Dhaka_University_logo.svg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কবিগুরুকে ডি. লিট প্রদান ও বিতর্ক

প্রকাশিত :০৯.০৮.২০১৭, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

আজাদ সিরাজী:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  প্রতিষ্ঠায় কবিগুরুর  ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে বিতর্ক বহু পূরোনো।

সেই যুক্তি থেকে আগ বাড়িয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবিগুরুর ডি. লিট সার্টিফিকেট প্রদান অনুচিত হয়েছে।

ঐতিহাসিকদের অপরপক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কবিগুরু কখনোই বিরোধীতা করেন নাই। তিনি শুধু বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করেছেন।

কেউ কেউ দাবি করে বসেন, কবিগুরু নাকি পূর্ববাংলায় শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নের জন্য ইংরেজ সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে করে ঢাকাবাসী নতুন প্রদেশ না দাবি করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়  কবিগুরুর ভুমিকা যাই থাকুক, তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পুরুস্কৃত করা হয়েছে। সম্মানসূচক ডক্টোরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। এটা চিরায়ত সত্য ঘটনা।

কোন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি.লিট প্রদান করল, আর এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য কতটা উচিত হলো আমি সেটা নিয়ে আলোচনা করবো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবিগুরুর ডি.লিট প্রদান অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৬ সালের ২৯ জুলাই ।

সেটা ছিল ঢাবির ১৩ তম সমাবর্তন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আরো পড়ুন: ভোগান্তির নাম রেজিস্টার বিল্ডিং

সে আজ থেকে থেকে ৮১ বছর আগের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তখন কেবল সবেমাত্র বেড়ে ওঠা তরুণ।

রবীন্দ্রনাথ তখন নোবেলপ্রাপ্ত, জগদ্বিখ্যাত, বিশ্বকবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। ব্রিটিশ ভারতের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ সবার নিকট তিনি গুরুর আসনে আসীন।

এমতস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিগ্রি ডি.লিট (ডক্টর অব লিটারেচার) অভিধায় অভিহিত করল।

এই সমসামিয়ক পরিস্থিতি, এই কন্টেক্সট কবিগুরুকে ডি.লিট প্রদানের জন্য মোটেও অনুপোগী ছিল না।

এমত পরিস্থিতিতে কবিগুরুর মত একজন বিশ্ববিখ্যাত বিদ্বানকে ডি.লিট প্রদান বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালরেই মঙ্গল হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কবিগুরুর ভূমিকা কী ছিল, সেটা ঐতিহাসিক তর্ক। সে বিচার ইতিহাস করবে।

কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কবিগুরুকে ডি.লিট প্রদানের সিদ্ধান্ত কোন যুক্তিতেই অনুচিত ছিল না।

যদি ধরে নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিরোধীতা করেছিলেন কবিগুরু, তথাপিও তাঁকে ডি. লিট প্রদান সময়ের সঠিক কাজ ছিল বলে আমি মনে করি।

কারণ, এরকম পরিস্থিতিতে কবিগুরুকে ডি. লিট প্রদান করায় ঢাবিরই মহানূভবতা প্রকাশ পায়। অনন্য উচ্চতায় উঠে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবিগুরুর ডি. লিট প্রদানের ফলে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি বাড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির। বিভিন্ন বিশ্ব-গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় এ নিয়ে।

কবিগুরুও সন্তষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে বসে একটি কবিতাও লেখেন তিনি। ঢাবি ছাত্রচাত্রীদের উদ্দেশ্যে লেখা কবিতাটির নাম দিয়েছেন তিনি বাসন্তিকা।

ঢাবিতে বসে লেখা কবিগুরুর কবিতা

 

তথ্যসূত্র:
১. বাংলাপিডিয়ায় ড. শাহজাহান মিয়া রচিত University of Dhaka, ২০১২
২.সরদার ফজলুল করিম রচিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ব্ব বঙ্গীয় সমাজ।