কানতারা খান শিক্ষার্থীদের মাঝে বলছেন বঙ্গবন্ধুর গল্প
কানতারা খান শিক্ষার্থীদের মাঝে বলছেন বঙ্গবন্ধুর গল্প

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ গুলশানের একাডেমিয়ায়

প্রকাশিত :০৯.০৮.২০১৭, ৬:১৮ অপরাহ্ণ

সামিউল তারেক : ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কার্যক্রমের এবারের আয়োজন ছিল গুলশানের একাডেমিয়া ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ এর পরিচালক ও ‘আজ সারাবেলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কানতারা খান বলেন, আমরা সবচেয়ে ভালোবাসি কাকে? নিশ্চয়ই নিজেকে। নিজেকে যদি ভালোবাসি তবে নিজের সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। নিজেকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধুর কারণেই আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের স্বাধীন অস্তিত্ব নিয়ে সম্মানের সঙ্গে কাজ করে যেতে পারছি। তাই নিজেকে ভালোবাসার জায়গা থেকেই বঙ্গবন্ধুর মত মহান মানুষটিকে জানতে হবে, ধারণ করতে হবে চেতনায় ও অস্তিত্বে। কারণ বাঙালির সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব তিনি।

এরপর ১৯৪৮ থেকে ৭৫ পর্যন্ত এ মহানায়কের জীবনালেখ্য তিনি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের কাছে ইংরেজিতেই তুলে ধরেন। ৭৫ এর কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যে নৃশংসভাবে এ মহান মানুষটিকে হত্যা করা হয়েছে তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক বড় মনের মানুষ, যা ভাবা যায় না। যে দেশে আততায়ীরা তার বাবাকে হত্যা করেছে তিনি দিনরাত্রি দীর্ঘ বছর এ দেশের মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। বাবার মত এ দেশের মাটি আর মানুষকে তিনি ভালোবাসেন বলেই আমাদের সকলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তার সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় আজকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপ দিয়েছেন। যার সুবিধা পাচ্ছেন গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে শহুরে মানুষ পর্যন্ত।

প্রতিবারের মত এবারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মীর নূর আলী। ২ নম্বর সেক্টরে যিনি বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি কান্নার আবেগে ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, মানুষের জন্য, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। মঞ্চে দাঁড়াবার জন্য নয়। আমি এ মাটির সন্তান। তাই তিনি মঞ্চ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বসেন। প্রচারবিমুখ এ মহান মানুষটি কোন ছবি তুলতেও আপত্তি জানান। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে স্যালুট করে সম্মান জানায়।

অনুষ্ঠান শেষে ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষ থেকে একাডেমিয়া গুলশান ইনচার্জ প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ তুলে দেন কানতারা খান।

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এই কার্যক্রমের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নীলসাগর গ্রুপ ও নর্দান ইউনিভার্সিটি।