naraongong

নারায়ণগঞ্জে সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর হামলায় মামলা

প্রকাশিত :১২.০৭.২০১৭, ৬:১৩ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের শহীদ মিনারে আন্দোলনরত কবি আরিফ বুলবুলসহ চার সংস্কৃতিকর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহতের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় এখনো হামলাকারী কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মামলার বাদী রফিউর এজাহারে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার বিকেলে সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয় এবং সোয়া ছয়টার দিকে নগরীর দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় মিছিল সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তখন শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি অমল আকাশ, কার্যকরী সদস্য শাহিন মাবুদ, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য কবি আরিফ বুলবুল, ছড়াকার আহাদ ক্যাবলস অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী যুবক লাঠিসোঁটা, লোহার মোটা অ্যাঙ্গেল ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করে। ওই সময় জীবন বাঁচানোর জন্য তাঁরা দৌড় দিলে সন্ত্রাসীদের একজন লোহার মোটা অ্যাঙ্গেল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আরিফ বুলবুলের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে। আরিফ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে শহীদ মিনার থাকা লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এরপর আরিফ বুলবুলকে নগরীর খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় ও কপালের বাঁ পাশে ১০টি সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে কবি আরিফ ঢাকার পপুলার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ইতিপূর্বে আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা কয়েকবার হামলা চালিয়ে কর্মীদের মারধর করেছে।

বাদী আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব সন্ত্রাসী বাহিনী নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটসহ আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, কর্মীদের মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছে, তারাই কবি আরিফ বুলবুলসহ অন্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আসামিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার ও আইনের সম্মুখীন করে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করব।’