অতিথির সাথে তিভ নারী

স্ত্রী সম্ভোগে অতিথি বরণ রীতি যে দেশের

প্রকাশিত :০৫.০৮.২০১৭, ৪:০৫ অপরাহ্ণ

আজাদ সিরাজী : অতিথি বরণ সভ্যতার পরিচায়ক। কোন দেশ বা কোন জাতি তাদের অতিথি বরণ করতে কতটা উদার, কতটা স্মার্ট তার ওপর সেই্ দেশ বা জাতির সভ্যতা নির্ণয় করা হয়।

তাই বলে নিজ স্ত্রীকে দিয়ে অতিথি বরণ ? হ্যা, এমনটিই করা হয় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াতে।

দেশটির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ বেনিউতে তিভ উপজাতির বসবাস। তিভ পুরুষদের বিশ্বাস, আগন্তক অতিথিরা হলেন দেবতা ।

অর্থাৎ, দেবতারা অতিথিদের বেশে তাদের এলাকা সফর করে।

তিভদের নিকট অতিথি বরণ মানেই হলো দেবতাকে বরণ।  এজন্য অতিথি বরণ করতে তাদের আয়োজনের জুড়ি নেই।

তাদের এলাকায় নতুন কোন অতিথি গেলেই আনন্দের রোল পড়ে যায়। রেরে শব্দ করে চেঁচাতে থাকে। আনন্দ প্রকাশ করতে থাকে।

আয়োজন করে নাচ গান, বাদ্য বাজনা। সে কী এক উৎসব!

অতিথি বরণ

অতিথি বরণ উপলক্ষে তিভদের নাচগান

 

অতিথি বরণ করার জন্য রান্না করা হয় বিশেষ খাবার। অতিথির খাওয়া একেবারে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা খায় না।

অতিথির খাওয়া শেষে যতটুকু থাকে, ততটুকুকে আশির্বাদ মনে করে আনন্দ সহকারে খায় তারা।

শুধু এটুকুই নয়। আগন্তক অতিথির জন্য আলাদা ঘর দেওয়া হয় থাকার জন্য ।

আর সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় হলো, রাতের অতিথি বরণ সম্পন্ন হয় বাড়িওয়ালার স্ত্রীকে অতিথির ঘরে থাকতে দিয়ে।

তিভ জনগোষ্ঠীর অতিথি বরণ করার এই সংস্কৃতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হয়েছে অনেক।

এর পক্ষে বিপক্ষে যুক্তির্তকও রয়েছে প্রচুর।

সমাজবিজ্ঞানীরাও এ বিষয়টিকে নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ।

ম্যাক্স ওয়েবারিয়ান সমাজ বিজ্ঞানীরা তিভ সংস্কৃতির এই অনুসঙ্গটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা এটাকে ‌’উদারতার প্রতীক’ বলে অভিহীত করছেন।

ফেমিনিস্টদের অধিকাংশই অবশ্য এ ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিভ পুরুষদের অতিথি বরণ করার এই সংস্কৃতিকে ‌’নারীদের পণ্য হিসেবে দেখার মানসিকতার প্রতীক’ হিসেবে গণ্য করেন।

এই বিভাগের আরো পড়ুন: পদ্মাসেতুতে কেন এতো খরচ?

ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ দাবি করেন, তিভ জণগোষ্ঠীর এই অতিথি বরণ সংস্কৃতি বেশী পুরোনো নয়।

বরং চতুর্দশ শতকে যখন সাদা চামরার  ইউরোপীয়রা আসে তখন থেকেই জন্ম নেয় এই সংস্কৃতির । নাইজেরীয় ঐতিহাসিক ‘বালা উসমান’ বলেন

তিভদের বসবাস ভূমি বেনিউতে ‌আদিকাল থেকেই ‌‍’বাঙ্গো’ নামক এক সুস্বাদু মিষ্টি আলুর চাষ হয়।

ইউরোপীয়রা আসার আগে এই আলুর খবর বহির্বিশ্বে তেমন প্রচলিত ছিল না। এর কদরও ছিল কেবল তিভদের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

পর্তুগীজ, ডাচ এবং ব্রিটিশ বণিকেরা আসলে এ এলাকায় ‘বাঙ্গো’ আলুর প্রেমে পরে যায় তারা। মোটা দামে ‌’বাঙ্গো’ কিনে ইউরোপ-এশিয়ায় ব্যবসা করতে থাকে তারা।

ফলে, তিভদের ভাগ্যের চাকা খুলে যায়। ইউরোপীয় বণিকদেরকে তারা ঈশ্বরের অবতার হিসেবে অভিহীত করে । তাদের আগমণকে আশির্বাদ হিসেবে উদযান করে।

সেই থেকে অতিথি বরণ তাদের কাছে এতো পূণ্যময় অনুষ্ঠান। আর নিজ স্ত্রীকে অতিথির সাথে রাত্রিযাপন করতে দেয়া, তাদের এ অনুষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অনুসঙ্গ।