মোহাম্মদ সেতাব উদ্দিন
মোহাম্মদ সেতাব উদ্দিন

‘ঘুষখোর’ এফবিআই এজেন্ট এবং বিএনপির দুশ্চরিত্র

প্রকাশিত :৩০.০৬.২০১৭, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
  • মোহাম্মদ সেতাব উদ্দিন
    পত্রিকান্তরে প্রকাশ- সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণের ষড়যন্ত্র’ করায় যুক্তরাষ্ট্রে রিজভী আহমেদ সিজার নামে এক বাংলাদেশির সাড়ে তিন বছরের জেল হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে এফবিআই এজেন্ট রবার্ট লাসটিককেও পাঁচ বছরের জেল দিয়েছে দেশটির ফেডারেল আদালত। ঘুষ লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী (একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে সিজারের পূর্ব পরিচিত) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ‘জোহানেস থালের’ আড়াই বছর জেল হয়েছে। রিজভী আহমেদ সিজার যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং জাসাসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের পুত্র।

পাঠক লক্ষ্য করুন, বিএনপির ষড়যন্ত্র কত সুদূরপ্রসারী। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণ। দেশের ভেতরে এবং বাইরে এদের ষড়যন্ত্রের জাল কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত একটু পর্যালোচনা করা যাক- ‘বিএনপি জামায়াত মসনদে। ২০০১ সাল থেকে বাংলাভাই নাম ধারণ করে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের এক পাষণ্ডদের নেতৃত্বে একদল খুনি-সন্ত্রাসী রাজশাহীর বাঘমারায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং আওয়ামী লীগের সমর্থক সাধারণ মানুষকে ধরে এনে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করা শুরু করে। ঝুলন্ত অবস্থায় কারও হাত কেটে ফেলা হত, কারও বা পা। শুধু হত্যা নয় এদের নিষ্ঠুর এবং নির্দয় অত্যাচারে বাঘমারার রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, গ্রামগঞ্জ মানুষের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠত আর জামায়াতি খুনিরা পাশবিক উল্লাসে তা উপভোগ করত। পুলিশ এসব খুন-খারাবী আর অত্যাচারের ঘটনা চেয়ে চেয়ে দেখেছে আর হাত গুঁটিয়ে বসে থেকেছে।’ রাজশাহীর বাঘমারা অঞ্চল। ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত-শিবির আর বাংলাভাইদের রাজত্ব ছিল। এরাই ছিল সরকার। একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যাবে-‘২০০৩ এ রাজশাহী শহরে বাংলাভাইয়ের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগবিরোধী মিছিল তালাইমারি থেকে রাজশাহী কোর্ট পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। এই মিছিলে রাজশাহীর মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস দুলু, এমপি নাদিম মোস্তফা বাংলাভাইয়ের পেছনে ছিলেন। তৎকালীন রাজশাহী পুলিশ কমিশনার উপস্থিত থেকে মিছিলের নিরাপত্তা বিধান করেন। কী দেশ আর কী সরকার ভাবুন একবার।

সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসী, খুনি আর সমাজবিরোধীদের নিরাপত্তা বিধান করেছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি শুধু বিভীষিকাময় ছিল না, ছিল রীতিমত ভয়ঙ্করও। ফলে সারাদেশে এই অসহনীয় পরিস্থিতির বিরুদ্ধে মানুষ রুখে দাঁড়ায় যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘ এই অবস্থাকে রীতিমত ভয়াবহ বলে বর্ণনা করে এবং অবিলম্বে এই খুনিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারকে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু তখনও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের রাজাকার মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এসব ‘মিডিয়ার সৃষ্টি’ বলে বক্তব্য দিতে থাকেন।

