আবগারি-শুল্ক

আবগারি শুল্ক কাটা হবে অন্য নামে!

প্রকাশিত :১৯.০৬.২০১৭, ৫:১৪ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক: আবগারি শুল্ক কাটা হবে ঠিকই। নাম হবে ভিন্ন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঘোষনা দিলেন, ব্যাংকে আমানতকারীদের হিসাবের ওপর আরোপ করা ‘আবগারি শুল্ক’ নামটাই এবার বদলে ফেলার । অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক হিসাবে একটা তথাকথিত (সো কলড) আবগারি শুল্ক আদায় করা হয়। এর নামটা ঠিক নয়। তা পরিবর্তন হবে।

সচিবালয়ে গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে সোনালী, অগ্রণী, জনতাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ১৬টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) সই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান।

সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করার আগে অর্থমন্ত্রী নিজে থেকেই বলেন, ‘আবগারি শুল্ক নামটা কোনোমতেই হওয়া উচিত নয়। এটা আয়করেরই অংশ। একে কীভাবে বর্ণনা করা যায়, সেটা পরে চিন্তা করা যাবে।’

আর্থিক খাত নিয়ে যেসব সমালোচনা বাজারে প্রচলিত, বাজেটের পর তা আরও উচ্চমার্গে পৌঁছে গেছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার ধারণা, যখন কোনো কিছু খুঁজে না পাওয়া যায়, তখন কিছু একটা তো বের করতে হয়। এবার এটা (আবগারি শুল্ক) খুব বেশিভাবে হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, যাঁদেরই ব্যাংক হিসাব আছে, বহু বছর ধরেই তাঁরা এটা (আবগারি শুল্ক) দিয়ে যাচ্ছে। এটা নতুন কিছু নয়। এ বছর হারটা একটু বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সুযোগও কিন্তু বাড়ানো হয়েছে। ২০ হাজার টাকা থাকলেই শুল্ক দিতে হতো, এখন এক লাখ টাকা পর্যন্ত কিছুই দিতে হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ নিয়ে এত চিৎকার যখন বাজারে আছে, তাই একটু পরিবর্তন হবে। কথাটা বললাম এ জন্য যে জাতীয় সংসদে এটা বলতে আমার দেরি হবে, ২৮ তারিখ পর্যন্ত লেগে যাবে। আগেই বললাম যাতে অনেকে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেন।’

ব্যাংক হিসাবে ১ থেকে ১০ লাখ টাকা জমা হলে ৮০০ টাকা আবগারি শুল্ক কাটার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। আরও বেশি টাকায় শুল্ক হারও বেশি।

সচিব ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘আর্থিক খাত নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচুর নেতিবাচক প্রতিবেদন দেখি। এগুলো থেকে আমরা শিখি। এটা ঠিক, খেলাপি ঋণ আদায়ে মনোযোগী হতে হবে। তবে দারিদ্র্য বিমোচনসহ অনেক সামাজিক কাজও করে থাকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।’

অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান বলেন, ‘চুক্তির মাধ্যমে মনে হলো ভালো কিছু করার জন্য ওয়াদাবদ্ধ হলাম।’ অগ্রণী ব্যাংকের এমডি শামস্-উল-ইসলাম বলেন, ‘চুক্তির ফলে আমাদের ওপর ভালো করার চাপ আরও বেড়ে গেল।’

কালোটাকা ও পাচার প্রসঙ্গ

টাকা পাচার প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘টাকা পাচার হয় কী কারণে? কালোটাকা আছে বলে। কালোটাকা না থাকলে কেউ পাচার করত না। আমাদের কিছু আইন আছে, যাতে কালোটাকা জমানোর সুযোগ থাকে। সেখান থেকেই অভিযানটা শুরু করব, যাতে কালোটাকা হাতে না পড়ে।’

বর্তমানে প্রকৃত দামের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দামে জমি কেনাবেচা হয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তার মানে ৯ গুণ কালোটাকা হয়ে গেল। নিজের একজন আত্মীয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উনি আমার গুরুজন। একদিন সকালে আমার বাড়িতে এসে হাজির। বললেন, কী আইন তোমরা করেছ, জমি বিক্রি করে আমি এখন বুড়ো বয়সে কালোটাকার মালিক হয়ে গেলাম। এই টাকা আমি এখন কী করব? হিসাব দেখানোও তো ঝামেলা।’

আগে বাজারদরে জমি নিবন্ধন হতো, তাতে সমস্যা হচ্ছিল বলেই মৌজাওয়ারি জমির দামের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আমরা কি তাহলে আগের পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছি, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, না। আগেরটাই ন্যায্যতা কম ছিল। এখন মূল্য হবে বাস্তবভিত্তিক।’

এপিএ নিয়ে বৈঠকের আগে সচিবালয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুহিত বলেন, ‘এ বৈঠক নিয়মিতভাবেই হয়। আগে একটু বেশি হতো, এখন কম হয়। আগে বেশি হওয়ার কারণও ছিল। আমাদের অবস্থা একটু খারাপ ছিল তখন। আইনকানুন তেমন শক্ত ছিল না, অনেক ক্ষেত্রে আইনকানুন ছিলই না।’

আ-সা/ আজাদ/ অর্থনীতি