abdur nur11

চিকুনগুনিয়া রাজধানীর নয় সারা বাংলাদেশের সমস্যা

প্রকাশিত :১৫.০৭.২০১৭, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
  • আব্দুন নূর তুষার

চিকুনগুনিয়া সারা বাংলাদেশের সমস্যা। শুধু ঢাকা মহানগরের সমস্যা নয়। এটি একটি ভাইরাল অসুখ এবং এর ফলে সাধারণত মানুষ মারা যায় না। খুব বৃদ্ধ বা অন্য কোন অসুস্থতা বা শরীরের রোগ প্রতিরোধী শক্তি না থাকলে এই রোগে মৃত্যু হতে পারে। এর চাইতে হেমোরেজিক ডেংগু অনেক বেশী ভয়ংকর। ‍চিকুনগুনিয়া এডিস মশা দিয়ে ছড়ায়। কিউলেক্স বা অ্যানোফিলিস ডোবা, নালা, জলাশয়ে ডিম পাড়ে। স্প্রে করে এর জন্ম কমানো সহজ কিন্তু এডিস মশা ডিম পাড়ে বদ্ধ পানিতে, ঘরের ভেতরে, গ্যারেজে, বাগানে, ডাবের খোসায়, কাটা টায়ার, টবের পানি, ছাদে জমে থাকা পানি বা স্বচ্ছ পানিতে, যেখানে কোন স্রোত নেই।
স্প্রে করে কেবল উড়ন্ত মশা মারা সম্ভব, মশার জন্মস্থান নষ্ট করতে না পারলে যেমন মশা তেমনই থেকে যাবে। আর চিকনগুনিয়ার রোগীকে কোয়ারেন্টাইন করা বা মশারীর ভেতরে রেখে মশাকে কামড়াতে না দেয়া এসব স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে তেমন কোন প্রচারনা নাই।
মশার স্প্রে যখন হয় তখন আমরা ঘরের দরোজা জানালা বন্ধ করি কারণ এটা ঘরে রাখা খাবার ও পানির জন্য নিরাপদ না। ফলে ঘরের ভেতরের মশা স্প্রে করে মরে না।
নির্মাণাধীন বাড়িগুলিতে জমে থাকা ইট ভেজানোর পানিতে, ছাদ জমানোর পরে কিউরিং করার জন্য জমিয়ে রাখা পানিতে এডিস ডিম পাড়ে। এই বংশবিস্তার নিয়ে কাজ করা দুরুহ।
গতকাল ঢাকার মেয়র মশা ও মশারী নিয়ে একটি মন্তব্য করেছেন যা অনভিপ্রেত। মানুষ তার কাছে প্রত্যাশা করে তিনি তার অপারগতার কথা বলবেন তাদের পরিচিত আনিসুল হকের মতো করে। যে আনিসুল হককে তারা ভালোবাসে তার স্পষ্টবাদীতা ও সাহসের জন্য। যারা তাকে ভোট দিয়েছে টেলিভিশনের প্রিয় মানুষ কিংবা ব্যবসা সফল নেতৃত্বের কথা মনে রেখে, তারা তার কাছ থেকে কঠিন সত্যটিকেও আপনজনের মত শুনতে চায়।
এডিস মশার মশারী টাংগানোর কাজটি শুধু নয়, তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকে ঔষধ ছিটানোর এখতিয়ার রাখেন না। ৫ দিনের জায়গায় ৩ দিন পর পর ফগিং করলে কেবল উড়ন্ত মশা নয়, সব কীটপতঙ্গই মারা যায়। এজন্যই ঢাকায় প্রজাপতি নাই, ফড়িং নাই, বোলতা নাই, ভোমরা নাই, মৌমাছি নাই। তাছাড়া ঘন ঘন স্প্রে মানুষের জন্যও ভালো নয়। তারপরেও তিনি জনদাবীতে স্প্রে করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সবকথাও পরেও মানুষ তার কাছে আশ্বাস চায়, অপারগতার কথা শুনতে চায় না। তারা চায় তিনি সমব্যাথির মতো কথা বলবেন।
মাননীয় মেয়র, আপনাকে ধৈর্য্য হারালে চলবে না। বরং সর্বংসহা হতে হবে। দীর্ঘদিনের একটা অপরিকল্পিত নগর রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যার কথা আমরা জনি। আপনার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও আমরা জানি।
এটা যেহেতু সারাদেশের সমস্যা, এটা সারাতে যার যার অবস্থান থেকে অংশগ্রহণ জরুরি। এখানে আপনার যেমন দায় আছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের, জনস্বাস্থ্য বিভাগের, এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পর্যটন মন্ত্রণালয়েরও দায় আছে।
কোন দেশে সংক্রামক ব্যাধি থাকলে সেখানে ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করার দায় কার? আমরা কখনো এরকম কিছু এই দেশে দেখি নাই। অথচ রোগটি প্রতিবেশী দেশ থেকে আসার কথা বললেও, ভ্রমণে কোন সতর্কতার কথা কখনো বলা হয় নাই।
আপনি হয়তো ক্রমাগত সমালোচনায় বিব্রত হয়ে ধৈর্য্য হারিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।
তবে, আশার জায়গা এখানেই যে আপনি আপনার কঠিন কথাটির জন্য মানুষ দুঃখ পেয়েছে সেটা বুঝতে পেরে নিজে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সকলে ভেবেছিল আপনি মানুষের মনোকষ্টকে উপেক্ষা করবেন। এটাই এদেশের চর্চা । ক্ষমতাবানেরা এখানে কখনো দুঃখ প্রকাশ করে না।
শেষ পর্যন্ত আপনি আমাদের আস্থাকে সম্মান করেছেন, এখানেই আপনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। আশাকরি আপনি সবসময় এরকম থাকবেন।
বিশ্বাস করি আপনার জায়গা থেকে যতটুকু করা যায় সেটি আপনি করবেন ও সফল হবেন।
মানুষের বিশ্বাস ভালোবাসার উত্তর আপনি কাজের মধ্য দিয়েই দেবেন এবং সমালোচনাকে আপনার প্রতি মানুষের প্রত্যাশার প্রকাশ হিসেবে দেখবেন।
ঢাকা আমাদের শহর । আপনি সহায়তা দেন, সংগঠিত করেন। আমরাই একে পরিচ্ছন্ন রেখে মশা নিয়ন্ত্রণ করবো।

 

লেখক: চিকিৎসক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।