রবিউল আলম। সভাপতি, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি
রবিউল আলম। সভাপতি, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি

২৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করা সম্ভব: রবিউল আলম (সভাপতি, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি)

প্রকাশিত :২১.০৮.২০১৭, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
  • কোরবানি আসন্ন। বন্যা কোরবানিতে বড় কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না- বললেন বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, রবিউল আলম। গরুর হাট, ভারতীয় গরু, ইজারাদারদের অনিয়ম-দুর্নীতি, মাংসের বাজার দর প্রায় সব প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রবিউল ইসলাম রবি

আজ সারাবেলা: বন্যা পরিস্থিতি এবারে কোরবানিতে কতটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন?

রবিউল আলম: প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে, ১ কোটি ১০ থেকে ১৫ লক্ষ গবাদিপশু রয়েছে সংরক্ষণে যা কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত। আমরা প্রথমবারের মত বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে ভারতীয় গরু আমদানির বিরোধিতা করেছি। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট মিলনায়তনে গত ১৮ আগস্ট সাংবাদিক সম্মেলনে এক কথা বলেছি। ভারতীয় গরুর কারণে আমাদের গরুর বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হয়ত আমরা কিছু কম দামে মাংস খেতে পারব, কিন্তু সেটা সাময়িক সমাধান। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সবসময় সুযোগ নিতে চায়। বাংলাদেশকে তাদের বাজার মনে করে, মুনাফা করে। যখন চাহিদা বেশি থাকে তখন তারা টেক্স বাড়িয়ে দেয়। এটা সকল পণ্যের ক্ষেত্রেই ঘটে।

আজ সারাবেলা: কিন্তু বাংলাদেশে যে পশুপালন বা পশুর বাজার সেটা কি চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত?

রবিউল আলম: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাংস ও দুধের চাহিদা পূরণে পশুপালনে ২শ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। ভারতীয়রা বাংলাদেশে পশু পাচার করে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছে, তার বিপরীতে এই বাজারকে মোকাবেলা করতে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন। তার পরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি কাজটি শুরু করার জন্য। এই ৬০ হাজার কোটি টাকা পাচার রোধ করতে হলে আমাদেরকে কৃষি খাতে পশুপালন উন্নয়নে ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পশুপালনে আমাদের মাটি, পানি, পরিবেশ, আবহাওয়া সবই উপযোগী। সঠিকভাবে পশুপালন করতে পারলে প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশেও পশু রপ্তানি করতে পারব।
পশুপালনের প্রযুক্তি ভারত থেকে চায়না থেকে আনতে হবে না। পশুপালনে মাত্র এক বছর সময়ই যথেষ্ট। এ জ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্য আমার দেশের কৃষকই যথেষ্ট। পরিকল্পনার অভাবে আমাদের পশুপালন ব্যাহত হচ্ছে। পশুর বর্জ্য ও চামড়া রপ্তানিতে আমরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছি, খুব সহজেই প্রথম অবস্থানে আসা সম্ভব।

আজ সারাবেলা: প্রতিবছর কোরবানির হাট নিয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপ্রতিকর ঘটনার কথা শোনা যায়। এটা রোধ করা যায় কিভাবে?

রবিউল আলম: পশুর হাট ইজারা নিয়ে শুধু চাঁদাবাজি কেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডও ঘটে। এটা সাধারণ মানুষের উপর রীতিমত জুলম অত্যাচার। আমি ঢাকা উত্তর সিটি করপোশনে ৬শ থেকে ৭শ অভিযোগ দায়ের করেছি। কাগজপত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কথা বলা হলেও কার্যত কোন ফলাফল দেখতে পাওয়া যায় না। আমি ইতিমধ্যে হাইকোর্টেও রিট আবেদন করেছি। সেটির এখনও শুনানি হয়নি। প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমি মনে করি র‌্যাব, পুলিশের ম্যাজেস্ট্রির ক্ষমতা থাকতে হবে যাতে করে তাৎক্ষণিক বিচার করতে পারে। ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।

আজ সারাবেলা: আপনি বলেছেন গরুর মাংসের দাম কমিয়ে আনা সম্ভব, সেটা কিভাবে?

রবিউল আলম: অবৈধ পথে গরু আনতে গিয়ে সীমান্তে গরুপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়। গাবতলী পর্যন্ত আসতে পথে বিভিন্ন পয়েন্টে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার চাঁদাবাজিও রয়েছে। গাবতলীর ইজারাদার ১০০ টাকার খাজনা নিচ্ছে ৫ হাজার টাকা। আমরা যদি এ বিষয়গুলো রোধ করতে পারতাম তাহলে ২৫০ টাকা কেজিপ্রতি গরুর মাংস বিক্রি করা সম্ভব হতো। গত পনের মাস ধরে এ বিষয় নিয়ে আমি বলে যাচ্ছি। সরকারের এ কোন সংশ্লিষ্ট বিভাগ নেই যেখানে আমার কথা পৌঁছায়নি। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না। এ বিষয়ে যিনি বিশেষ সহযোগিতা করতে পারেন তিনি ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন আছেন। তার সুস্থ্যতা কামনা করছি।

আজ সারাবেলা: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

রবিউল আলম: আপনাকেও।