ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধে আইন সংশোধন হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত :১৮.০৬.২০১৭, ৩:১৬ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে কঠোর শাস্তির বিধান করে বিদ্যমান আইনের সংশোধন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে নাসিম আরও বলেন, ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের জনবল বৃদ্ধির ব্যবস্থাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, লাইসেন্সবিহীন ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গকারী ফার্মেসি এবং নকল, ভেজাল, মিসব্রান্ডেড, মেয়াদোত্তীর্ণ, আন-রেজিস্টার্ড ও অবৈধ ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত ওষুধের নকল কিংবা ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আসছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ভেজাল, নকল ও মানহীন ওষুধ বিক্রি বন্ধে দেশের বিভাগীয় শহরসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মডেল ফার্মেসি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে ১৭৫টি ফার্মেসিকে মডেল ফার্মেসি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের সহায়তায় ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, নকল ওষুধ চিহ্নিতকরণ এবং ওষুধের নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্যে বিক্রয়ের বিষয়ে অনলাইনভিত্তিক রিপোর্টিংয়ের জন্য ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শীর্ষক একটি প্রকল্পের কার্যক্রম বর্তমানে পাইলটিং পর্যায়ে রয়েছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আবদুল মুনিম চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতিসংঘের এমডিজি-৪ ও ৫ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সর্বাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার এ খাতে এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও এসবের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিবরণ তুলে ধরে তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি ৬ হাজার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রস্তাবিত কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১৩ হাজার ৪০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে চালু করা হয়েছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার’ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ই-হেলথ কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ডিজিটাল হেলথ ফর ডিজিটাল ডেভলপমেন্ট’ পুরস্কার দিয়েছে।