images

তাকওয়া অর্জনের উদ্দেশ্যেই রোজা

প্রকাশিত :৩১.০৫.২০১৭, ৪:১৯ অপরাহ্ণ

আমানুল্লাহ নোমান

 

তাকওয়া কি: হযরত উমর (রা.) তাকওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে হযরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, আপনি কি কণ্টনকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করেছেন? হযরত উমর (রা.) বলেন, হ্যাঁ। উবাই ইবনে কাব পুনরায় প্রশ্ন করেন, তখন আপনি কি করেছেন? জবাবে উমর (রা.) বলেন, আমি সাবধানতা অবলম্বন করে দ্রুত গতিতে ঐ পথ অতিক্রম করেন তাকে বলা হয় মুত্তাকি। ইসলামী নৈতিকতায় তৃতীয় স্তর হচ্ছে তাকওয়া।

তাকওয়া বলতে সাধারণত আল্লাহ ভীতি বুঝায়। অথচ তাকওয়া অর্থ কেবল ভয়ভীতি বুঝায় না। ভয়-ভীতির আরবি প্রতিশব্দ ‘খওফযন’ ও ‘খাশিয়াতুন’। প্রকৃতপক্ষে তাকওয়া আরবি ‘ওয়াকিইয়া’ ও ‘ইয়াকেয়ি’ থেকে এর অর্থ বাঁচা, আত্মরক্ষা করা বা নিস্কৃতি ইত্যাদি হয়ে থাকে। অর্থাৎ আল্লাহর ভয়ে ও তার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যাবতীয় অপরাধ, অন্যায় ও অপছন্দনীয় চিন্তা, কথা ও কাজ থেকে আত্মরক্ষার মনোভাবকে তাকওয়া বলা হয়।

তাকওয়ার ক্ষেত্র বা পরিধি : তাকওয়ার ক্ষেত্র সীমাহীন বিস্তৃত। আল্লাহ ঈমানদারদেরকে ডেকে বলেন ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর যেমন ভয় করা উচিত এবং আত্মসমর্পণকারী হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করিও না। সূরা আলে ইমরান : ১০২।
মানবজাতি স্বভাবতই নগদে বিশ্বাসী। দুনিয়ার ক্ষণকাল গড়ে ৬০-৭০ বছর। শাস্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার সাথে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ তার মেধা, যোগ্যতা ও শ্রম পুরোপুরি বিনিয়োগ করে। কিন্তু পরকালের সীমাহীন জীবনের জন্য তার সময় ও শ্রম কতটুকু ব্যয় হয়? আল্লাহ কি মানুষের মনের গোপন অবস্থা জানেন না? সব ভিতরের খবর রাখেন না? যাবতীয় কার্যকলাপ দেখেন না? আল কুরআন এসব প্রশ্নের সুন্দরতম উত্তর দিয়েছে।

(১)
মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তায়ালকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত আগামীকালের জন্য সে কি প্রেরণ করে তা চিন্তা করা। আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে খবর রাখেন। সূরা হাশর : ১৮
(২)
হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের কি হয়েছে যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হতে বলা হয় তখন তোমরা পৃথিবীকে জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি সামান্য। সূরা আত্তাওবা : ৩৮
(৩)
আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের অন্তরের সব বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন সূরা মায়েদা : ৭
(৪)
আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ নিশ্চয় আল্লহ সব বিষয়েই জানেন। সূরা বাকারা : ২৩১
(৫)
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর মনে রেখ নিশ্চয়ই আল­াহ তোমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ দেখেন।

তাকওয়া অবলম্বনের প্রতিদান : প্রত্যেক মানুষ তার জীবনে প্রত্যাশা করে স্বাচ্ছন্দ, পর্যাপ্ত রিজিক, কাজকর্মে সহজসাধ্যতা, ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় নিরাপত্তা এবং পরকালের সফলতা। আর মানুষের এসব চাওয়া-পাওয়া পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।

১. রিযিক প্রদানের প্রতিশ্রুি
যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য চলার পথ করে দেন এবং রিজিকের ব্যবস্থা এমনভাবে করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। সূরা তালাক : ৩

২. কাজকর্ম সহজ করা হয়
যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন। সূরা তালাক : ৪

৩. গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়ার ওয়াদা
হে ঈমানদারগণ ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। বস্তুত আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত অসীম। সূরা আনফাল : ২৯

৪. আসমান ও জমিনের নেয়ামত উন্মুক্ত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি
যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনতো এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো, তবে আমি তাদের প্রতি আসমান ও জমিনের নিয়ামতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম। সূরা আরাফ : ৯৬

৫. ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করার অঙ্গীকার
‘যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তাদের কোন ষড়যন্ত্র তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।’ আলে ইমরান : ১২০

৬. সুসংবাদ প্রদান
‘তোমাদেরকে অবশ্যই তার সাক্ষাতে মিলিত হতে হবে এবং তোমরা জেনে রাখ তোমাদেরকে জবাবাদিহি করতে হবে। আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও। সূরা বাকারা : ২২৩