সুধীন দাশ—ফাইল ছবি
সুধীন দাশ—ফাইল ছবি

সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাশ আর নেই

প্রকাশিত :২৭.০৬.২০১৭, ১১:১১ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার, সঙ্গীতপরিচালক এবং নজরুল গবেষক সুধীন দাশ আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে মারা গেছেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদ।

শিল্পীর স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সুধীন দাশ দীর্ঘদিন থেকে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। কিছুদিন ধরে তার হজমে সমস্যা হচ্ছিল। সকালে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যান।

নজরুলসঙ্গীতশিল্পী শাহীন সামাদ আরও জানান, সুধীন দাশের মরদেহ অ্যাপোলোর হিমঘরে রাখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে এখান থেকে প্রথমে তার মরদেহ শিল্পীর মিরপুরের বাসায় ও পরে ধানমণ্ডির নজরুল ইনস্টিটিউটে নেয়া হবে। সেখান থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে এই সঙ্গীতজ্ঞের মরদেহ। এরপর পোস্তগোলা মহাশ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

১৯৮৮ সালে একুশে পদক পাওয়ার পাশাপাশি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন সুধীন দাশ। সঙ্গীতবিশেষজ্ঞ, সুরকার, সঙ্গীতপরিচালক, গবেষকসহ আরও অনেক পরিচয়ে পরিচিত তিনি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তার বড় পরিচয় বাংলা গানের ধ্রুবতারা কাজী নজরুল ইসলামের গানের স্বরলিপিকার।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে হিমঘর থেকে প্রথমে সুধীন দাশের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার মিরপুরের বাসায়। সেখান থেকে সকাল ৯টায় নেয়া হবে নজরুল ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে। এর পর সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হবে। পরে পোস্তগোলা মহাশ্মশানে তার মরদেহ দাহ করা হবে।’

গানপাগল একজন মানুষ ছিলেন সুধীন দাশ। ১৯৩০ সালে কুমিল্লা শহরের তালপুকুরপাড়ের বাগিচাগাঁওয়ে তার জন্ম। নিশিকান্ত দাশ ও মা হেমপ্রভা দাশের তিন মেয়ে-সাত ছেলের মধ্যে সুধীন দাশ ছিলেন সবার ছোট।

সুধীন দাশের একমাত্র ছেলে গিটারিস্ট নিলয় দাশ ২০০৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার স্ত্রী নীলিমা দাশ ও মেয়ে সুপর্ণা দাশ।