফিক গত ১১ মে সিলেটে গ্রেপ্তার হন।

তার চার দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার আরও দুই আসামি সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী এবং গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন কে।

তার দুদিনের মাথায় পালিয়ে থাকা অন্য আসামি হালিম বা নাঈমকে গ্রেপ্তারের খবর জানাল পুলিশ।

পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, “পুলিশ সদর দপ্তরের একটি টিম আজ (বুধবার) রাত পৌনে ৯টার দিকে

নাঈম আশরাফকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে।”

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম বলেন, “নাঈম চান্দেরবাজার এলাকায় দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল।”

এনিয়ে আলোচিত এই ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের ১১ দিনের মধ্যে পাঁচ আসামির সবাই গ্রেপ্তার হলেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে সাফাত ও নাঈম দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বাকি তিনজন ছিলেন সহকারী।

আসামিদের মধ্যে সাদমান রেগনাম গ্রুপ ও পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে।

রেইনট্রি হোটেলটির মালিক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বি এইচ হারুনের সন্তানরা।

নাঈম আশরাফ, যিনি নাম ভাঁড়িয়ে ছিলেন বলে প্রকাশ পেয়েছে নাঈম আশরাফ, যিনি নাম ভাঁড়িয়ে ছিলেন বলে প্রকাশ পেয়েছে
গত ৬ মে মামলার পর গণমাধ্যমে নাঈমের ছবি দেখে তাকে হালিম বলে শনাক্ত করেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের গাইন্দাইল গ্রামের বাসিন্দারা।

হালিম ওই গ্রামের ফেরিওয়ালা আমজাদ হোসেনের ছেলে। এলাকায় প্রতারক হিসেবে তার পরিচয় ছিল।
গ্রামবাসী জানায়, হালিম প্রভাবশালী বিভিন্ন জনকে তার বাবা পরিচয় দিয়ে নানা সুবিধা আদায় এমনকি বিয়েও করেছিল দুই বার।

ঢাকায় এসে নাঈম আশরাফ নাম নিয়ে ‘ই-মেকার্স’ নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে ২০১৪ সালে ভারতের জনপ্রিয়

কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের আয়োজন করেন তিনি।

২০১৬ সালে ঢাকায় ভারতের আরেক শিল্পী নেহা কাক্কারকে নিয়ে ‘নেহা কাক্কার লাইভ ইন কনসার্ট’ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেন নাঈম বা হালিম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাঈম বিভিন্ন জনের সঙ্গে নিজের সেলফি দিতেন, যা সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা

হত বলে এখন মনে করছেন ওই ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা।

নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে হালিম এলাকায় পোস্টার-ব্যানারও লাগাতেন; যদিও সংগঠনে তার কোনো পদ ছিল না

বলে জানান স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাজীপুরের নেতারা।

আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতের সঙ্গে নাঈমের নিবিড় ঘনিষ্ঠতার কথা সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারাহ মাহবুব পিয়াসাও জানিয়েছেন।

সাফাত সব সময় নাঈমের কথায় চলতেন বলে পিয়াসার ভাষ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাঈমের নিজের পাতায় সাফাতের বাড়িতে

পারিবারিক আবহে ছবিতে তাকেও দেখা যায়।

 

অভিযোগকারী তরুণীদের দাবি, সেদিন রেইনট্রি হোটেলে তাদের সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

নাঈম ও সাফাত ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের নির্যাতনও করেন। পা ধরে নিস্তার চাইলেও তারা ছাড়া পাননি।

 

আ-সা/ছামিউল/জাতীয়