snak-bite

বর্ষাকালেই কেন সাপ বেশি কামড়ায়?

প্রকাশিত :১৩.০৭.২০১৭, ১:৫০ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৮ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে সাপে কামড়ায়। যার মধ্যে ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এদিকে গবেষকেরা বলছেন, বর্ষায় সাপ ও মানুষ একই ধরনের শুকনা জায়গায় বসবাস করায় এ সময় মানুষকে সাপে কামড়ায়। তবে এ মৌসুমে সকাল ও সন্ধ্যায় সাপে বেশি কামড়ায়।

এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন সাময়িকীতে প্রকাশিত বাংলাদেশে গোখরা সাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিষক্রিয়ার লক্ষণ এবং এসব রোগী ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রবন্ধে গবেষকেরা এই তথ্য দিয়েছেন।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুর রহমান এই গবেষক দলের একজন সদস্য। তিনি ২০ বছর ধরে সাপ নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি জানান, বর্ষার সময় সাপ শুকনা জায়গা খোঁজে। সাপ ও মানুষ একই ধরনের শুকনা জায়গায় বসবাস করে। তাই এ সময় সাপের কামড়ে আহত ব্যক্তির সংখ্যা বেশি হয়।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে তারা গবেষণা করেছেন। গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৭০ জন রোগীর পরিস্থিতি গবেষকেরা বিশ্লেষণ করেছেন। প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে, গোখরা সাপের বিষক্রিয়া নিয়ে এত বড় গবেষণা আগে কোনো দেশে হয়নি।

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ এলাকায় সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে। গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্তের ঘটনা সবচেয়ে কম ঘটে শীতকালে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মে, জুন ও জুলাই এই তিন মাসে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। সকাল ও সন্ধ্যায় সাপে বেশি কামড়ায় বলে গবেষকেরা তাদের প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন।

গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে বছরে ৬ হাজারের কিছু বেশি মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়। মূলত গোখরা (কোবরা) ও কেউটে (ক্রাইট) সাপের কামড়ে তাদের মৃত্যু ঘটে। এর মধ্যে কেউটে সাপ বাড়ির আশপাশে বা লাকড়ির মধ্যে থাকে। আর গোখরা সাপ ফসলি জমিতে ও রাস্তাঘাটে থাকে।