golobal

চলতি অর্থবছর জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত :০৫.০৬.২০১৭, ১:৫২ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : আজ সোমবার চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবার এই প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বললেও বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে।

গত অর্থবছরে (২০১৫-১৬) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১ শতাংশ থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। তবে অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে তা দাঁড়িয়েছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশে।

আজ সোমবার বিশ্বব্যাংক থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টসে’ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনেও চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ধরেছিল সংস্থাটি।

বিবিএসের সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়, চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশে থাকবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সব বিশ্লেষণ করে প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন ৬ দশমিক ৮ শতাংশেই স্থির রেখেছে বিশ্বব্যাংক।

এ ছাড়া আগামী অর্থবছরের জন্য (২০১৭-১৮) প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলছে সংস্থাটি, যা এর আগে সাড়ে ৬ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছিল তারা। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংক বলছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও চলতি বছর বাংলাদেশে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে কৃষি ও সেবা খাত চাঙা থাকার কারণে। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও শিল্প উৎপাদনের পরিস্থিতিও এখন ভালো। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস শক্ত অবস্থানেই থাকছে। আগামী অর্থবছরগুলো অর্থাৎ ২০১৮-১৯ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে থাকবে।

তবে ঝুঁকিগুলোর বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে, আগামী বছরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল আর্থিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহে মন্দা থাকায় কিছুটা উদ্বেগ থাকছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে মন্দা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ধস দেখা দিলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ভোগ, চাহিদা ও বিনিয়োগেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।