Rahman11

পলিপতনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে: ড. মো. মিজানুর রহমান

প্রকাশিত :২১.০৮.২০১৭, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
  • উত্তরপশ্চিমে পঞ্চগড়-দিনাজপুর ও উত্তরপূর্বের সিলেট-সুনামগঞ্জের সবগুলো নদনদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। বাড়ছে দেশের মধ্যাঞ্চলে। উত্তরের পানি নেমে আসতে থাকলেও লোয়ার মেঘনায় চলমান ভরাকটাল সৃষ্টি হলে ডুবে যাবে মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, শরিয়তপুর, মুন্সিগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। নদীভাঙন ও উপচেপড়া পানিতে প্রচুর সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে পদ্মার দুই তীরে। এমন কী, পদ্মার শাখা-উপশাখায় পলিপতনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে- এমন আশঙ্কার কথা জানালেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অ্যাডজাঙ্ক্ট ফ্যাকাল্টি ড. মো. মিজানুর রহমান।

 

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আজাদ সিরাজী

আজ সারাবেলা : বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু বলুন। সর্বশেষ তথ্যমতে কোথায় পানি কমছে, কোথায় বাড়ছে?

ড. মো. মিজানুর রহমান: বাংলাদেশে এবারের বন্যা সৃষ্টি হয়েছে সিকিম পার্বত্য অঞ্চলের মহানন্দা-তিস্তা-ধরলা, আসামের ব্রহ্মাপুত্র এবং মেঘালয়ের পাহাড়ি নদীসমূহ যেগুলো কংশ এবং সুরমাতে পতিত। উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, দিনাজপুর, নীলফামারি, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সবচাইতে বন্যা আক্রান্ত ছিল। এসব জেলার বন্যা পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। কিন্তু পানি নিচে নেমে গিয়ে এখন গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, শরিয়তপুর, মাদারীপুর জেলায় এখন বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে, সুরমা-কুশিয়ারার পানি উজানে কমলেও ভাটিতে মেঘনা এখন বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, সে সঙ্গে নরসিংদী ও চাঁদপুর জেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে আছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের পানি বিপদসীমার নিচে চলে এসেছে।

আজ সারাবেলা : উত্তরবঙ্গে আবারও কি পানি বাড়তে পারে বলে মনে করেন?

ড. মো. মিজানুর রহমান : পঞ্চগড়-দিনাজপুরে পানি বাড়বে না। ওখানে, ইতোমধ্যে পানি বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে। কুড়িগ্রামেও পানি কমতে শুরু করেছে। আপাতত, বৃষ্টিপাত খুব কম গড়ে ২০ মিমি: এর মত। ফলে, এ সপ্তাহে উত্তরবঙ্গের বন্যা বাড়ার সম্ভাবনা নেই। আগস্টের শেষের দিকে কিছু বৃষ্টিপাত হতে পারে ওদিকে। তখন কিছুটা বাড়তে পারে পানি। ততদিনে মধ্যাঞ্চলের পানি অনেক কমে যাবে।
উত্তরের পানি নেমে আশায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁতে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফারাক্কায় স্লুইস গেট খোলা থাকায় আর মহানন্দার পানি পদ্মায় প্রবেশ করায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জেও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাটোরে অমাবশ্যার পরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কত দ্রুত হবে তা এখন বলা যাচ্ছে না।

আজ সারাবেলা : সিলেটে বন্যায় কি অবস্থা হতে পারে বলে মনে করেন?

ড. মো. মিজানুর রহমান : গত কয়েকদিন বৃষ্টিপাত কম থাকায় সিলেটেও অবস্থা উন্নতির দিকে। সিলেটের উত্তরে মেঘলয়ের চেরাপুঞ্জি এলাকা। এ এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় বেশি। এ মাসের শেষের দিকে বৃষ্টিপাত বাড়লে এখানকার পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হতে পারে।

আজ সারাবেলা : পদ্মা নদীতে বন্যার কি অবস্থা হবে যখন, উত্তরবঙ্গ আর সিলেটের পানি দুই দিক থেকে নেমে আসবে?

ড. মো. মিজানুর রহমান : এখন অমাবশ্যা মানে সাগরে ভরাকটাল। এসময় সাগরের জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। ভরাকটালের উত্তরবঙ্গ আর সিলেটের পানি দ্রুত নেমে যাবে। পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে, সেটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর। তবে, এ সপ্তাহ পদ্মা নদীর দুই কূলে মধ্যবাংলাদেশে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে এটা নিশ্চিত।
ইতোমধ্যে, মানিকগঞ্জে অনেক এলাকা ডুবে গেছে। রাজবাড়ি, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুর এলাকায় বন্যা হবে। সেইসাথে নদীভাঙন বৃদ্ধি পাবে।

আজ সারাবেলা : বন্যার কারণে কী কী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হতে পারে মধ্য-বাংলাদেশে?

ড. মো. মিজানুর রহমান : বাংলাদেশের এই অঞ্চলটা নরম পলিমাটি দ্বারা গঠিত। পদ্মা, মেঘনা এবং যমুনা নদী হলো ব্রেইডেড রিভার। আশপাশে অসংখ্য নদীনালা দ্বারা বেষ্টিত। এ বন্যায় নদীভাঙনের সম্ভাবনা থাকবে। এমন কি নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

আজ সারাবেলা : এবারের বন্যা কতটা দীর্ঘায়িত হতে পারে বাংলাদেশে?

ড. মো. মিজানুর রহমান : আসলে, বাংলাদেশের বন্যা ট্রান্স-বর্ডার নদ-নদীর অববাহিকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, সাগরের পানির উচ্চতা এবং দেশের সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধির উপর নির্ভর করে। সবগুলো যদি একই সাথে ঘটে তাহলে বন্যা মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।