CPD

প্রস্তাবিত বাজেটে উৎপাদন ও ভোক্তা ব্যয় বাড়বে: সিপিডি

প্রকাশিত :০২.০৬.২০১৭, ২:৪৯ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে উৎপাদন ও ভোক্তা ব্যয় বাড়বে বলে মনে করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এতে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। ফলে আগামী অর্থবছরে মূলস্ফীতি বাড়বে বলে আশঙ্কা করে সংস্থাটি।

আজ শুক্রবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা করে সিপিডি এ কথা বলেছে। রাজধানীর গুলশানে গুলশানে লেকশোর হোটেলে এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে ভ্যাট আইন কার্যকর করাসহ বেশ কিছু পণ্যের উপর কর ও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্ট্রাচার্য বলেন, ভ্যাট আইনসহ সামগ্রিক কর কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তা ব্যয় বাড়বে। এছাড়া চালের দামও বাড়ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।  অন্যদিকে রপ্তানী আয় ও রেমিটেন্স কম আসায় টাকার বিপরীতে ডলারের দাম আরও বেড়ে যাবে। ফলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে যাওয়া আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের কারণে মধ্যব্ত্তি ও নিম্ম মধ্যবিত্তদের উপর করের চাপ বেশি পড়বে।

তিনি বলেন, বাজেটের আয়-ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবায়নের দিক থেকে অনেক ফারাক রয়েছে। আবার প্রতি বছর বাজেটের আকারও বাড়ছে। এমন কিছু অনুমানের ভিত্তিতে বাজেট করা হয়েছে যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। ফলে বাজেটে আর্থিক ভ্রমের সৃষ্টি হয়েছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজর রহমান বলেন, বাজেটে কিছু কিছু ক্ষেতে নির্বাচনমুখী পদক্ষেপ রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে বিপরীতমূখীতাও রয়েছে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে ১৫ শতাংশ ভ্যাট চালু করা হয়েছে। এটি ১২ শতাংশ করার দাবি ছিল। আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যকে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা কম। অন্যদিকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ পণ্যকে নতুন করে সম্পূরক শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে। এতে পণ্যগুলোর দাম বাড়বে।

তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে রপ্তানী ও রেমিটেন্সের যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়। আগামী দুই মাসে রপ্তানী আয় ২০ শতাংশ এবং রেমিটেন্স আয় ৪৫ শতাংশ বাড়ার প্রাক্বলন রয়েছে। এটি একেবারেই অবাস্তব। এর ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের অন্যদের  মধ্যে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতন, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।