মাহমুদ মামুন
মাহমুদ মামুন

জীবন শুধু পাওয়ার নয়, দেওয়ারও

প্রকাশিত :২৯.০৬.২০১৭, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
  • মাহমুদ মামুন

সামান্য কয়েক হাজার টাকার জন্য একটা আইফোন ৭ কেনা হচ্ছে না। আহারে! আক্ষেপ হচ্ছে? সামান্য ২ লাখ টাকার জন্যে বাবা তার সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে পারছেন না, মসজিদে মসজিদে নামাজের পর হাউমাউ করে কেঁদে টাকা তুলবার চেষ্টা করছেন।

এডিডাসের একজোড়া জুতো পছন্দ হয়েছিল। এত্তো দাম! মনটাই খারাপ হয়ে গেল। ধুর! আক্ষেপ হচ্ছে? মানুষটা প্যারালাইজড হয়ে পড়ে আছে হুইল চেয়ারে। দু’হাতে পানিই তুলে খাবার ক্ষমতা নেই, দু’পায়ে নিজের শরীরকে উঠানো তো অনেক পরের ব্যাপার।

বিটসের একটা হেডফোন দেখলাম বন্ধুর কাছে, চমৎকার সাউন্ড। কানে দেয়া মাত্রই দুনিয়া থেকে আলাদা। খুলে রেখে দিলাম. দাম শুনে। একটা যদি কিনতে পারতাম! আক্ষেপ হচ্ছে? কানে শুনতে পায় না বলে পাশের ঘরে মা কখন মারা গেছেন, মেয়েটা টের পায়নি। মা কি তাকে ডেকেছিল? কী বলেছিল চলে যাওয়ার আগে, পানি চেয়েছিল?

চোখে রোদ লাগে। রোদচশমা দরকার। টম ক্রুজ যেসব পরে, ওরকম একটা। গুচি ব্র্যান্ডের নিশ্চয়ই। দাম কত? হোয়াট! আস্তে করে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। আক্ষেপ হচ্ছে? অনেক অন্ধ মানুষ আছে, জানেও না সূর্যের রঙ সবুজ না নীল। সবুজ রঙ কেমন, কিংবা নীল, লাল? হাত ধরে রাস্তা পাড় করে না দিলে সারাদিন হয়তো এ পাড়েই দাঁড়িয়ে থাকবে।

ভালোবাসার মানুষ কষ্ট দিয়ে চলে গেছে। অনেক কষ্ট। কষ্ট কমানোর জন্যে মনোবিদের পরামর্শ নিচ্ছি। বিশ্রাম আর সিডেটিভ দিয়েছেন। তাও কমছে না কষ্ট। আক্ষেপ হচ্ছে?
বৃদ্ধাশ্রমে যারা থাকেন, তারা কারো না কারো মা-বাবা। তাদের সেখানে দিয়ে গিয়েছে তাদেরই সন্তানেরা। ভালোবাসার মানুষ, আদরের মানুষ, যাদের স্নেহ ভালোবাসায় বড় করেছেন তারা। অনেকের অবস্থা হয়তো আরো খারাপ। বৃদ্ধাশ্রমে নেওয়ারও কেউ নেই। তারা ভিক্ষে করে পেট চালান, ছেলে-মেয়ে হয়তো আছে এ শহরেই! কিন্তু খবর নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না।

শুধু নেই আর নেই জীবনে, এ জীবন রেখে লাভ কী? শুন্য জীবন। মরে যেতে ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে। আক্ষেপ হচ্ছে? ক্যান্সার হাসপাতালগুলোতে হাজার হাজার রোগী আসছে, যাচ্ছে। ডাক্তার সময় বেঁধে দিয়েছে, কিন্তু আসল মুহূর্ত কখন, কেউই জানেন না। তারা একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, একটু একটু করে বেঁচে থাকছে।

আমাদের এত আক্ষেপ কেন? বেঁচে থাকতে হলে নিজের সামর্থ্যের ভেতর বেঁচে থাকতে হয়। আমরা সামর্থ্যের বাইরে যেয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আমাদের আক্ষেপ তাই ফুরোয় না।
চলুন নিজের সামর্থ্যের মধ্যে বেঁচে থাকা শিখি। সামর্থ্যের ৮০ ভাগ নিজের জন্যে রেখে, ২০ ভাগ অসহায়, অন্য মানুষদের জন্যে ব্যয় করি। হোক ১০ টাকা, ২০ কিংবা ১০০ টাকা। তাও না পারলে চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলি, ধন্যবাদ, আমাকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে।

লেখক : কলামিস্ট, সরকারি চাকরিজীবী