vokta_112872

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর : অভিযোগ ও প্রতিকার

প্রকাশিত :০৪.০৮.২০১৭, ২:৩০ অপরাহ্ণ

 আজাদ সিরাজী:  অতিরিক্ত দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রনের জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত কর্মসূচী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।

কোন দ্রব্যের দাম বেশী রাখলে ক্রেতা প্রমাণসহ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর প্রদত্ত ওয়েবসাইটে অভিযোগ করে উপযুক্ত বিচার পাচ্ছেন বলে অনেক ভুক্তভোগী ক্রেতার অভিমত।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত বিক্রেতাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর।

অভিযোগকারীগণ পুরস্কার হিসেবে পাচ্ছেন জরিমানাকৃত অর্থের ২৫% অর্থ।

অভিযোগ-১:

রাজধানীর সিটি ইউনিভার্সিটির সহকারী মানব সম্পদ কর্মকর্তা আমবারিন খান জানাচ্ছেন,

আমি একদিন স্বনামধন্য রেস্টুরেন্ট এ খেতে গিয়েছিলাম। অনেক কিছুর সাথে ৫০০ মিলি মাম পানিও নিয়েছিলাম, বিল দেওয়ার সময় তারা ১৫ টাকার পানি ২০ টাকা রাখেন।

কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করায় উগ্রস্বরে উত্তর আসে। তাদের ওই ব্যবহার আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। আমি বিলের কপি নিয়ে চলে আসি এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার এ অভিযোগ জানাই।

১০ দিনের মাথায় আমার অভিযোগের রিপ্লাই আসে এবং আমাকে শুনানীর জন্য ডাকা হয়।’

শুনানীতে আমবারিনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইনের এর ৪০ নং ধারা অনুযায়ী ৫০,০০০/- টাকা জরিমানা হয় অভিযুক্ত রেস্টুরেন্টকে।

পরে, রেস্টুরেন্টের পক্ষ থেকে প্রত্তাহার করে করে নিতে অনুরোধও করা হয় আমবারিনকে।
অবশেষে বিভিন্ন দিক বিচেনায় জরিমানা মাফ করে তা ৫,০০০/- টাকা ধার্য করা হয়।

৪০ নং ধারার নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগকারী হিসেবে আমবারিন পান ১,২৫০ টাকা।
এটা মোট জরিমানাকৃত অর্থের ২৫% ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

 আমবারিন খানের প্রাপ্ত পুরস্কার

অভিযোগ-২:

মীরপুরের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয় এক দোকানে ২ লিটার কোকাকোলার দাম রাখেন ১২০ টাকা। কিন্তু বাসায় নিয়ে গিয়ে দেখেন বোতলের গায়ে ১০০ টাকা দাম লেখা।

পরে, এটা নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর প্রদত্ত ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানালে ১২ দিনের মাথায় শুনানীর জন্য ডাকে।

শুনানীতে দোকানদার ফেঁসে গেলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর ২৫% পুরস্কার হিসেবে আমিরুল ইসলামকে দেওয়া হয়।

এই বিভাগের আরো খবর: স্টুডেন্ট ভাড়া নিচ্ছে না রাজধানীর অনেক বাস 

অভিযোগ-৩:

হাসান জাহিদ নামক এক ভুক্তভোগী জানান, এবছর মার্চে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত রিয়া কমপ্লেক্স থেকে জাওমি এমআই ৫ এর একটি ফোন কেনেন।

ফোনে ব্যাক বাটোনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তিনি ওয়ারেন্টি কার্ডসহ ফোন সারাতে নিয়ে গেলে দোকানদার টালবাহানা করে।

পরে, ‌জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রদত্ত ওয়েবসাইটে  অভিযোগ করেন তিনি। ৪০ নং ধারার অনুসারে তিনিও সুবিচার পেয়েছেন বলে

অভিযোগ করবেন কীভাবে?

অভিযোগ দাখিল করার জন্য অবশ্যই ক্রয়কৃত পণ্যের রশিদ লাগবে। আপনি যে প্রতারিত হয়েছেন, তার যথেষ্ট প্রমাণাদিও দাখিল করতে হবে আপনাকে।

জন্য বিল বেশি রাখার রিসিট লাগবে। প্রমানাদি প্রস্তুত করে নিমোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করুন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর  প্রদত্ত ওয়েবসাইটে  অভিযোগ করার জন্য।

  • ১. জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ওয়েবসাইট (www.dncrp.gov.bd) এ যান ।
    ২. ওয়েবসাইটের নীচের সারিতে, ডানের কলামে ‌’বিবিধ’ অংশতে গিয়ে ‌’অভিযোগ ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন এবং স্বহস্তে পূরন করুন।
  • ৩. এবার ওয়েবসাইটের দ্বিতীয় সারির ডানের কলামে ‌’জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র’ অথবা ওপরে খবর অংশে এই অংশে প্রদত্ত ই-মেইল: [email protected] এ আপনার প্রস্তুতকৃত প্রমানাদি, ক্রয়-রশিদ, ও অভিযোগ ফর্মের স্ক্যানকপি সাবমিট করুন।
  • ৪. প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য ও খানে প্রদত্ত মোবাইল: ০১৭৭৭-৭৫৩৬৬৮ এ যোগাযোগ করুন।

অভিযোগ করতে হলে বিল পাওয়ার এক মাসের মধ্যে করতে হবে।
আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে নিম্নোক্ত ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর: অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি