অাশরাফুল আলম খোকন

দেশের উন্নয়ন একমাত্র শেখ হাসিনা’র দ্বারাই সম্ভব

প্রকাশিত :১৪.০৬.২০১৭, ৬:০১ অপরাহ্ণ
  • আশরাফুল অালম খোকন
    উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই । বিশ্বে যেকোনো জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইলে প্রথম শর্তই হচ্ছে নিজেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে যেতে হবে । বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সেই গন্তব্যের দিকেই নিয়ে যাচ্ছেন । বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন । বঙ্গবন্ধু কন্যা কিংবা আওয়ামী লীগের দেশি বিদেশী কট্টর সমালোচকরাও এই সত্যকে স্বীকার করেন ।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৫ টি সম্ভাবনাময় দেশের মধ্যে অন্যতম । আর তা সম্ভব হয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনা’র ভিশনারি নেতৃত্বের কারণেই । বিএনপি নেতারাও অভিযোগ করে বলেন , সরকার উন্নয়ন দেখিয়ে গণতন্ত্রকে দাবিয়ে রাখতে চায় । এটা যদিও তাদের নিতান্তই রাজনৈতিক অভিযোগ । কারণ তারা দেশে সবখানেই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন । এমনকি অগণতান্ত্রিক এবং অরাজনৈতিক সংস্কৃতি সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে দেশে শত শত জীবন্ত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে ।

যাই হোক আগের কোথায় আসি । উন্নয়ন করতে গেলে অন্যতম শর্ত হচ্ছে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে । সিঙ্গাপুর লি কুয়ানএবং মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদরা পেরেছেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন বলেই । তখন ওদের দেশের সুশীল সমাজও গণতন্ত্র , দুর্নীতি , লুটপাট অনেক অনেক অভিযোগ করেছে কিন্তু কিছুই ধোপে টেকেনি ।

বর্তমান সরকারের সময় সকল সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এটা যেমন কট্টর সমালোচকরা স্বীকার করে , আবার উন্নয়ন করে ভারতীয় উপমহাদেশের এই দেশগুলোতে ভোটের ফলাফল ঘরে তোলা যায় না এটাও তেমনি সত্য । খুব বেশি দূরে না যাই , উন্নয়নে ভোট আসলে বরিশালের প্রয়াত সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ কিংবা রাজশাহীর সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন কখনো পরাজিত হতেন না ।

আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি , বঙ্গবন্ধু কন্যার একনিষ্ঠ কর্মী তারা যদি শুধু উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে ভোটের রেজাল্ট পক্ষে আনার চেষ্টা করি এটা হবে মারাত্মক ভুল । মনে রাখা উচিত , আগামী নির্বাচনে কমপক্ষে ২৫-৩০ শতাংশ হবে তরুণ ভোটার । যাদের বয়স হবে ২২/২৩ বছর । এরা কিন্তু বিএনপি – জামাতের দুঃশাসন দেখেনি । তাদের দেশ লুটপাটের রাজনীতি দেখেনি । ঐসময় তাদের বয়স ছিল ১২/১৩ বছর কিংবা এরও নিচে ।

তারা দেখেনি , নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে ২০০১ এর পর বাবার কোল থেকে কন্যাকে কেড়ে নিয়ে চোখের সামনে ধর্ষণ করা হয়েছে । অসহায় বাবা বলতে বাধ্য হয়েছেন , আমার মেয়েটা অনেক ছোট আপনারা একজন একজন করে আসেন । এই ন্যক্কারজনক ঘটনা এই প্রজন্ম জানেনা ।
তারা জানেনা , শুধু ধানের শীষে ভোট না দেয়ার কারণে দেশব্যাপী কিভাবে মহিমা -পূর্ণিমা – ফাহিমারা ধর্ষিত হয়েছে । গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে , ঘর বাড়ি , জমি , পুকুর , এমনকি হালের বলদ কেড়ে নেয়া হয়েছে । সংখ্যালগু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে এসেছিলো অকথ্য নির্যাতন । দেশের বিভিন্ন জায়গায় লঙ্গর খানা খোলা হয়েছিল নির্যাতিত মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ।

এই প্রজন্ম জানেনা, দেশে কিভাবে বিএনপি জামাত সরকারের তত্ত্বাবধানে শায়খ রহমান , বাংলা ভাইদের মাধ্যমে দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছিলো । কিভাবে আওয়ামীলীগের ২৪০০০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে ওই প্রজন্মতো দূরে থাক , আমি নিশ্চিত আওয়ামীলীগের তরুণ অনেক নেতা কর্মীরাও তা জানেনা ।

সুতরাং আমরা যদি শুধু শেখ হাসিনার উন্নয়নের উপর ভরসা করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাই এটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না । মনে রাখবেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার দ্বারা এই দেশের উন্নয়ন হবে এটা অস্বাভাবিক কিছুনা । এই দেশের উন্নয়ন করা ছাড়া ওনার সামনে বিকল্প কোনো পথও খোলা নেই । কারণ , বাংলাদেশ যদি কোনোদিন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয় , তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর জন্য দায়ী করবে কিন্তু আওয়ামীলীগকে , বঙ্গবন্ধুকে । বলবে দেশকে স্বাধীন করেছে ঠিকই কিন্তু গড়তে পারেনি ।

সুতরাং এই অপবাদ থেকে জাতির পিতাকে মুক্তি দিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা কখনোই চাইবেন না এই দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হোক , নিজের বাবার ইমেজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হোক ।একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনের জন্যই বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন । তাঁর আমৃত্য স্বপ্ন ছিল একটি উন্নত দেশ গঠন করা ।

সুতরাং এই দেশের উন্নয়ন একমাত্র শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব । এটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত , কারণ এর আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা শুধু লুটপাট করেছেন আর নিজেদের ভাগ্য গড়েছেন ।

 

লেখক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র উপ-প্রেস সচিব।