সাপের

বন্যায় সাপের উপদ্রব ! রোধ করবেন কীভাবে?

প্রকাশিত :১৮.০৮.২০১৭, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

আজাদ সিরাজী : উত্তরবঙ্গসহ দেশের সিংহভাগ এলাকা আজ বন্যা আক্রান্ত। ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, মাঠ-ঘাট। সেই সাথে পশুপাখির আবাসও। স্থলচর বিষাক্ত গোখরার গর্তে পানি ঢোকায় বেড়িয়ে এসেছে লোকালয়ে। বানভাসী মানুষের দূ:খকষ্টে তাই নতুন মাত্রা যোগ করেছে সাপের উপ্রদব ।

দিনাজপুর, নীলফামারী, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ বেশকিছু যায়গায় সাপের কামড়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে ইতোমধ্যে ।

সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে কী করতে হবে, তার সঠিক করণীয় সম্পর্কে ওয়াকিব হাল নয় বেশীর ভাগ আক্রান্ত জনসাধারণ ।

সাপ কামড়ালে, পল্লী অধ্যুসিত বন্যা-আক্রান্ত মানুষের একমাত্র ভরসা ওঝাঁ। বিষহীন অথবা স্বল্পবিষযুক্ত সাপ কামড়ে দিলে ওঝাঁর ঝাড়ফুকেই ঠিক হয়ে যায়।

কিন্তু, বিষাক্ত সাপ কামড়ে দিলে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে।

গোটা দশেক ওঝাঁর ঝাড়-ফুক, দলনৃত্য, লোকগান এবং তাদের ভাষা অনুযায়ী ‌’শেষ চেষ্টা’ করেও যখন রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।

তখন ‘হায়াত ছিল না’ বা ‌’আল্লাহর জান আল্লাহ নিয়ে গেছে’ বলে বিলাপ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

অতএব, বন্যা আক্রান্ত এলাকায় সাপের উপদ্রব তাই একটি প্রাকৃতিক-সামাজিক ব্যাধি।

সাপের উপদ্রব প্রতিরোধে কী করতে হবে?

‌’কার্বলিক এসিড সাপের শত্রু । বাড়িঘরে- সাপের উপদ্রব আছে এমন যায়গায় কার্বলিক এসিড রাখলে সাপ আসবে না।’
জানালেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আবু বিন হাসান সুসান।

‌‌’পল্লী এলাকার বেশীর ভাগ মানুষ কার্বলিক এসিডের নামই জানে না, তারা এটা ব্যবহার করবে কীভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সুসান বলেন,

‌’আমাদের জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সাপের উপদ্রব আছে এমন যায়গায় যারা ত্রাণ দেন, তারাও যদি কার্বলিক এসিড সাথে নিয়ে যায়, জনগণকে এর ব্যবহার শেখায়, তাহলে অনেকগুলো প্রাণ বেঁচে যায়, মৃত্যুর হাত থেকে’

কার্বলিক এসিড ব্যবহার করবেন কীভাবে?

সাপের উপদ্রব রুখতে কার্বলিক এসিড বা এ জাতীয় রাসায়নিকের বিকল্প নেই ।

এজন্য, বন্যা কবলিত যায়গায় যেখানে সাপের উপদ্রব আছে, সেখানে, থাকার ঘরে, আশ্রয়কেন্দ্রে, বা গবাদিপশুর কক্ষে কার্বলিক এসিডের ছিপি খুলে রাখুন। সাপ আসবে না ।

কার্বলিক এসিড, কার্বক্সিলিক এসিড বা কার্বনিল এসিড পাওয়া না গেলে কার্বলিক সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাজারে, লাল রঙ্গের লাইফবয় সাবানে কার্বক্সিলিক এসিড থাকে। লাইফবয় সাবান কেটে টুকরো টুকরো করে ঘরের বিভিন্ন যায়গায় ছিটিয়ে রাখুন ।

কার্বলিক এসিডের গন্ধ পেলেই সাপ আর আসবে না।

লাইফ বয় সাবানও অপ্রতুল হলে সজনে পাতা ছিটিয়ে রাখুন ঘরের চারপাশে। সজনে পাতার গন্ধ পেলেও সাপ আসে না।

সাপের উপদ্রব আছে এমন যায়গায় আলো জ্বালিয়ে রাখলেও সাপ আসে না, সাধারণত । কোন উপায় না থাকলে নিদেন পক্ষে, হ্যারিকেন বা কুপি বাতিতে আলো জ্বালিয়ে রাখুন।

সাপ কামড়ে দিলে কী করবেন?

সাপ কামড়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গেই জানার চেষ্টা করুন, কী সাপ ওটা। জাত চেনার চেষ্ট করুন।

যদি, সাপটা বিষাক্ত হয় সাথে সাথেই আক্রমণের স্থান থেকে সরে আসুন । এরপর, নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন।

১. আক্রান্ত স্থান থেকে ওপরে শক্ত করে বেঁধে ফেলুন, যেন শরীরের সেই অংশের সাথে বাকী অংশের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

২. আক্রান্ত স্থান থেকে সাপের দাঁত তুরে ফেলুন, ব্লেড বা অন্য কিছু দিয়ে সেখানে সামান্ন কেটে রক্ত বের করে দিন, যেন বিষাক্ত রক্ত বের হয়ে চলে যায়।

৩. সম্ভব হলে আক্রান্ত স্থান থেকে চুষে রক্ত বের করুন। চুষলে, বা মুখে রক্ত লাগলে সমস্যা হবে না। কারন, বিষ মিশে থাকে রক্তের সাথে। যে ব্যক্তি চুষবে, তার সাথে সাথে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের যোগাযোগ হবে না।

৪. ওপরের পদক্ষেপগুলো প্রাথমিকভাবে অনুসরণ করার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন, যত দ্রুত সম্ভব।

সাপের উপদ্রব প্রতিরোধে দাতাসংস্থাগুলোর কর্তব্য:

দূর্যোগে সাড়াদানের মাধ্যমে (ডিজাস্টার রেসপন্স) জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা দাতা সংস্থাগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য।

এক্ষেত্রে, দাতাসংস্থাগুলো যদি পরস্পরের সাথে সমন্বয় করে (কম্প্রিহেনিসভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্রোচে), আক্রান্ত এলাকার গণমানুষের চাহিদা ও প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রান সরবরাহ করে, তবে দূর্যোগ মোকাবেলায় তাদের উদ্দেশ্য কার্যকরভাবে সফল হয়।

সেই হিসেবে, সাপের উপদ্রব আছে এমন এলাকা চিহ্ণিত করে সেসব এলাকায় ত্রান সরবরাহের সময় কার্বলিক এসিডও প্রদান করা।

কার্বলিক এসিড জাতীয় বস্তু কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে নিরাপদে রাখতে হবে সে সম্পর্কেও তথ্য সরবরাহ করা তাদের অন্যতম কর্তব্য।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে পারেন। সেক্ষেত্রে, আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে সকলকে।

‘ওঝাঁর ফুকে সাপের বিষ নামে না’ এ নির্মম সত্যটাকে বোঝাতে হবে সকলকে। এ দায় আমাদের সকলের। যে বোঝে তার।