mag

নিচে নামছে মেঘ : নাসা

প্রকাশিত :২৯.০৬.২০১৭, ১:০৪ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে মানুষ যেমন গায়ে চাদর জড়ায় ঠিক তেমনি প্রখর সূর্যের তাপ আর মারাত্মক বিকিরণের হাত থেকে আমাদের আগলে রাখে ‘মেঘ নামক চাদর’। মেঘ আমাদের ছায়া দেয়, শীতলতা দেয়, দেয় প্রাণজুড়ানোর শান্তুিও। কিন্তু নাসার একদল গবেষক অশনি সংকেত হিসেবে শুনিয়েছেন, হু হু করে মেঘ নেমে আসছে নীচে।

গত ১৫ বছর ধরে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের আকাশে মেঘের আকার-আকৃতি, আচার-আচরণ দেখে, মেঘের উচ্চতা মেপে মহাকাশে পাঠানো নাসার ‘টেরা’ উপগ্রহ জানিয়েছে, মেঘ বোধহয় ধীরে ধীরে নেমে আসছে। নাসার গবেষকরা জানিয়েছেন, মেঘের ওপর নজর রাখতে ১৯৯৯ সালে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছিল এমআইএসআর। সেই এমআইএসআর-এর পাঠানো প্রথম ১০ বছরের তথ্য উপাত্ত নিয়ে ২০১২ বিশ্লেষণ করেন গবেষকরা। গবেষণাপত্রে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বাকলে-গ্ল্যাভিশ চেয়ার’ প্রফেসর রজার ডেভিস দেখান, গত এক দশকে পৃথিবীর কোথাও কোথাও মেঘ নেমে আসছে। কোনও কোনও বছরে বা বছরের বিশেষ কোনও সময়ে। পরের ৫ বছরের তথ্য-উপাত্ত থেকে যদিও মেঘের এই এই ওঠা-নামার কোনো নির্দিষ্ট ধারবাহিকতা প্রমাণ করতে পারেনি। তবে প্রতি বছরই যে মেঘের উচ্চতা যে পৃথিবীর কোনও কোনও অঞ্চলে কমছে, তা নিয়ে অন্তত কোনও সন্দেহ নেই। মেঘ নীচে নেমে আসছে আগের বছর থেকে পরের বছরে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য উত্তরোত্তর উত্তপ্ত হচ্ছে ভূপৃষ্ঠ। ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হওয়ায় গরম বাড়ছে বায়ুমন্ডলেও। আর বায়ুমন্ডলে গরম বেড়ে যাওয়ায় মেঘের তাপমাত্রাও বাড়তে শুরু করেছে। শুকনো, খটখটে, মরুভূমির মতো এলাকা বা আফ্রিকার মতো দেশগুলিতে সেটা অনেক বেশি। তুলনায় কম গরমের এলাকা বা দেশগুলিতে আবার সেটা বেশ কম। নাসার একটি গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, মেঘ একটু একটু করে নিচে নেমে আসছে। পাতলা হয়ে যাচ্ছে। ছোট হয়ে যাচ্ছে। চেহারায় খাটো হয়ে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে উজ্জ্বলতাও। তবে সেটাও যে খুব নিয়ম মেনে হচ্ছে, তা নয়। পৃথিবীর সর্বত্রই হচ্ছে, এমনটাও নয়। কখনও হচ্ছে, কখনও তা হচ্ছে না। কোথাও হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও তা হচ্ছে না। কেন হচ্ছে, সেটাও স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না নাসার গবেষকরা।