ডা. জাকির হোসেন
ডা. জাকির হোসেন

সেবাদানে খুঁজে পাই ঈদ আনন্দ

প্রকাশিত :৩০.০৬.২০১৭, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
  • জাকির হোসেন
    শেষ হল মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আমেজ রয়ে গেছে এখনও। ঈদের আনন্দ আপনজনদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষগুলোর যাত্রাপথের শত দুর্ভোগ, ভোগান্তি ভুলে যাচ্ছেন বাড়ি পৌঁছেই।

ধর্মীয় উৎসবগুলোর ছুটি প্রিয়জনের সান্নিধ্যে যাওয়ার একটা বড় সুযোগ। পরিবার পরিজনের সঙ্গে উৎসব আনন্দে মেতে ওঠার জন্য সকল ক্লান্তি ভুলে সবাই ছুটে।
তবে ঈদ উৎসবেও কিছু পেশার মানুষের জীবনে মেলে না ছুটি, অবসর। বছরের অন্যান্য দিনের মতই তাদের কর্মস্থলে হাজির হতে হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তৎপর থাকতে হয়।
পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব যখন হইচই করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত তখন পেশাগত কারণে কিছু মানুষ এ সকল উৎসব আনন্দের ঊর্ধ্বে থাকে। কর্মস্থলে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয় ঈদের দিনটিতেও।

শুধু ঈদ উৎসব বলে কথা নয়, কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যা সরকারি ছুটিতোও কাজকর্ম বন্ধ হয় না। এমনকি সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও অন্যান্য পেশার মানুষ যেখানে দুইদিন ছুটি ভোগ করেন সেখানে কিছু পেশার মানুষকে রোস্টার করে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। এই রকম একটি সেক্টর হলো স্বাস্থ্য সেক্টর। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা। এই রকম আরো অনেক সেক্টর রয়েছে যেখানে সারাক্ষণ কাজ চালিয়ে যেতে হয়। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, মিডিয়াকর্মী ইত্যাদি। কিন্তু এদের থেকে স্বাস্থ্য সেক্টরের চিত্র ভিন্ন। স্বাস্থ্য সেক্টর ছাড়া অন্য সেক্টরগুলোতে ওভার টাইম ভাতা চালু রয়েছে। স্বাস্থ্য সেক্টরের সকালের কর্মঘণ্টাকে ওয়ার্কিং আওয়ার হিসেবে গণ্য করা হয় কিন্তু বিকেল এবং রাতের ডিউটিকে ওয়ার্কিং আওয়ার হিসেবে কাউন্ট করা হয় না।

চিকিৎসায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাপ্তাহিক ছুটি একদিন। তাপরও মুমূর্ষু ও জরুরি রোগীদের সেবায় ঈদের দিনও হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন চিকিৎসক, নার্স ও আয়ারা। ঈদে হাসপাতালের রোগী ও সেবাদানকারী কর্মীদের সময় কাটে সবচেয়ে করুণভাবে। যারা দায়িত্বে থাকেন তারাই বাড়তি চাপ সামলান দ্বিগুণ পরিশ্রম করে। এত কিছুর পরও অনেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়িত্বরত সেবাদানকারীর জন্য একটু ভাল খাবারের ব্যবস্থাও করেন না।

এত কিছু মেনে নিয়েও এই পেশার লোকজন মানুষের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরও আন্তরিক কিন্তু কৃতজ্ঞতাটুকু কেউ জানান না। তবুও আমরা ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিই হাসপাতালের সাথে, রোগীদের সাথে, সহকর্মীদের সাথে।

লেখক : কলামিস্ট ও চিকিৎসক