ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দাবিকারী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দাবীকারী দূর্বৃত্তটি কে?

প্রকাশিত :১৮.০৬.২০১৭, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

আজাদ সিরাজী : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দাবিকারী একব্যক্তি কর্তৃক শুক্রবার রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় পঞ্চাশোর্ধ বাসচালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তাকে পা ধরে মাফ চাওয়ানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। আজ সারাবেলার অনুসন্ধানে জানা যায়, সেই ব্যক্তি আদৌ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন।

ভিডিওর সূত্র ধরে দেখা যায়, নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দাবিকারী রিয়াদ তানসেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। রিয়াদ তানসেনের সঙ্গে উক্ত ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে নিজেকে ভিডিওর ব্যক্তি নন বলে দাবি করেন।

রিয়াদ তানসেনের প্রোফাইল পিকচার

রিয়াদ তানসেনের প্রোফাইল পিকচার

তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি হয়তো আমার মতো দেখতে, কিন্তু আমি নই। বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই বিব্রতকর অবস্থায় আছি’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ভিডিওটি আমি এখনও দেখিনি। তবে কেউ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘আর তদন্তে যদি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রমাণিত হন তবে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শুক্রবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় ওই যুবকের গাড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্টিকার লাগানো ছিল। এই স্টিকার শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর আমজাদ হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারের ফটোকপি এবং ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া স্টিকার অনেক অপরাধীরা ব্যবহার করে থাকে। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।

ভিডিওতে একটি কালো রঙের গাড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো দেয়া স্টিকার দেখা যায়। স্টিকারটি আসল নাকি ফটোকপি তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দাবিকারী রিয়াদ তার সদ্য কেনা গাড়িটি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার পর ওই বাকবিতন্ডায় জড়ান।

এরকম সন্দেহজনক স্টিকারযুক্ত কোন গাড়ি দেখলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা এবং এসব বিষয়ে সঠিক তথ্য না জেনে তাদেরকে ঢাবির শিক্ষক পরিচয় দিয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।

প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির শার্টের কলার ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করছেন কালো পাঞ্জাবি পরিহিত এক ব্যক্তি।
এসময় নিজেকে ‘এলাকার মাস্তান’ বলেও হুমকি ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে পঞ্চাশোর্ধ বয়সী ব্যক্তিকে পায়ে ধরে মাফ চাওয়ায় ওই পাঞ্জাবি পরা ওই ব্যক্তি।
এরপর ভিডিওটি মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। অনেকে বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ারও দাবি তোলেন।

এদিকে, রিয়াদ তানসেনের ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যায় তিনি ভাইরাল হওয়া ভিডিও শেয়ার করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘এই ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে সেটা আমি নই। এটি যারা আমাকে ভেবে ছড়াচ্ছে তারা ভুল করছে। এটি আমার জন্য একটি মান-হানীকর বিষয়ই শুধু নয় চাকুরীর ক্ষেত্রেও সমস্যা। আপনারা এটি বন্ধ করুন। অন্যাথায় আইসিটি এ্যাক্ট আইন ৫৭ ধারা মোতাবেক আমি মামলা করতে বাধ্য হবো।’

‘অন্তরা স্কলাস্টিকা গোমেজ’ নামের একজন রিয়াদের টাইমলাইনে পোস্ট করেন ‘স্যার, আপনি পুলিশের হেল্প নিয়ে লোকেশন ট্র্যাকিংএর ব্যবস্থা করুন । লোকেশন ট্র্যাক করে প্রভ করে দিন যে আপনি ওখানে তখন উপস্থিত ছিলেন না। আর নিজের কথাগুলি রেকর্ড কওে একটি ভিডিও বানান।

তাতে আপনার আর ওই লোকটার ভয়েস আর কথা বলার স্টাইলের ডিফারেন্সটা ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

tanshen-2

রামিম আহমেদ নামে একজন রিয়াদের পোস্টে কমেন্ট করেন, ‘এটা যে আপনি সেটার যুক্তি নিচে দিলাম ।

#আপনি ১১ তারিখ গাড়ী কিনেছেন আর তার দুই তিন পর এই সমস্যা ।

#আমরা জানি জারা নতুন গাড়ী কিনে তাদের নতুন অবস্থায় গাড়ীর প্রতি মায়া বেশি থাকে আর রাস্তায় এক্সিডেন্টও বেশি করে ।

# আর আপনার মাথায় চুল নাই ওই লোকের মাথায় ও চুল নেই ।

# নতুন গাড়ী কিনলে গাড়ীর প্রতি মানুষের মায়া থাকে আর সেই মায়া থেকে আপনি বাস ড্রাইভার কে আপনার পা ধরেতে বাধ্য করিয়েছেন ।

#নিচে আমি একটা ছবি মারকিং করে দিয়েছি সে খানে আপনার চুলের চিপ আর ভিডিও তে থাকা জানোয়ারের চুলের চিপের কোন অমিল নেই।

#তারপর আপনার মাথার চুলের সেপ আর ওই ভিডিও তে যে ছিলো ওনার সেপ এক । নিজে কে দোষী স্বীকার করে সবার কাছে মাফ চান । আরো প্রমান দিতে পারতাম কিন্তু এত সময় নেই ।

সময় থাকতে ভালো হন সাপোর্ট দিবে জনগণ