Shariatpur-nodi-vangon

নদী ভাঙ্গনে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে ক্ষতিগ্রস্তরা

প্রকাশিত :১৭.০৭.২০১৭, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : পদ্মা-মেঘনাবেষ্টিত শরীয়তপুর জেলায় প্রতি বছর দেখা দেয় নদী ভাঙ্গন। তবে এ বছর ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পদ্মা পারের হাজার হাজার মানুষ।

প্রতিনিয়ত এ ভাঙ্গনে শরীয়তপুর জেলা মানচিত্রের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে প্রতিবছর গৃহহীন-ভূমিহীন হয়ে অতি দরিদ্র কোঠায় ঠায় নিচ্ছে শতশত পরিবারের হাজার হাজার মানুষ। এলাকার ভিটেবাড়ি, গবাদি পশু ও কৃষিজমিসহ সর্বস্ব হারিয়ে বার্ষিক ভাড়াভিত্তিতে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে এসব হতভাগ্যরা।

পদ্মা নদীর তীরে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ি বাধ নির্মাণ করা জরুরি বলে মনে করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীর তীর সংরক্ষণ এখন শরীয়তপুর জেলাবাসীর প্রাণের দাবি।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, নড়িয়া উজেলারর সুরেশ্বর, ঈশ্বরকাঠি এলাকাসহ ৩টি গ্রাম পদ্মানদীর ভাঙ্গনে ভিটে বাড়ি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে কয়েক হাজার পরিবার। তেমন কোন সহযোগীতা পাচ্ছে না তারা।

প্রতিদিনই ভাঙ্গছে নতুন নতুন এলাকা গৃহহীন হচ্ছে পদ্মার পারের মানুষ। আশ্রয় না মিলার কারণে খোলা আকাশের নিচে ও অন্যের আশ্রয় হয়ে বাস করতে হচ্ছে গৃহহারা মানুষের। ভাঙ্গন অব্যহত থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে জাজিরার কুন্ডের চরের মানুষ।

কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙ্গনে ঈশ্বরকাঠি, সুরেশ্বর ও কুন্ডেরচরের প্রায় ২ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে গেছে। এ জন্য কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আরো সরকারী বেসরকারী স্থাপনা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

ভাঙ্গনের শিকার হয়ে গৃহহীন হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য দিকবিদিক ছোটা ছোটি করছে আশ্রয়ের সন্ধানে। আশেপাশের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, পাকাস্থাপনা, ফসলী জমি হুমকির মুখে রয়েছে। কোন যানবাহন না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ তাদের ঘরের আসবাব ও প্রয়োজনীয় জিনিস সরাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

অনেকে শ্রমিকের অভাবে পাকা ও আধাপাকা ঘর সরাতে পারছে না। তারা সেগুলো ফেলে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বসতি বাড়ি ফেলে যাওয়ার সময় অনেক নারী-পুরুষকে অঝোর ধারায় কান্না করতে দেখা গেছে। ভাঙ্গন কবলিতদের সহযোগীতার আশ্বাস দিলেন প্রশাসন।

ভাঙ্গন থেকে রক্ষার দাবিতে পদ্মার পাড়ে মানববন্ধন করছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংঠন।