thief

নোয়াখালীতে গণপিটুনিতে নিহত ৪

প্রকাশিত :১০.০৮.২০১৭, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ‘গরুচোর’ সন্দেহে গণপিটুনিতে চারজন মারা গেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চরজুবলী ইউনিয়নের উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরের এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করে পিটুনি দেয় স্থানীয় লোকজন। পুলিশ তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গণপিটুনিতে ‘গরুচোর’ সন্দেহে চার ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুবর্ণচরের চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি বলেন, নিহত চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরের এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করে পিটুনি দেয় স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়ের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিজাম উদ্দিনের ভাষ্য, গতকাল রাত আড়াইটার দিকে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি চরজুবলীর উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামে ঢুকলে লোকজন চারদিক থেকে তাদের ঘেরাও করে। এ সময় পিকআপ থেকে নেমে তারা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাদের পিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়।

স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরেই সুবর্ণচরের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি বেড়ে গেছে। তিন দিন আগেও চরজুবলী থেকে সাতটি ও চরজব্বর এলাকা থেকে পাঁচটি গরু চুরি হয়। সংঘবদ্ধ চোরেরা পিকআপ ভ্যান নিয়ে রাতের অন্ধকারে এসে গরু চুরি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামে গ্রামে লোকজন পাহারা বসিয়েছে।

ওই শিক্ষক আরও জানান, গতকাল রাত আড়াইটার দিকে চরজুবলীর সোয়েটার ফ্যাক্টরিসংলগ্ন সোনাপুর-স্টিমারঘাট সড়ক থেকে একটি পিকআপ ভ্যানকে গ্রামে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে পাহারারত লোকজন অন্যদের ঘটনাটি জানিয়ে দেয়। তারা উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের জব্বর আলী পণ্ডিতের দোকানের সামনের কালভার্টের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয়। পিকআপ ভ্যানটি সেখানে গিয়ে আটকে যায়।

স্থানীয় সূত্র থেকে আরও জানা যায়, চারদিক থেকে লোকজন আসতে দেখে পিকআপে থাকা ব্যক্তিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ছয়জনের মধ্যে তিনজন পালিয়ে যায়। অন্য তিনজনকে উত্তেজিত জনতা ‘গরুচোর সন্দেহে’ গণপিটুনি দেয়। ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যায়। পরে ভোরের দিকে গ্রামের একটি ‘কাছারিঘরে’ লুকিয়ে থাকা আরও এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিলে সেও মারা যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরের এলাকা থেকে আরও অপরিচিত দুজনকে আটক করে চোর সন্দেহে পিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ক্ষুব্ধ লোকজন ওই একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুরের পর পুড়িয়ে দেয়।