child22

বই, টিভি থেকে ইন্টারনেটেই বেশি আগ্রহী শিশু-কিশোররা!

প্রকাশিত :০৮.০৮.২০১৭, ৩:০৪ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক: গত বছর যুক্তরাজ্যের একটি বার্ষিক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, টিভির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে শিশু-কিশোরেরা। এমনকি বইও আর টানছে না তাদের। ঝোঁকটা এখন ইন্টারনেটের দিকেই বেশি। ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোরেরা অনলাইনে প্রতিদিন গড়ে তিন ঘণ্টা করে সময় কাটাচ্ছে। ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরেরা কাটাচ্ছে গড়ে পাঁচ ঘণ্টা।

বই পড়ার অভ্যাসও আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে। পাঁচ বছর আগেও শিশু-কিশোরেরা যেখানে দৈনিক গড়ে এক ঘণ্টা বই পড়ত, এখন তা নেমে এসেছে আধা ঘণ্টায়!

যুক্তরাজ্যের ‘চিলড্রেন কমিশনার’ অ্যান লংফিল্ড বরাবরই শিশু অধিকার, তাদের ভবিষ্যৎ এবং সুরক্ষা নিয়ে সোচ্চার। গত বছর সেই জরিপের পরিপ্রেক্ষিতে এবার তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের। লংফিল্ডের মতে, এসব প্রতিষ্ঠান অনলাইনে শিশুদের মনোযোগ কাড়তে নিত্যনতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করছে। বাবা-মায়েদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, শিশু-কিশোরেরা যেন শৈশবের মূল্যবান সময় অনলাইনে নষ্ট করতে না পারে। এ ক্ষেত্রে বাবা-মাকে আরও কঠোর ও সতর্ক হতে হবে।

অবজারভারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লংফিল্ড সোজাসাপ্টা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে শিশু-কিশোরেরা অনেকটাই ‌‘জাঙ্ক ফুড’ খাওয়ার মতো সময় অপচয় করছে।

শিশু-কিশোরদের মূল্যবান শৈশবের সময় অপচয় রোধে ইতিমধ্যেই প্রচারণা শুরু করেছেন লংফিল্ড। কচিকাঁচাদের বাবা-মাকে তাঁর পরামর্শ, ‘আপনারা সন্তানের খাদ্যাভ্যাস যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন, সেভাবে তাদের অনলাইনে থাকাও নিয়ন্ত্রণ করুন।’ যুক্তরাজ্যের এ চিলড্রেন কমিশনারের ভাষ্য, ‘এটা এমন একটা ব্যাপার, যা বিশেষ করে সন্তানের ছুটির দিনে প্রত্যেক বাবা-মাকেই ভাবিয়ে তুলবে। সামাজিক মাধ্যম শিশুদের কাছে মিষ্টান্নবিশেষ, যা তাদের জন্য বিপজ্জনক এবং অনলাইনে তাদের সময় কাটানো জাঙ্ক ফুড খাওয়ার মতোই। শিশুরা সব সময় জাঙ্ক ফুড খাক, তা বাবা-মা হিসেবে আমরা কেউই চাই না। ঠিক একইভাবে অনলাইনেও তারা সব সময় থাকুক, সেটাও চাওয়া উচিত নয়।’

লংফিল্ড শিশুদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে অনলাইনের যে উদাহরণ টেনেছেন, তার ব্যাখ্যাও করেন, ‘ফোন, সামাজিক মাধ্যম, গেমস আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, ক্লান্ত এবং নিয়ন্ত্রণহীন করে তোলে। যার অর্থ হলো ভারসাম্যটা ঠিক নেই। একইভাবে বেশি খেলে আপনি ভালো বোধ করবেন না। সামাজিক মাধ্যমের ব্যাপারটাও ঠিক একই রকম।’

সামাজিক মাধ্যম এবং অনলাইন ব্যবহারে শিশুদের সঠিক পরামর্শ এবং সাহায্য করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। শিশুরা বুঝতে পারে না যে বিভিন্ন ধরনের সাইট তাদের অন্য কোনো গেমসে কিংবা অ্যাপসে ক্লিক করতে উৎসাহ জোগায়। ফেসবুকে এ ধরনের সাইটের সংখ্যা অনেক বেশি।

স্ন্যাপচ্যাট ফিচারের উদাহরণ টেনেছেন তিনি। ‘স্ন্যাপস্ট্রিক’ নামে পরিচিত এ ফিচার শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন লংফিল্ড। এ ফিচারে টানা তিন দিন ছবি শেয়ার করলে একটি ‘স্ট্রিক’ তৈরি হয়, তবে মাঝে এক দিন বাদ দিলে ছবিগুলো আর থাকে না। যে কারণে শিশু-কিশোরেরা ধারাবাহিকভাবে এ ফিচারে থাকতে চায়। সেটি তাদের আরও বেশি করে টেনে আনে ইন্টারনেটে।

শিশু-কিশোরদের অনলাইনমুখী জীবন এড়াতে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলোর প্রতি লংফিল্ডের আহ্বান, ‘অনলাইনকে শিশুদের জন্য নিরাপদ এবং শিক্ষণীয় করার ভূমিকা নিতে হবে ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমকে। তারা যেন আসক্ত হয়ে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এটা যেমন ক্লান্তিকর, তেমনি ধ্বংসাত্মক।’ বিবিসি, গার্ডিয়ান।