পাঠক একটু অনুভব করতে চেষ্টা করুন, এই রাজাকার মন্ত্রীর বক্তব্য। আমি আপনি যা দেখি এই স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার মন্ত্রী তা দেখেন না। কারণ মহান আল্লাহ্ এদের দৃষ্টিতে মোহর মেরে দিয়েছেন। এরা ‘সত্য’ দেখেন না। আল্লাহ্ রাসুল (স.)কে দেখেন না। দেখেন মওদুদিবাদ। যদি এরা ‘সত্য’ দেখত তাহলে ‘বাংলাভাই’ মিডিয়ার সৃষ্টি বলত না। জামায়াত এবং বিএনপি ২০০৪ এ হাসতে হাসতে ২১ আগস্ট সংঘটিত করেছে। লক্ষ্য ছিল সুনির্দিষ্ট। তকদির ভাল সেদিন শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা গ্রেনেডে আহত হয়েও বেঁচে গেছেন। কিন্তু নিহত হয়েছিলেন আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতাকর্মী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। এই হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপি নেতারা ফুরফুরে মেজাজে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রচার করতে থাকেন- আওয়ামী লীগই এই গ্রেনেড হামলার জন্য দায়ী। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে বলতে শুনেছি- শেখ হাসিনা ভেনেটি ব্যাগে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিল। এটা কি ক্ষমতার দম্ভ? নাকি ৭৫-এর মত এই হত্যার বিচারও বন্ধ? এত হত্যা এত খুন এত রক্ত। থানা কোন মামলা গ্রহণ করল না। প্রশ্ন- কেন? স্বয়ং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিষেধ করে দিয়েছেন। কেন? তারেক রহমানের নির্দেশ। এই গ্রেনেড হামলা এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে সেদিন সংসদে আলোচনা পর্যন্ত করতে দিল না সরকারি দল।

দেশের মানুষের প্রশ্ন- কেন? রক্তসহ সমস্ত আলামত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে নষ্ট করা হলো। কিন্তু কেন? গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন প্রধান তদন্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে খোদ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলে দেন ‘কোন প্রয়োজন নাই’। তারপর ‘জর্জ মিয়া’ নাটকের কথা সকলেই জানেন। এখানেও প্রশ্ন জাগে- কেন? উত্তর একটাই আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মুছে দেয়া।

বর্ণিত ঘটনাসমূহ বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত হয়েছে। এসময়ের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এমপি, সাবেক মন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া কে গ্রেনেড মেরে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে গাজীপুরের গণমানুষের নেতা আহসান উল্লাহ মাষ্টার এমপি, নাটোরের সাবেক এমপি মমতাজ উদ্দিন, খুলনার আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল আহসানসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে। এরপরেও বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকরা বলেন- বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক।

তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করার জন্য যে গ্রেনেড সেই গ্রেনেড রমনা ভবন থেকে বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনার উপর ছুড়ল কারা? যদি এই গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি বা সরকার জড়িত না থাকে তাহলে পুলিশ আসামিদের পালিয়ে যেতে সুযোগ করে দিল কেন? ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিল। গ্রেনেডগুলো ধ্বংস করে আলামত নষ্ট করা হলো কেন? তদন্তে বাধা দেয়া হলো কেন? তখন সংসদ চলাকালীন এ বিষয়ে কথা বলতে দেয়া হলো না কেন? জর্জ মিয়া নাটকই বা সাজানো হয়েছিল কেন?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জয় অপহরণের এই ষড়যন্ত্রও কি আওয়ামী লীগের তৈরি? আমি আজ দিব্যচোখে দেখতে পাই ৭৫ যারা ঘটিয়েছিল তারা তো অধিকাংশই বিএনপি কিম্বা বিএনপির ষড়যন্ত্রের অংশীদার এবং সুবিধাভোগী। বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িতরাই যে কেবল ষড়যন্ত্র করে তাই না। বিএনপি’র কট্টর সমর্থকরাও এমন সব ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত যে, ভাবতে শিউরে উঠি।

