bolbul

‘দেবদাস’ অভিনেতা বুলবুল আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত :১৪.০৭.২০১৭, ২:১১ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : অভিনেতা ও নির্মাতা বুলবুল আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার। ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ঢাকায় মারা যান তিনি। সত্তর ও আশির দশকে আলমগীর কবিরের ৬টি ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে সবার মনোযোগ কাড়েন তিনি। তবে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’-এর নাম ভূমিকায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
১৯৪১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার আগামসিহ লেনে বুলবুলের জন্ম। তার প্রকৃত নাম তাবারক আহমেদ, আদর করে বাবা-মা বুলবুল ডাকতেন। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
কিছুদিন সিলেটের এমসি কলেজেও পড়াশোনা করেন বুলবুল আহমেদ। ওই কলেজে থাকাকালে মঞ্চনাটক ‘চিরকুমার সভা’য় নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। পড়াশোনা শেষ করে তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংক টিএসসি শাখার ম্যানেজার হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। পাশাপাশি টিভিতে অভিনয় করতে থাকেন।
বুলবুল আহমেদ অভিনীত প্রথম টিভি নাটক আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘বরফ গলা নদী’ প্রচার হয় ১৯৬৪ সালে। অন্যান্য নাটকের মধ্যে আছে— মালঞ্চ, ইডিয়ট, মাল্যদান, বড়দিদি, আরেক ফাল্গুন ও শেষ বিকেলের মেয়ে। এছাড়া মঞ্চ ও বেতারে অভিনয় করেছেন তিনি। যুক্ত ছিলেন আবৃত্তি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে।
ব্যাংকে ১০ বছর চাকরি করার পর রূপালি জগতে পর্দায় পা রাখেন বুলবুল। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া ও আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমাম পরিচালিত ‘ইয়ে করে বিয়ে’র মাধ্যমে বড়পর্দায় নায়ক হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তার। বছরখানেক বিরতির পর আবার বড়পর্দায় আসেন আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘অঙ্গীকার’ ছবির মাধ্যমে। অন্যান্য ছবির মধ্যে রয়েছে ধীরে বহে মেঘনা, মোহনা, সূর্য কন্যা, জীবন নিয়ে জুয়া, মোহনা, মহানায়ক, দীপু নাম্বার টূ, দেবদাস, শেষ উত্তর, বধু বিদায়, জন্ম থেকে জ্বলছি, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, দ্য ফাদার, শুভদা, ওয়াদা, আকর্ষণ, কত যে আপন ও এই ঘর এই সংসার।
অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন তিনি। উল্লেখযোগ্য হলো— ওয়াদা, মহানায়ক, ভালো মানুষ, রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত, আকর্ষণ, গরম হাওয়া ও কত যে আপন। এর মধ্যে শেষ চারটির পরিচালক বুলবুল আহমেদ।
বুলবুল আহমেদ চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ছবি চারটি হলো— সীমানা পেরিয়ে, বধু বিদায়, শেষ উত্তর ও রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত (শ্রেষ্ঠপরিচালক)। এছাড়াও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পুরস্কার লাভ করেন।