jabi

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনে চার শিক্ষার্থী

প্রকাশিত :১৬.০৭.২০১৭, ১:৩৪ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশন করেছেন চারজন শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ রোববার দুপুরে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত অনশনকারী শিক্ষার্থী ছিলেন তিনজন। তারা হলেন ইংরেজি বিভাগের ৪২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সরদার জাহিদুল ইসলাম, একই বিভাগের তাহমিনা জাহান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪০ তম ব্যাচের পূজা বিশ্বাস। আজ সকাল ১০টার দিকে অনশনে যোগ দেন আইন ও বিচার বিভাগের ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী খান মুনতাসির আরমান। এদের মধ্যে জাহিদুল ও পূজার নামে মামলা রয়েছে। অন্য দুজনের বিরুদ্ধে মামলা নেই।

অনশনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল দুপুর দুইটায় শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রথমে অনশন শুরু করেন জাহিদুল। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তার সঙ্গে অনশনে যোগ দেন পূজা। রাত ১০টার দিকে যোগ দেন তাহমিনা।

জানতে চাইলে পূজা বলেন, অনশনের বিষয়ে আগে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু জাহিদ মানসিকভাবে মামলার চাপ নিতে পারছিলেন না। পড়াশোনা করতে পারছিলেন না। তাই হঠাৎ করেই তিনি অনশন শুরু করেন। পরে এই অনশনে তিনিও (পূজা) যোগ দেন।

তাহমিনা বলেন, মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তিনি অনশন শুরু করেছেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন।

জাহিদুল বলেন, প্রশাসনের করা ‘হয়রানিমূলক’ মামলায় তার জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। আগস্ট থেকে বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা। কিন্তু পড়াশোনা করতে পারছেন না। আর প্রতিদিন আন্দোলন করাও সম্ভব নয়। উপাচার্য মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি না দেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।

সকালে শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, অনশনকারীরা শুয়ে আছেন। বন্ধু-সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলছেন। রোদের কারণে শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে ফোন করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

প্রক্টর তপন কুমার সাহা বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছে।

উপাচার্যের একান্ত সচিব (সহকারী রেজিস্ট্রার) মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, আজ বেলা একটায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা হবে।

গত ২৬ মে ভোরে ক্যাম্পাস-সংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এই দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, ঘাতক চালকের শাস্তি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে পরদিন ২৭ মে বেলা পৌনে ১১টা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই ৩১ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করে প্রশাসন। শিক্ষকদের একটি অংশ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।