lowery

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সমাহিত লরি

প্রকাশিত :১৫.০৭.২০১৭, ৫:১১ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : হার্টলপুলের ব্ল্যাকহল কোলিয়ারির সেন্ট জোসেফ চার্চ প্রাঙ্গণ, সামনের প্রশস্ত রাস্তায় লোকে লোকারন্য। ভেতরে জায়গা না হওয়ায় চার্চের বাইরেও হাজারো মানুষের ভিড়। কোথায় তিল ধারণের ঠাই নেই। আগত মানুষদের ভিড় ঠেলে ব্র্যাডলি লরি মরদেহ বহনকারী গাড়িটি যখন ধীরে ধীরে চার্চের দিকে এগিয়ে গেল, পুরো চার্চ এলাকা সত্যিই এক শ্মশানপুরি। শোকার্ত পরিবেশ। কারো মুখে কোনো শব্দ নেই! গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছিল সবাই। কান্নার যে মিছিলের অগ্রভাগে দুনিয়ার মায়া কাটানো সাহসী বীর লরি। তার ঠিক পেছনেই সারিবদ্ধভাবে স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান, ওয়াল্টার ওমেন, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, ফ্ল্যাশ- দুনিয়া কাঁপানো সব সুপার হিরো! ক্যান্সারের কাছে হার মেনে গত ৭ জুলাই দুনিয়ার চোখ বন্ধ করে ফেলা লরিকে অন্দরের চোখ দিয়ে দেখতে পেরেছেন এসব সুপার হিরোদের?
চলচ্চিত্রের এ সব কাল্পনিক চরিত্রগুলো শুক্রবার ধরা দিয়েছিল আরও কাল্পনিক হয়ে! প্রিয় বন্ধুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লরি ভক্তদের মধ্য থেকেই একজন হয়ে গিয়েছিলেন স্পাইডারম্যান, একজন ব্যাটম্যান, একজন ওয়াল্টার ওমেন, একজন নেন ক্যাপ্টেন আমেরিকার ছদ্মবেশ। এর মধ্যদিয়ে লরি ভক্তরা বুঝিয়ে দিলেন, জীবদ্দশায় তাদের প্রিয় বন্ধু লরিও এদের মতোই সুপার হিরো ছিল। তবে কাল্পনিক নয় বাস্তব সুপার হিরো। যে মাত্র ৬ বছরের আয়ু নিয়ে দুনিয়ায় এসেছিল। আর ক্ষণিকের সেই আয়ু দিয়েই নিজস্ব কারিশমায় বিশ্ব ফুটবল অঙ্গেনকে বেধে ছিল মায়ার বন্ধনে। গড়ে তুলেছিল বিশেষ সংখ্যতা। হাসিমুখে সদা প্রজাপ্রতির মতো এদিক সেদিক উড়ে বেড়ানো লরিকে দুনিয়ায় আর দেখা যাবে না কোনো দিন।

স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যানদের ঠিক পেছনেই লরির সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু জার্মেইন ডিফো ও তার বাবা-মা। তার পেছনে হাজারো মানুষ। বিদায়ী বন্ধুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে যাদের দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল! সান্ডারল্যান্ড ভক্ত লরির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ডিফো বেছে নেন ইংল্যান্ডের জার্সি। তবে সাদা সেই জার্সিতে লেখা প্রিয় বন্ধু লরির নাম। লরির বাবা-মা পূর্ব ঘোষণা মতোই পরেছিলেন সান্ডারল্যান্ডের জার্সি। আগত ভক্ত-সমর্থকরাও পরেছিল নিজেদের পছন্দের ক্লাবের জার্সি। বেলুন-কনফেত্তি উড়িয়ে, বিউগল বাজিয়ে, হাজারো কণ্ঠে লরি লরি স্লোগানের মধ্যদিয়ে সমাহিত করা হয় লরিকে।

গত ৭ জুলাই, ইহ কালের মায়া কাটিয়েছে যে সাহসী বীর, ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঈশ্বরের কোলে শুইয়ে দেওয়া হলো লরিকে। ছোট্ট লরির শেষ কৃত্যানুষ্ঠানের শুরুটা করেন তার বাবা ইয়ান জ্যাকসন। নিজের স্বর্গবাসী শিশুপুত্রকে ঈশ্বরের কাছে সমার্পনের সময় ছোট্ট একটা বক্তৃতা দেন তিনি। ছেলেকে ‘বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বের অধিকারী’ আখ্যায়িত করে জ্যাকসন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘ব্র্যাডলি ছিল আলোকবর্তিকা, সাহসী এবং ভালোবাসার প্রতীক।’ শেষ বারের মতো ছেলের মুখটি দেখার পর তার মা জেম্মা ব্র্যাডলি বলেন, ‘একজন সত্যিকারের সাহসী সুপারহিরো। সে খুব দ্রুতই আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেল।’
লরির বাবা-মার ছোট্ট এই বক্তব্য অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ায় আগত সবার চোখেই টেনে নামায় জল। আরও একবার অঝোরে কাঁদলেন ডিফো। কাঁদলেন অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ায় আগত সবাই। ছোয়াছে রোগ হয়ে সেই কান্না আসলে ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফুটবল বিশ্বেই।
সবার সেই কান্না আসলে বুঝিয়ে দিল, দুনিয়ার ওপাড়ে চলে গেলেও সদা হাসিখুশি থাকা ছোট্ট লরি চিরদিন বেঁচে থাকবেন ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে!