ডা. জাকির হোসেন
ডা. জাকির হোসেন

মেয়ে, কেন তুমি আত্মহত্যা করবে?

প্রকাশিত :২২.০৫.২০১৭, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
  • ডা. জাকির হোসেন

নীলা আমার কাছে আসে পেট ব্যথা নিয়ে। সব কিছু ভালভাবে পরীক্ষা করে মনে হয় পেপটিক আলসার। সেভাবেই তাকে আলসারের চিকিৎসা দেই। তার পেট ব্যথা ভাল হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রায় প্রায়ই চিকিৎসা নিতে আসে নীলা। মাঝে মাঝে ফোন করেও চিকিৎসা বিষয়ে পরামর্শ নেয়।

একদিন রাত বারোটায় সে আমাকে ফোন করে জানায় পেট ব্যথায় খুব অস্বস্থিবোধ করছে। সেদিন চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার পর দেখা করার জন্য এপয়েনমেন্ট দিলাম তাকে। পরের দিন সে আসে। এসে আমাকে যা জানায়, তাতে আমি রীতিমত বিস্মিত। সে দুই তরুণের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়েছে। এক পর্যায়ে দুই তরুণকে প্রত্যাখ্যান করে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর জানতে পারে ব্যবসায়ীর এটা ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। আগের সংসারে ঐ ব্যবসায়ীর ছেলে মেয়ে সবই আছে। সব কিছু জানার পর নীলা ব্যবসায়ী স্বামীকে নিজ থেকেই ডির্ভোস দিয়ে বাবার সংসারে চলে আসে।

জীবনের এই টানাপড়েনে নীলা অস্থির হয়ে ওঠে। আত্মঘাতি হতে চায়। সে যখন পেট ব্যথার চিকিৎসা নিতে এসেছিল সেটা ছিল তার সুসাইডাল প্রবণতার লক্ষণ। হাতের কাছে যেসকল ওষুধ সে পায়, প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে সকল প্রকার সিডেটিভ, খেয়ে আত্মহত্যা করতে চায়। তাকে বোঝালাম অনেকক্ষণ। কিছুতেই বুঝতে চায় না সে। কয়েকবার কথা বলার পর বুঝলাম তার একটা চাকরি দরকার। সহায়তার আশ্বাসও দিলাম।

পরে একটা চাকরির ব্যবস্থাও করেছিলাম। যদিও সে যোগদান করার কথা বলে আর যোগদান করেনি। সমাজে প্রায় প্রতিদিন প্রেমে ব্যর্থতা, প্রতারণা, ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে অবহেলা- এমন নানা কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা একটু আশঙ্কাজনকভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আত্মহত্যা তো কোন সমাধানের পথ হতে পারে না। সম্পর্কে ভাঙা গড়া থাকবেই। জীবন বহতা নদীর মত, সম্পর্ক ভাঙবে, আবার নতুন করে গড়বে অন্য কারো সঙ্গে। তাই বলে আত্মঘাতি হবে কেন মানুষ?

সময় কিংবা পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী মানুষের চরিত্রের রং বদলাতেই পারে। কেউ আমাকে আজ তীব্র ভালোবাসি বলে, কাল একই রকম ভালোবাসা না থাকলে আমার সামনের পথ অন্ধকার হয়ে যাবে এমন ভাবাটা বোকামি ছাড়া কিছু না।

মনে রাখতে হবে, জীবন ফুরালে সে জীবন আর পাওয়া যাবে না। যত দুঃখ বেদনা সব জীবনেরই অংশ। তাই জীবনকে উপভোগ করুন। অবসাদগ্রস্ততায় প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নতুন করে রঙিন করে সাজান জীবনকে।

(লেখাটিতে ‘নীলা’ ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে)

 

লেখক : চিকিৎসক ও কলামিস্ট