turkey_home

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থান বার্ষিকীতে শোডাউন

প্রকাশিত :১৬.০৭.২০১৭, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে তুরস্কে ব্যাপক শোডাউন হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রোসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সমাবেশে যোগ দিতে শনিবার লাখো মানুষ ইস্তাম্বুলে জড়ো হন।
তারা মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখর করে তোলে বসফরাস ব্রিজ, যেটি গতবছরের ১৫ জুলাই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরে বদলে হয়েছে ‘শহীদ ব্রিজ’।
ঠিক এক বছর পরের দিনটিতে সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে গলা ধরে আসে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের, হয়ে পড়েন আপ্লুত।
জনতার উদ্দেশে এরদোগান দিনটিকে স্মরণ করে বলেন, ‘এ বিজয় সবার। সেই রাতে মানুষের হাতে অস্ত্র ছিল না। কিন্তু তাদের কাছে দেশের পতাকা ছিল। আর গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটি ছিল তা হল বিশ্বাস!’
তিনি বলেন, ‘দেশরক্ষায় আমি আমার দেশের মানুষদের নিয়ে গর্বিত।’
এরদোগান বলেন, ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থানে ২৫০ জন মারা গেছেন। কিন্তু তারা ভবিষ্যতের তুরস্ককে বিজয়ী করে গেছেন।’
বক্তব্যের পর এরদোগান সেখানে ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উন্মোচন করেন।

উল্লেখ্য, গতবছরের ১৫ জুলাই সেনাবাহিনীর বিপথগামী একাংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। এতে বেসামরিক অনেকেই জড়িয়ে পড়েন।
অভ্যুত্থান প্রতিরোধ করতে গিয়ে অন্তত ২৫০ জন নিহত ও ২ হাজার ১৯৬ জন আহত হন। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সমর্থকেরা বিদ্রোহী সেনা সদস্যদের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আয়ত্ত্বে আনতে সমর্থ হন। সেদিন রাজপথে নেমে তারা সংগঠিত হয়ে বিদ্রোহী সেনাদের ট্যাঙ্ক আটকে দেয়।
এই অভ্যুত্থান চেষ্টায় বদলে যায় গোটা তুরস্কের রাজনৈতিক গতিপথ। ফিরিয়ে আনা হয় রহিত মৃত্যুদণ্ড।
অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে বিচার করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট আরো ক্ষমতাশালী হয়ে তুরস্কবাসীর কাছে সুলতান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র ও ঐক্যের দিন’ ঘোষণা দিয়ে তুরস্কে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন তুরস্কের মানুষ।