এ প্রসঙ্গে আমার ব্যক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলি- ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে আমরা বেতারের খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ বিশেষ করে আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লাম। কিন্তু দেখা গেল প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ মুক্তিযুদ্ধ বিদ্বেষী পাকিস্তানপন্থী বিএনপি’র একনিষ্ঠ কর্মী সমর্থক কর্মকর্তাদের খপ্পরে পড়ে গেলেন এবং আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন (ভবিষ্যতে সুযোগ সুবিধা মত তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং ২০০১ এর নির্বাচন নিয়ে লেখার ইচ্ছে রইল)। যদিও অধ্যাপক আবু সাইয়িদ আমাকে ১৯৯০ সাল থেকে খুব ভালভাবে চিনতেন। কারণ তার অনুরোধে তাকে নিয়মত বার্তা বিভাগ থেকে প্রকাশিত আমার নিজস্ব কপি ‘নিউজ লেটার’ সরবরাহ করতাম। মুক্তিযোদ্ধা এবং বঙ্গবন্ধুর সৈনিক তাই বেতারের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কাছে নতি স্বীকার তো দূরে থাক কোন সমঝোতা কখনো করিনি। ফলে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সময়কালে বিভিন্নভাবে বেতার প্রশাসনে পাকিস্তান ফেরত পাস্কিস্তানী প্রেতাত্মা এবং তাদের কাছে আত্মসমর্পণকারী সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা দ্বারা নিগৃহীত হয়েছি এবং পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করলে বেতার সদর দপ্তরে কর্মরত বিএনপির দালাল, মুক্তিযুদ্ধ বিদ্বেষী মুহাম্মদ মুহাদ্দিস, হাসানুজ্জামান তালুকদার, বাহরাম সিদ্দিকীর সঙ্গে একজোট হয়ে তাদের কাছে আত্মসমর্পণকারী মুক্তিযোদ্ধা আপেল মাহমুদ, মোহাম্মদ ফারুক, ইমাম উদ্দিন, ফিরোজ ইসলাম, মো. সালেম, বাসার খান, আব্দুর রউফ প্রমুখ বেশ ক’জন কর্মকর্তা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের শুভাকাক্সক্ষী আমরা কজন সরকারের কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য মনযোগী হলাম। কিন্তু দেখা গেল এই দালালরা ‘জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’ সংস্থার মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন মহাপরিচালকের (এদের পূর্ব পরিচিত) সহায়তায় একজন উপ-সহকারী পরিচালককে ব্রিফিং দিয়ে আমার নামে, অনু ইসলাম এবং ডেইজি আজিজ এর নামে (বিএনপির দালালদের সাজানো গল্প অনুযায়ী) ঢাকায় বসে এক কাল্পনিক, মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট রিপোর্ট তৈরি করে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্মারক নং/৪৪৫(২)/৮-৯৬ (শ্রম) তারিখ: ২৫/৬/৯৮ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডা. এস এ মালেক এবং তথ্য সচিব এম আকমল হোসেইন বরাবর পত্র প্রেরণ করে। তথ্য মন্ত্রণালয় মতামত চেয়ে বেতারের মহাপরিচালক বরাবর পুনঃ পুনঃ পত্র প্রেরণ করেন, এবং সর্বশেষ নং-তম/স- ২/১(১২৬)/৯৮/২৫৫ তারিখ: ২৭-০৮-২০০০ ইং অনুযায়ী বর্ণিত তিনজনের বিরুদ্ধে কোন মতামত সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। শিল্পী কলাকুশলী, কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলেই জানত আমরা কজন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একনিষ্ঠ অনুসারী। বিশেষ করে আমি নির্ভীক কর্মী ছিলাম। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে কোন বিরূপ রিপোর্ট দেয়া মহাপরিচালকের দপ্তরের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কেননা থলের বিড়াল বেরিয়ে যাবে।
প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয় যে, ১৯৯১-এর জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাসেট ‘নৌকার গান’ তৈরিতে আমার মুখ্য ভূমিকা ছিল (বাহরাম সিদ্দিকী এবং আপেল মাহমুদ জানতে পেরেছিল)। তৎকালীন উপ-সচিব মুহ. মুসা (সচিব অব.) এবং তথ্য সার্ভিসের তৎকালীন উপ-পরিচালক আবু তৈয়ব (বর্তমানে বসুন্ধরা গ্রুপ এ চাকরিরত) কে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ক্যাসেট তৈরি করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। একদিন রাতে আবু তৈয়ব আমার বেইলি রোডের বাসায় গানের পাণ্ডুলিপি নিয়ে হাজির। বলল, নেত্রী দিয়েছেন।

সপ্তাহ খানেক পরে ক্যাসেট নিয়ে নেত্রী চট্টগ্রাম যাবেন। আমি মুসা ভাই ১৫/২০ দিন ধরে কিছু করতে পারিনি। শুধু পল্টনে রেকর্ডিং স্টুডিও ঠিক করেছি।’ মাত্র ক’দিন আগে জন্ডিস থেকে উঠেছি। সময়ও খুব কম। পাণ্ডুলিপি নিলাম। পরদিন অফিসে গিয়ে এএইচএম রফিক (বর্তমানে প্রয়াত)কে স্টুডিওতে সুর করতে বসিয়ে দিলাম। বিকেলে ৩ জন শিল্পীকে গান তুলে নেবার জন্য ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস এ ডাকলাম। অন্য শিল্পীদের পরদিন আসতে বললাম। এইভাবে তিন দিনে সব শিল্পীকে গান তুলে দেয়া, যন্ত্রীসহ মহড়া এবং পরে তিন দিনে রেকর্ডিং শেষ করে মনে হলো হিমালয় পর্বত বুকের উপর থেকে নেমে গেল। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছি আবু তৈয়বের টেলিফোন। ‘সেতাব ভাই সকালে নেত্রীকে গান ক্যাসেট করে পৌঁছে দিতে হবে। ক্যাসেট কেনার জন্য পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। মুসা ভাই নেত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরে আপনাকে দিবে।’ বললাম বাসায় এসে নিয়ে যাও। বছরখানেক পর আবু তৈয়ব (তখন বিরোধী দলের নেত্রীর P.R.O) একদিন হঠাৎ জিজ্ঞেস করল ‘সেতাব ভাই আপনার ওই পাঁচ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছিলেন তো?’ বললাম- কেন? দিয়েছ নাকি? মুসা ভাইকে দিয়েছ। আমাকে তো দাওনি। বলল- ‘টাকা তো মুসা ভাইকে দেয়া হয়েছে।’ পরে আবু তৈয়ব টাকাটা আমাকে এনে দেয়। ধান ভানতে শিবের গীত গাইতে হলো।

বিএনপি’র নেতাকর্মী সমর্থকরা যে কত ভয়াবহ সে কথা বুঝাতে গিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে হলো। আমাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হলেও কেউ আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না তা জানতাম। ধারণা করি ‘জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’ সংস্থার সংশ্লিষ্টরাও আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী ছিল, তাই অবৈধ সুবিধা নিয়ে বিএনপি’র দালালদের প্ররোচনায় ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করেছিল। ওদের ভাগ্য ভাল কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দুঃসাহস দেখায়নি। নইলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ত আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানতে পারতেন। আমাদের ‘জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’ সংস্থার দেউলিয়াপনা হাতেনাতে ধরা পড়ত।

সজীব ওয়াজেদ জয় অপহরণে ষড়যন্ত্রকারীদের সহায়তা প্রদান এবং ঘুষ গ্রহণের অপরাধে এফবিআই এজেন্ট রবার্ট লাসটিকের ৫ বছর জেল হয়েছে। ভুয়া, মিথ্যা, মানহানিকর, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত রিপোর্ট প্রদান করে সরকারকে বিভ্রান্ত করত, উল্টোপথে পরিচালিত করার জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা’ সংস্থার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আমাদের দেশে আছে কি?

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক, বাংলাদেশ বেতার